আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে আর্মেনিয়া, অভিযোগ আজারবাইজানের

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরে আজারবাইজানের একটি শহরে মিসাইল হামলা করেছিল আর্মেনিয়া, অভিযোগ আজারি সরকারের। এই হামলায় বহু শিশু অনাথ হয়ে গিয়েছে। খবর আলজাজিরা ও রয়টার্সের।

দীর্ঘ বৈঠকের পর গত শনিবার সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া। মস্কোর মধ্যস্থতায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও যুদ্ধ থামেনি। আজারবাইজানের সরকার এবার দাবি করল, আর্মেনিয়াই প্রথম যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘন করেছিল। সে কারণেই তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।

আজারবাইজানের দাবি, যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আজারবাইজানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর গ্যাঞ্জায় ব্যালেস্টিক মিসাইল দিয়ে হামলা চালায় আর্মেনিয়ার সেনা। আর্মেনিয়া সীমান্ত থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্যাঞ্জা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিতর্কিত এলাকা নাগর্নো-কারাবাখ থেকে গ্যাঞ্জার দূরত্ব প্রায় ৯৭ কিলোমিটার। সেখানে সেই অর্থে আজারবাইজানের কোনো সেনা কাঠামোও নেই। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, আক্রমণের ক্ষেত্রে আর্মেনিয়া যুদ্ধের সাধারণ নীতিও মানছে না। সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। বস্তুত, আজারবাইজান জানিয়েছে, গ্যাঞ্জায় মিসাইল হামলায় অন্তত সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত বহু। যার মধ্যে শিশুও আছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ওই দিনের হামলার পরে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গ্যাঞ্জার একটি অংশ। রাতারাতি অনাথ হয়ে গিয়েছে বহু শিশু। আজারবাইজানের প্রশাসন ওই শিশুদের এখন হোমে পাঠানোর করছে। সংবাদকর্মীদের ওই শিশুরা জানিয়েছে, কী ভাবে চোখের সামনে বাবা-মাকে, পরিবারের অন্য সদস্যদের মারা যেতে দেখেছে তারা। কী ভাবে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছে তারা। সকলে বাঁচেনি। গ্যাঞ্জার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি বহু শিশুও।

আর্মেনিয়া অবশ্য আজারবাইজানের এই দাবি প্রথম থেকেই অস্বীকার করছে। বৃহস্পতিবারেও তারা জানিয়েছে, আজারবাইজানের কেবলমাত্র সেনা কাঠামো লক্ষ্য করেই তারা আক্রমণ চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষ কখনোই তাদের লক্ষ্য নয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, শুধু গ্যাঞ্জা নয়, আজারবাইজানের একাধিক শহরে সাধারণ মানুষের ঘর বাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে আর্মেনিয়ার ছোড়া রকেট এবং মিসাইলে।

বৃহস্পতিবার আজারবাইজান জানিয়েছিল, আর্মেনিয়ার রকেট এবং মিসাইল লঞ্চার প্যাড ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে আজারি সেনা। ওই লঞ্চপ্যাড থেকেই আজারবাইজানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালানো হতো বলে অভিযোগ। এ দিকে আর্মেনিয়ার অভিযোগ, যুদ্ধের নামে নাগর্নো-কারাবাখকে ধ্বংসস্তূপে পিরণত করেছে আজারি সেনা। সেখানকার আর্মেনীয় জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণ চালানো হয়েছে। বস্তুত, নাগর্নো-কারাবাখ থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে আসছেন বলে বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংস্থা রিপোর্টও করেছে। সেখানেও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে বলে জানিয়েছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী।

এক দিকে রাশিয়া, অন্য দিকে ইরান বারংবার দুই দেশকে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি বৈঠকে বসার আহ্বান জানাচ্ছে। রাশিয়া, ফ্রান্স এবং অ্যামেরিকার একটি যৌথ কমিটি একাধিকবার দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু দুইটি দেশই এখনো পর্যন্ত যুদ্ধ থামানোর আগ্রহ দেখায়নি।