আজ ৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ফেডারেশন কাপ দিয়ে মৌসুম শুরু ১৯ ডিসেম্বর

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: কাজী সালাউদ্দিনের ৪০ শতাংশের প্রতিশ্রুতি টেকেনি লিগ কমিটির সভায়। সমস্যা জর্জরিত ক্লাবগুলোর অনুরোধে ফুটবলারদের নতুন চুক্তি ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করে লিগ কমিটি আগামী ১৯ ডিসেম্বর ফেডারেশন কাপ দিয়ে নতুন মৌসুম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো চেয়েছিল, ফুটবলারদের সঙ্গে গত মৌসুমে চুক্তির ২৫ শতাংশ দিয়ে নতুন মৌসুমের চুক্তি করতে। লিগ কমিটি সেই অনুযায়ী ঘোষণা দেওয়ার পর ফুটবলাররা চুক্তির অঙ্ক বাড়ানোর দাবি নিয়ে গিয়েছিলেন বাফুফে সভাপতির কাছে। দুই দিন আগে ফুটবলারদের সঙ্গে সেই সভায় কাজী সালাউদ্দিন ৪০ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কাল লিগ কমিটির সভায় তা ৩৫ শতাংশে ঠেকেছে। অর্থাৎ গত মৌসুমে ক্লাবের সঙ্গে কোনো ফুটবলারের ৪০ লাখ টাকার চুক্তি থাকলে নতুন মৌসুমে ৩৫ শতাংশ মেনে ১৪ লাখ টাকায় খেলতে হবে তাঁকে। লিগ কমিটির সভাপতি সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘এই করোনা মহামারিতে ক্লাবগুলোর অবস্থা ভালো নয়। কোনো ক্লাবেরই নিজস্ব আয় নেই, তারা চলে অনুদানের ওপর। এসব বিবেচনায় নিয়ে আমরা ফুটবলারের সঙ্গে নতুন চুক্তির অঙ্ক ২৫ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বিশ্বাস খেলোয়াড়রা এ সিদ্ধান্তে অখুশি হবে না। নতুন মৌসুমের এই চুক্তিপত্রে আগের মৌসুমের বকেয়া টাকার কথাও উল্লেখ থাকবে।’

বাংলাদেশের ক্লাবগুলোতে মাসিক বেতন দেওয়ার প্রথা নেই। ক্লাব ও খেলোয়াড় একটা নির্দিষ্ট অঙ্কের চুক্তিতে বিশ্বাস করে এবং চুক্তির বড় একটা অংশ শুরুতে নিয়ে নেন ফুটবলাররা। বড় ক্লাবগুলো চুক্তির বেশির ভাগ অর্থ আগেই পরিশোধ করেছে। ছোট ক্লাবগুলোতে বকেয়ার পরিমাণ বেশি। নির্দেশনা অনুযায়ী সেটা নতুন চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকবে। যদিও লিগ কমিটির কালকের সিদ্ধান্তে খেলোয়াড়রা মনঃক্ষুণ্ন হয়েছেন। আবাহনীর মিডফিল্ডার সোহেল রানা বলেছেন, ‘সভায় কী সিদ্ধান্ত হয়, সেটা জানতেই আমরা ফেডারেশনে এসেছি। সভাপতি ৪০ শতাংশের কথা বললেও সেই কথা রাখেনি লিগ কমিটি। আমরা ক্লাবকে চাপ দিতে পারি না, তাই সভাপতির কাছে গিয়েছিলাম।’

লিগ কমিটির সিদ্ধান্ত মেনে ২০২০-২১ ফুটবল মৌসুমের দলবদল শুরু হবে ১ নভেম্বর, চলবে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের দলবদল শুধুই আনুষ্ঠানিকতা, কারণ ফুটবলারদের খেলতে হবে আগের দলেই। কোনো ক্লাব পুরনো ফুটবলারকে রাখতে না চাইলে সেটা আগামী ৩০ অক্টোবরের মধ্যে জানাতে হবে। আগের মতো চার বিদেশি রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ থাকছে এবং চারজনই খেলতে পারবে একসঙ্গে। দলবদল শেষ হওয়ার তিন দিন পরই ফেডারেশন কাপ দিয়ে শুরু হবে নতুন ফুটবল মৌসুম। এরপর প্রিমিয়ার লিগ, যদিও এর দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। কয়টি ভেন্যুতে হবে, সেটাও ঠিক হয়নি। প্রাথমিকভাবে তারা ৬টি ভেন্যু পর্যবেক্ষণ করবে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম বাদে অন্য ৫ ভেন্যু হলো—বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম, গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়াম, নরসিংদীর মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া স্টেডিয়াম, বিকেএসপি ও কুমিল্লা জেলা স্টেডিয়াম। করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে লিগ কমিটির প্রধান সালাম মুর্শেদী ভেন্যু বাছাই করতে চান, ‘ইউরোপে করোনা আবার হানা দিয়েছে, দেশেও সেই শঙ্কা আছে। তাই ঢাকার আশপাশে ভেন্যু রাখতে চাই, যেন দলগুলো দিনে গিয়েই খেলে ফিরতে পারে।’