আজ ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সয়াবিন ও পাম তেলের দাম প্রায় সমানে ঠেকেছে

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: এক বছর আগে খুচরা বাজারে যখন খোলা সয়াবিনের দাম ছিল ৭৭-৮৫ টাকা লিটার, তখন নিম্ন আয়ের মানুষের তেল হিসেবে পরিচিত পাম তেল ছিল ৫৮-৬৫ টাকা। অর্থাৎ সয়াবিন ও পাম তেলের দামের ব্যবধান লিটারে ছিল ২০ টাকা। বর্তমানে খুচরা বাজারে সব ধরনের ভোজ্য তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। সয়াবিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন ৯৫-৯৭ টাকায় উঠেছে। খুচরা বাজারে এখন সাধারণ মানের খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ৮৯-৯০ টাকা লিটার। আর ভালো মানের পাম তেল ৯৩-৯৪ টাকা লিটার। অর্থাৎ ভালো মানের সয়াবিন ও পাম তেলের দাম প্রায় সমান।

সয়াবিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাপ বেড়েছে সস্তার পাম তেলের ওপর, এই সুযোগ নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তেলের কৃত্রিম সরবরাহ সংকট তৈরি করে পাম তেলের দামও বাড়িয়েছেন অস্বাভাবিক হারে।
অথচ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে ভোজ্য তেলের কোনো ঘাটতি নেই।

পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের ঘাটতি না থাকলেও দেশের বাজারে কিছুদিন সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছিল। ১৫ দিন আগে পাইকারি বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে প্রতি মণ তিন হাজার ৫৫০ টাকা বা লিটারে ৯৫ টাকা বিক্রি হয়। সয়াবিনের এই বাড়তি দামে ক্রেতা কমে আসে। বিপরীতে চাপ পড়ে দাম কম থাকা পামের ওপর। ফলে পাম তেলের দামও বাড়তে থাকে।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির তথ্য মতে, গতকাল মৌলভীবাজারে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ৪০০ টাকা মণ বা ৯১ টাকা লিটার দরে। খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ১৭০ টাকা মণ বা ৮৫ টাকা লিটার দরে। ভালো মানের পাম সুপার পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে তিন হাজার ২৫০ টাকা মণ বা ৮৭ টাকা লিটার।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক মাসে খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে আড়াই শতাংশ, খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ ও পাম সুপারের দাম বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। বাজারে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিনের দাম ১০৫ টাকা থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে পাইকারি ভোজ্য তেল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি আবুল হাশেম প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘তেলের বাজারে দামের কোনো স্থিরতা পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় মিলগেট থেকে পাইকারি বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। কারণ মিল থেকে এক এক সময় এক এক দর দেওয়া হচ্ছে। দিন পনেরো আগ পর্যন্ত তেলের সরবরাহ অনেকটাই কম ছিল। ফলে দামও বেশি ছিল। এখন সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় প্রতি মণে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কমেছে। বাজারে তেলের চাহিদা যে খুব বেড়েছে তা-ও নয়।’

তবে বাজারে শুধু ভোজ্য তেল নয়; চাল, ডাল, সবজি, আলু, পেঁয়াজ, আদা থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যেই ভোক্তাকে গুণতে হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ বাড়তি দাম। কয়েক মাস ধরে এসব পণ্যের দামের কষাঘাত সইছে তারা।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাড়তে থাকা চালের দাম চলতি সপ্তাহে আরো বেড়েছে। চিকন মিনিকেট, নাজিরশাইল কেজিতে এক-দুই টাকা বেড়ে ৫৭-৬৫ টাকায় উঠেছে। ৪৫ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না ব্রি-২৮, স্বর্ণা, পাইজাম, চায়না ইরিসহ মোটা চাল। ভালো মানের মোটা চাল ৫২ টাকা কেজি।

বাংলাদেশ রাইস মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, গতকাল পাইকারি বাজারে মিনিকেট বিক্রি হয়েছে আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ পয়সা বেশি দামে সাড়ে ৫৪ টাকা কেজি। ব্রি-২৮ বিক্রি হয়েছে ৪৮ টাকা, নাজিরশাইল ৫৮ টাকা, কাটারিভোগ ৮২ টাকা কেজি দরে। এ ছাড়া বাসমতি ও চিনিগুঁড়া পাইকারি বাজারে কেজিতে এক টাকা বেড়ে ৬১ ও ৮৯ টাকা বিক্রি হয়েছে। খুচরায় এসব চালের দাম বাজার ভেদে পার্থক্য রয়েছে।

বাজারে হঠাৎ আলুর দাম বেড়ে ৫০ টাকার ওপরে উঠে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার সর্বোচ্চ খুচরা দাম ৩০ টাকা বেঁধে দিলেও কোনো ব্যবসায়ী তা মানছেন না। এখনো বাজারে আলুর কেজি ৫০ টাকার ওপরে। বরং বিক্রেতারা বলছেন, দাম আরো বাড়তে পারে। কারণ বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি করবেন না বলে অনেক পাইকার হিমাগার থেকে আলু সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। এতে সংকট আরো বাড়ছে।

পেঁয়াজের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি হয়েছে এক মাসের ওপরে। দাম নামেনি এখনো। অথচ মাসখানেক আগেও ৪০-৪৫ টাকা ছিল। দেশি আদার দাম ৯০-১১০ টাকা হলেও চায়না আদার দাম বেড়ে হয়েছে ২৬০ টাকা কেজি।

সবজি বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই। গতকালও রাজধানীর মানিকনগর, মুগদা, মালিবাগ, বসুন্ধরা গেট কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন খুচরা বাজারে ২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকায়। এক কেজি কিনলে ২৫০ টাকা রাখছেন বিক্রেতারা। বেগুন বিক্রি হয়েছে ৮০-১৩০ টাকা কেজি, টমেটো ১০০-১২০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৯০ টাকা, শিম ১৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। আধা কেজি সমপরিমাণ পুঁইশাকের আঁটি বিক্রি হয়েছে ৩০-৪০ টাকা, লালশাক ও কলমিশাক ১৫-২০ টাকা।

দীর্ঘদিন কিছুটা কম দামে বিক্রির পর চলতি সপ্তাহে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। খুচরা বাজারে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা হয়েছে। ডিম গত সপ্তাহের মতো ১১৫ থেকে ১২০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে।