আজ ৯ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৫শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রিক্সা চালক-ঘটক বেশে চাঞ্চল্যকর সব মামলার আসামি গ্রেফতার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: একজন থানা কর্তৃপক্ষ যদি হয়ে যান ঘটক আর শুরু করেন ঘটকালি তবে বিষয়টি নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। শুধুই কি ঘটক? কখনো রিক্সা চালকও বটে! সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রূপ পাল্টে নিজের বহুমাত্রিক চরিত্রই ফুটিয়ে তুলেছেন অফিসার ইন-চার্জ বোরহান উদ্দিন খান।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি, এলিট ফোর্স র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) তথা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ। কঠোর পেশাদারিত্ব আর নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই অপরাধী ধরতে মূলত নিজের রূপ পাল্টে নেন বোরহান উদ্দিন খান। এভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ নিয়ে গ্রেফতার করে চলছেন মাদক, জুয়া, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ চাঞ্চল্যকর বিভিন্ন হত্যা মামলার পলাতক আসামি।

চলতি মাসে ঘটক এবং রিক্সা চালক সেজে সন্ধান বের করে গ্রেফতার করেছেন দীর্ঘদিনের পলাতক বিভিন্ন মামলার একাধিক আসামি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনগত রাতেও গ্রেফতার করেছেন গৌরীপুরের তিন বছর পূর্বের চাঞ্চল্যকর একটি হত্যা মামলার আসামি। হত্যায় অভিযুক্ত গ্রেফতার হলো- গৌরীপুর স্টেশন রুটের কনু মিয়ার ছেলে মাদকসেবি মো. সাজন (২৪)।

অফিসার ইন-চার্জ জানান, ২০১৭ সালের ২ আগস্ট, উপজেলার পশ্চিম ভালুকা থেকে নিখোঁজ হয় রাসেল মিয়া নামে এক যুবক। পরে ৫ আগস্ট, উত্তর বাজার এলাকার তালাবদ্ধ একটি ঘর থেকে সেই যুবকের গলিত মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় রাসেলের বাবা ইদ্রিস আলী একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাজন, টগর ও জনিকে আসামি করা হয়। পরে পলাতক ছিলেন সাজন। দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে থাকা সাজনকে গ্রেফতার করতে সমর্থ হন ওসি বোরহান উদ্দিন খান। গ্রেফতারের খবরে মামলার বাদিসহ এলাকাবাসী ব্যাপক আনন্দিত হয়েছেন।

এছাড়াও বোরহান উদ্দিন খান সম্প্রতি সময়ে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ চেষ্টা ও ধর্ষণ পৃথক পাঁচটি অভিযোগে অভিযুক্ত পাঁচজনকেই গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলো স্কুলছাত্রী, গার্মেন্টস কর্মী ও গৃহবধূ। অতীতের ন্যায় কর্ম স্পৃহা আর জনসেবামূলক কাজে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে নিজ ডিপার্টমেন্টে বারবার নির্বাচিত হচ্ছেন তিনি শ্রেষ্ঠ অফিসার। ময়মনসিংহ রেঞ্জের আওতাধীন নেত্রকোনা মডেল থানা এবং বর্তমান কর্মস্থল গৌরীপুর থানা। দুই থানাতেই সুনামের সাথে কাজ করে ঊর্ধ্বতনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাতিয়ে নিয়েছেন ডজনখানেক পুরষ্কার ও সনদ। কর্মদক্ষতায় ১২ বার শ্রেষ্ঠ অফিসার নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

করোনাকালের শুরু থেকে মানবিক কর্যক্রম পরিচালনা করে সর্ব মহলে নতুন করে নিজেকে মেলে ধরতে সফল হয়েছেন বোরহান উদ্দিন খান। আপদকালীন এ সময়ে কর্মহীন বেকার হয়ে পড়া মানুষের দ্বারেদ্বারে ছুটেছেন সহযোগিতার হাত নিয়ে। এতে করে খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত হয়েছে যেমন ঠিক তেমনি অসহায় মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, হেডকোয়ার্টারসের নির্দেশনা মেনে সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর গৌরীপুর থানা সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পুলিশ সদস্য। কুইক রেসপন্স নীতিতে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। সেবা নিয়ে আপত্তি জানানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ৯৯৯ ছাড়াও যেকোনো সমস্যায় মানুষের ডাকে ছুটে যাচ্ছে পুলিশ।