আজ ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২০শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

করোনা মহামারীতে চরম সঙ্কটে বীমাশিল্প

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের বীমাশিল্প। বিশেষ করে এ খাতে পলিসি বিক্রি করে যাঁদের সংসারের চাকা ঘোরে, এমন সাত লাখের বেশি বীমা এজেন্ট এখনো চরম দুর্দিন পার করছেন। কারণ করোনায় পলিসি বিক্রিতে ধস নামায় তাঁদের মাসিক আয়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। আয় কমার হার গড়ে ৫০ শতাংশ। সাধারণ ছুটির সময়কালে পলিসি বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়েছে অনেককে। এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও আবার সংক্রমণ পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা তাঁদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) তথ্য অনুসারে, বর্তমানে দেশে সরকারি-বেসরকারি ৭৮টি জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করছে। আরেকটি জীবন বীমা কম্পানি সম্প্রতি অনুমোদন লাভ করেছে। এজেন্ট ও এমপ্লয়ার অব এজেন্টসহ এসব বীমা কম্পানির বিভিন্ন পদে কাজ করছেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ নারী-পুরুষ। দেশে করোনা সংক্রমণের পর সাধারণ ছুটির সময় ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে উপার্জনহীন হয়ে পড়েন কমিশনভিত্তিক এই বীমাকর্মীরা।

১৯৯৯ সাল থেকে মেটলাইফ নামের বীমা কম্পানিতে কমিশনের ভিত্তিতে কাজ করছেন বিউটি আক্তার। বর্তমানে তিনি একটি ব্রাঞ্চের ইউনিট ম্যানেজার। করোনার আগে গ্রাহকের কাছে পলিসি বিক্রি করে মোটা অঙ্কের আয় হতো বিউটির, কিন্তু করোনায় পলিসি বিক্রি কমায় তাঁর আয় কমে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিউটি আক্তার প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন এ পেশায় কাজ করলেও এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে কখনো পড়িনি। করোনার আগে পলিসি বিক্রি করে প্রতি মাসে যে আয় হতো তাতে বেশ ভালোভাবেই চলতে পারতাম, কিন্তু গত কয়েক মাস পলিসি বিক্রি অনেক কমে গেছে। সাধারণ ছুটির সময় পলিসি বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তখন বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। কেননা বীমা পলিসি বিক্রির নির্ধারিত কমিশনের বাইরে আমাদের কোনো বেতন-ভাতা নেই। এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও মানুষের সঙ্গে আগের মতো অবাধ যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আরেকটি বীমা কম্পানিতে পাঁচ বছর ধরে কাজ করেন ফয়সাল হোসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনার কারণে গত কয়েক মাসে পলিসি বিক্রিতে ব্যাপক ধস নেমেছে। এতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। এত দিন আগের জমানো সঞ্চয় ভেঙে খেয়েছি। এখন সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পথে বসা ছাড়া আর উপায় থাকবে না।’

বীমা এজেন্টদের প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে এরই মধ্যে দুই দফায় আবেদন জানিয়েছে বীমা মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএর চেয়ারম্যানের কাছেও আবেদন জানানো হয়, কিন্তু এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই।

জানা জায়, গত ৩১ আগস্ট বিআইএর সভাপতি শেখ কবির হোসেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের কাছে এসংক্রান্ত একটি আবেদন পাঠান। এর আগে ২২ মে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়ে আবেদন জানায় বিআইএ।

জানতে চাইলে শেখ কবির হোসেন প্রথমবার্তাক্ব বলেন, ‘করোনায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে বীমা এজেন্টরা। আমরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে আর্থিক সহায়তার জন্য সরকার ও আইডিআরএর কাছে চিঠিও দিয়েছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না।’ এখন পলিসি বিক্রি পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে কি না, জানতে চাইলে শেখ কবির বলেন, ‘একটু-আধটু উন্নতিকে তো উন্নতি বলা যাবে না। এরই মধ্যে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে। এটা এলে বীমাশিল্পে আরো বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।’