আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কানাডার উইনিপেগে উত্তর আমেরিকার প্রথম র্পূণাঙ্গ শহিদ মিনার

হেলাল মহিউদ্দীন
অধ্যাপক,
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং
উইনিপেগের স্থায়ী বাসিন্দা

কানাডার উইনিপেগে ইতিহাস রচিত হতে চলেছে। ম্যানিটোবা প্রদেশের রাজধানী উইনিপেগে উত্তর আমেরিকার প্রথম র্পূণাঙ্গ শহিদ মিনারটির র্নিমাণকাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করা যায় ডিসেম্বরের মধ্যেই সকল র্নিমাণকাজ সম্পন্ন হবে। ২০২১ সালের একুশে ভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠান নবর্নিমিত শহিদ মিনার চত্বরে আয়োজন করার সাময়িক প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।

উইনিপেগের র্কাকব্রিজ র্পাক একটি র্বধিষ্ণু কমিউনিটি র্পাক। ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনতিদূরে একটি অভিজাত আবাসিক এলাকার মধ্যে র্পাকটি অবস্থিত। এই র্পাকের একটি ছোট ডাক পণ্ড [বালিহাসদের জন্য পুকুর] লাগোয়া স্থানকে চত্ত্বরটি র্নিমাণের জন্য র্নিবাচিত করা হয়েছে। উইনিপেগের বাংলাদেশিদের কয়েক বছরে আন্তরিক নিরলস প্রচেষ্টার ফসল এই শহিদ মিনারটি। ম্যানিটোবার প্রাদেশিক সরকার, উইনিপেগের নগর র্কতৃপক্ষ প্রকল্পটির সিংহভাগ ব্যয় বহন করছে। রয়েছে বাংলাদেশিদের র্অথসাহায্যও। উদ্যোক্তা সংগঠন ম্যানিটোবা বাংলাদেশ ভবন র্কপোরেশন গত কয়েক বছরে একাধিক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উইনিপেগের বাংলাদেশিদের মধ্য হতে বাজেটের একটি অংশের সংস্থান করে। চত্বরটির র্নিমাণব্যয় বাংলাদেশি মুদ্রার অংকে ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

মূল কাঠামোগুলো শীতসহিষ্ণু ও পরিবাশবান্ধব রাখার জন্য গ্যাল্ভানাইজড স্টিলে মূল মিনারগুলো র্নিমিত হবে।
বেদিও চারপাশের এলাক্যা থাকবে কংক্রিট ও পাথরের নান্দনিক মিশ্রণ। সবুজ শীতসহিষ্ণু গুল্ম আচ্ছাদিত থাকবে চত্বর সীমানা। কানাডার আদিবাসী ভাষা-চিহ্নের স্মারক প্রস্তরের গাথুনিও থাকবে মূল বেদিতে। উইনিপেগ শহরটি নানা কারণে বিশেষত্বর্পূণ। শহরটি কানাডার তিনটি প্রেইরি প্রদেশের মধ্যে সবচাইতে বড় সমতলভূমি। তার চাইতেও গুরুত্বর্পুণ বিষয় এই যে শহরটি উত্তর আমেরিকার ‘জিরো পয়েন্ট’।

কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে একটি বৃত্ত আঁকলে কেন্দ্রবিন্দুটিই উইনিপেগ। শহরটির আরো বিশেষত্ব এই যে পৃথিবীর একমাত্র মানবাধিকার যাদুঘরটিও উইনিপেগেই। যাদুঘরটির কারণে ম্যানিটবার মানবাধিকার র্কমীগণ উইনিপেগকে ‘জেনেভা অব হিউম্যান রাইটস’ বা ‘মানবাধিকারের জেনেভা’ নামেও উল্লেখ করতে শুরু করেছেন।

আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা চত্বরটি একটি র্দশনীয় স্থানে পরিণত হবার পাশাপাশি এলাকাটিকে একটি সাংস্কৃতিক
র্কমকান্ডের কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস।