আজ ১১ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৭শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনার কারণে আগের সেই জৌলুশ নেই দুর্গাপূজার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা সামনে রেখে বইতে শুরু করেছে উৎসবের আমেজ। মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির শেষ মুহূর্তের কাজ। কারিগররা ব্যস্ত প্রতিমা সাজসজ্জার কাজে। তবে করোনাকালে মণ্ডপের সংখ্যা কিছুটা কমেছে; কমেছে পূজার জৌলুসও।

গত বছর সারা দেশে ৩১ হাজার ১০০টি মণ্ডপে পূজা হয়। এবার মণ্ডপের সংখ্যা ৩০ হাজার ৮১টি। পূজায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য একটি নির্দেশিকা (গাইডলাইন) প্রণয়ন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। মণ্ডপ ও ভক্ত-পূজারিদের নিরাপত্তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে ২৬ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনায় পূজাকে কেন্দ্র করে শোভাযাত্রা, প্রসাদ বিতরণ ও আলোকসজ্জা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

হিন্দু আচার অনুযায়ী, মহালয়া, বোধন ও সন্ধিপূজা—এই তিন পর্ব মিলেই দুর্গোৎসব। দেবীপক্ষের শুরু হয় যে অমাবস্যায়, সেদিন হয় মহালয়া। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, সেদিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দেবী দুর্গা। তাই গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর মহাষষ্ঠী তিথিতে হবে দেবীর বোধন বা দেবীর ঘুম ভাঙানোর বন্দনা পূজা। পরদিন সপ্তমী পূজার মাধ্যমে শুরু হবে দুর্গোৎসবের মূল আচার অনুষ্ঠান। ২৬ অক্টোবর মহাদশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি জানান, করোনা পরিস্থিতিতে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপনের জন্য সারা দেশে মন্দির ও পূজা কমিটির কাছে ২৬ দফা নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনা দিয়েছে।

এদিকে পূজাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য-১ অধিশাখার উপসচিব ডা. মো. শিব্বির আহমদ ওসমানী স্বাক্ষরিত গাইডলাইনে বলা হয়েছে, পূজামণ্ডপে আগতরা নির্দিষ্ট দূরত্ব (কমপক্ষে দুই হাত) বজায় রেখে সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করবেন এবং প্রণাম শেষে বের হয়ে যাবেন। পূজামণ্ডপে আগত সবার মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। মন্দিরের প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ও তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ মণ্ডপে প্রবেশ করবেন না। প্রসাদ বিতরণ, আরতি প্রতিযোগিতা ও ধুনচি নাচ এবং শোভাযাত্রা থেকে বিরত থাকতে হবে। ধর্মীয় উপাচার ছাড়া অন্যান্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আলোকসজ্জা বর্জন করতে হবে।

অন্যদিকে যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজামণ্ডপে যাওয়া ও প্রতিমা বিসর্জনে শোভাযাত্রা না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া নির্দেশনাগুলো অনুসরণ ছাড়াও সেখানে বলা হয়েছে, পূজামণ্ডপে জনসমাগম কমানোর জন্য অঞ্জলি প্রদান অনুষ্ঠান টিভিতে লাইভ প্রচারের জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনকালে শোভাযাত্রা করা যাবে না। ধর্মীয় সম্প্র্রীতি রক্ষা করে অনুষ্ঠান করতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনায় ভক্তিমূলক সংগীত ছাড়া অন্য কোনো গান যেন বাজানো না হয়, মাইক বা পিএ সেট যেন ব্যবহার করা না হয়, মণ্ডপে ‘প্রয়োজনের অতিরিক্ত দীর্ঘ সময়’ কোনো দর্শনার্থী যেন না থাকেন এবং সন্ধ্যার বিরতির পর দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিরুৎসাহ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সব ধরনের আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করা, সম্ভব হলে বাসা-বাড়িতে থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভক্তদের অঞ্জলি দেওয়া এবং প্রতিমা নিরঞ্জনে শোভাযাত্রা পরিহার করতে বলা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতিতে সরকার যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছে তা মেনে পূজার আয়োজন চলছে বলে জানান পুরোহিত রাজীব গাঙ্গুলি।
তিনি প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘পৃথিবীর মানুষকে সব অমঙ্গল থেকে রক্ষার জন্য এবারের পূজায় মায়ের কাছে প্রার্থনা করা হবে। বিশেষ করে অজানা ব্যাধি থেকে যেন মানুষ রেহাই পায়। এ ছাড়া দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রার্থনা করা হবে।’