আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

শিক্ষিকা সৎ মায়ের নির্মম নির্যাতনে তিথি এখন মানসিক ভারসাম্যহীন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ইসরাত জাহান তিথি (১৪)। সৎমায়ের নির্মম নির্যাতনে পুরো শরীরে দগদগে ঘা তিথির। এ অবস্থায় কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছে তিথি।

 

সে চান্দিনা পৌর এলাকাধীন রূপনগর আবাসিক এলাকার ভাড়াটিয়া অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জামাল হোসেনের শিশুকন্যা। সৎমা স্কুলশিক্ষিকা লাভলী আক্তার নির্মম নির্যাতন করার কারণে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে তিথি।

 

পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন নিয়ে শিশুটি ১০ দিন তার খালু শামসুল হক ভূঁইয়ার ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন ঘোষনগর গ্রামের বাড়িতে আশ্রিত ছিল। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) চান্দিনা উপজেলা সমাজসেবা অধিদফতরের হেফাজতে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

 

শিশুটির খালুসহ ঘোষনগর গ্রামের একাধিক ব্যক্তি জানান, দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য জামাল হোসেনের মেয়ে ইসরাত জাহান তিথি ওরফে মনি। পরিবারে স্ত্রী ছাড়াও রয়েছে আরেক পুত্রসন্তান।

 

২০১০ সালে জামাল হোসেন চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর চান্দিনা পৌর এলাকাধীন রূপনগর আবাসিক এলাকার ভাড়াটিয়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন।

 

ছয় বছর আগে স্ত্রী মারা গেলে অল্প সময়ের ব্যবধানে জামাল হোসেন লাভলী আক্তার নামের এক স্কুলশিক্ষিকাকে বিয়ে করেন। তিনি দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের প্রেমু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

 

স্ত্রী মারা যাওয়ার পর জামাল তার এক মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আগের বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। তিথি এ সময় চান্দিনা সংলগ্ন দেবিদ্বার উপজেলার বাগমারা আলিয়া মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

 

২০১৮ সালে হঠাৎ তিথি অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এতে সে কিছুটা সুস্থ হলেও সেসময় সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া তিথির লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে চলছিল তার দিনকাল।

 

তিথির খালু শামসুল হক ভূঁইয়া বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে একটি অস্ত্র মামলায় তিথির বাবা জামালকে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ গ্রেফতার করলে তিথির কপালে নেমে আসে দুর্ভোগ। তাদের সঙ্গে তিথির পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

 

তিনি বলেন, ২ অক্টোবর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেবিদ্বার উপজেলার ভানী ইউনিয়নের কটকসার গ্রামে দাওয়াতে যাই। ফেরার পথে তিথির সঙ্গে দেখা করতে চান্দিনা রূপনগর আবাসিকের ভাড়া বাসায় যাই। এ সময় তিথির সৎমা লাভলী আমাকে তিথির অসুস্থতার কথা জানান।

 

তখন তিথিকে ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন বুড়িচং উপজেলার ঘোষনগর গ্রামের বাসায় নিয়ে আসি। পরদিন তিথিকে গোসল করানোর পর কাপড় পরিবর্তনের সময় শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখে তিথির খালাতো বোন। পরে সৎমায়ের নির্যাতনের বিষয়টি জানায় তিথি।

 

শিশুটির খালাতো ভাই নাজমুল হাসান ও প্রতিবেশী মামা হুমায়ুন কবীর জানান, তিথির হাত-পা ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনার বিচার চাই আমরা।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে তিথির সৎমা স্কুলশিক্ষিকা লাভলীর সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ঘটনার পর থেকে মোবাইল বন্ধ রেখেছেন তিথির সৎমা।

 

চান্দিনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামসুদ্দিন মো. ইলিয়াস বলেন, শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চান্দিনা সমাজসেবা অধিদফতর শিশুটির দেখভাল করছে।

 

তিনি বলেন, তিথির খালু শামসুল হক ভূঁইয়া বাদী হয়ে স্কুলশিক্ষিকা লাভলীর বিরুদ্ধে চান্দিনা থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।