আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ডাক সেবায় বাংলাদেশের অবনতি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের (ইউপিইউ) সমন্বিত উন্নয়ন সূচকের বার্ষিক র‌্যাংকিংয়ে আবারও ১১ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের অবস্থানও বাংলাদেশের ১০ ধাপ ওপরে।

 

অথচ ২০১৭ সালেও মিয়ানমার এই উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের ৪৮ ধাপ নিচে ছিল। সে সময় বাংলাদেশের র‌্যাংকিং ছিল ৭৮ আর মিয়ানমারের র‌্যাংকিং ছিল ১২৬। মাত্র চার বছর ব্যবধানে বাংলাদেশ ৫০ পয়েন্ট হারিয়ে এখন ১২৮ নম্বরে আর মিয়ানমার আরো ৮ পয়েন্ট অর্জন করে এখন ১১৮ নম্বরে।

 

ডাক বিভাগের ই-সেন্টার স্থাপনসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে এই হতাশাজনক খবর এই অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়।

 

কয়েক দিন আগে প্রকাশিত চলতি বছরের ইন্টিগ্রেটেড ইনডেক্স ফর পোস্টাল ডেভেলপমেন্ট (২ আইপিডি) রিপোর্টে ইউপিইউ সদস্যভুক্ত ১৭০টি দেশের মধ্যে ১৫.৮০ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অবস্থান নেমে গেছে ১২৮ নম্বরে।

 

প্রতিবেশী ভারত ৫৬.১৫ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে ৪১ নম্বরে। এ অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান ৬৭, মালয়েশিয়া ৩৬, শ্রীলঙ্কা ৮৬, মিয়ানমার ১১৮ ও নেপাল ১৩৮ নম্বরে অবস্থান করছে।

 

অন্যদিকে এবারও র‌্যাংকিংয়ে সেরা অবস্থানটি ধরে রেখেছে সুইজারল্যান্ড। সুইস ডাক বিভাগের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে ইউপিইউয়ের মহাপরিচালক বিশার এ হুসেন বলছিলেন, ‘তারা আন্তর্জাতিক ডাক খাতের বাকি অংশের জন্য একটি উজ্জ্বল বাতিঘর এবং উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতার দৃষ্টান্ত।’

 

 

সুইজারল্যান্ডর পরে সেরা দশের মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে অস্ট্রিয়া, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, জাপান, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও সিঙ্গাপুর। সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে আফ্রিকার দেশ মালি।

 

প্রতিবেদনে পাঁচটি দেশের ডাকসেবাকে আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দেশগুলো হচ্ছে সিঙ্গাপুর (দশম), পোল্যান্ড (১৩তম), ব্রাজিল (৪৫তম), তিউনিশিয়া (৪৬তম) ও ঘানা (৫৭তম)।

 

প্রতিবেদনে কভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতে ডাকসেবা প্রসঙ্গে বলা হয়, সর্বাধিক উন্নত ডাক অপারেটররা ই-বাণিজ্যের সাফল্যের ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল।

 

ধারাবাহিক অবনতি : ২ আইপিডি র‌্যাংকিংয়ে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ডাকসেবায় এ অঞ্চলের দেশগুলোর অবস্থান হচ্ছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ৭৮, ৮৪, ১১৭ ও ১২৮; ভারত ১৭, ২৩, ২৬ ও ৪১; মালয়েশিয়া ২৩, ২৫, ৩৩ ও ৩৬; পাকিস্তান ৯৪, ৭৫, ৬৯ ও ৬৭; মিয়ানমার ১২৬, ৯১, ১০০ ও ১১৮; শ্রীলঙ্কা ৮০, ৮৩, ৮৪ ও ৮৬ এবং নেপাল ১০২, ১৩১, ১২৫ ও ১৩৮ নম্বরে।

 

ডাকসেবায় বাংলাদেশের এ ধরনের অবস্থান সম্পর্কে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী গতকাল মঙ্গলবার প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘ইউপিইউ কিভাবে, কাদের কোন কোন তথ্যের ভিত্তিতে এ জরিপ করেছে তা আমাদের জানা নেই। এ ধরনের র‌্যাংকিংয়ের জন্য জরিপের স্বাভাবিক নিয়ম হচ্ছে জরিপকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছে তথ্য চেয়ে পাঠাবে; যেমনটা আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন বা আইটিইউ করছে। আইটিইউ তাদের একটি চলমান জরিপে আমাদের কাছে তথ্য চেয়েছে।’

 

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমি তো দেশে পোস্টাল সেবার অবনতি দেখি না, বরং উন্নতি দেখছি। ২০১৭ সালের দিকে ডাকঘরগুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয় ছিল। ঘরের চালা নেই, বসার জায়গা নেই—এমন অবস্থা ছিল। এখন সে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। ডাকঘরগুলোকে ডিজিটাইজেশন করা হচ্ছে।’