আজ ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রায়হান হত্যা ধামাচাপা দিতে নাটক সাজিয়েছিল পুলিশ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: সিলেটে হেফাজতে নির্যাতনে রায়হান আহমেদের (৩৩) মৃত্যুর ঘটনাটি শুরু থেকেই লুকাতে চেয়েছিল—পুলিশ। রায়হানকে ‘ছিনতাইকারী’ এবং ‘গণপিটুনি’তে তাঁর মৃত্যু হয়েছে পুলিশ এমন দাবিও করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে।

 

বরখাস্ত করা হয় ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজনকে। অথচ স্থানীয় পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন মূল হোতা আকবর। হঠাৎ তাঁর খোঁজ মিলছে না। অথচ মঙ্গলবারও আকবর নিজেদের হেফাজতে রয়েছে বলে দাবি করেছিল পুলিশ।

 

এদিকে এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রীর করা মামলার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গতকাল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি এবং নগরের কাষ্টঘর এলাকা পরিদর্শন করেছে তদন্তদল। এ ছাড়া রায়হানের লাশ ফের ময়নাতদন্তের আদেশ দিয়েছেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

 

শিগগিরই লাশ তুলে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ উজ জামান।অনুসন্ধানে জানা গেছে, বন্দরবাজার ফাঁড়িতে এনে এসআই আকবরের নেতৃত্বেই রায়হানের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

 

পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে নগরের কাষ্টঘর এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশিক এলাহী। এ সময় দুই কনস্টেবল রায়হানকে দুই দিক থেকে ধরে রাখেন।

 

আর এসআই আকবর নির্যাতন চালান। একপর্যায়ে রায়হানকে ফাঁড়িতে রেখেই বেরিয়ে যান আকবর, আশিকসহ নির্যাতনকারী পুলিশ সদস্যরা। এরপর ফাঁড়িতে ডিউটিতে থাকা এক কনস্টেবল ভোর ৬টার দিকে দেখতে পান রায়হানের নিথর দেহ পড়ে আছে।

 

তিনি আকবরকে বিষয়টি জানালে তাঁরা ফাঁড়িতে ফিরে আসেন। সকাল ৬টা ২২ মিনিটে একটি অটোরিকশা আসে বন্দর ফাঁড়ির সামনে। এর ঠিক ২ মিনিট পর ৬টা ২৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে দুই পুলিশের কাঁধে ভর করে রায়হানকে অটোরিকশায় তুলতে দেখা যায়।

 

এরপর তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখনও জীবিত ছিলেন রায়হান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।