আজ ১৫ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩১শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কেরানীগঞ্জে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সভা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: ‘মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উদ্যোগে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন বিরোধী বিট পুলিশিং সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জিনজির পি.এম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জিনজিরা ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪নং ওয়ার্ডে (১নং বিট) জনসাধারণকে নিয়ে আয়োজিত উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ দক্ষিণ) মো. হুমায়ূন কবির।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, জিনজিরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী সাকুর হোসেন সাকু। জিনজিরা পি.এম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবু বকর সিদ্দিক, প্রবীণ রাজনীতিবিদ হাজী মো. সেলিম, বিদ্যালয়ের সভাপতি মুযাহিদুল ইসলাম মামুন, জিনজিরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী মো. মোশতাক হোসেন, জিনজিরা ১, ২, ৩, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বাররা প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. হুমায়ন কবির বলেন, একটা দেশের উন্নয়নের পূর্বশর্ত আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন। আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন করতে গিয়ে পুলিশ বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নারীরা যেন তাদের সমস্যার কথা পুলিশের কাছে সরাসরি খুলে বলতে পারেন তার জন্য প্রতিটি থানাতে আলাদাভাবে নারী ও শিশু ডেস্ক খোলা হয়েছে। নির্যাতিতাদের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য আমাদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার রয়েছে। পুলিশ হচ্ছে প্রথম বিচারক, পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে নারী নির্যাতন রোধে।

তিনি আরো বলেন, সবার কাছে অনুরোধ, আপনার শিশুটি কোথায় যাচ্ছে, কার কাছে রেখে যাচ্ছেন তা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আপনার সন্তান কার সঙ্গে মিশছে কোন বন্ধুদের সঙ্গে চলছে তা দেখে রাখার দায়িত্ব আপনার। ধর্ষণবিরোধী সচেতনতা পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। যেকোনো ধরনের খারাপ পরিস্থিতি দেখলে অবশ্যই থানা পুলিশকে অবগত করবেন অথবা ৯৯৯-এ কল দিবেন। এছাড়া ধর্ষণের শাস্তি যেমন মৃত্যুদণ্ড তাইবলে কেউ মিথ্যা মামলা করবেন না। মিথ্যা মামলা করলে শাস্তি ৭ বছরের জেল। আপনাদের যে কোনো সমস্যায় ঢাকা জেলা পুলিশ আপনাদের পাশে আছে।

হাজী সাকুর হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, প্রতিটা বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের খেয়াল রাখা, বাবা-মায়ের লক্ষ করা উচিত তার ছেলেটা কার সঙ্গে মিশে, তার মেয়েটা শালীন পোশাক পরছে কিনা। আইনের শাসন বাস্তবায়নে প্রয়োজন সুশাসন। সুশাসন নিশ্চিত করতে দরকার পুলিশ বাহিনীর সহযোগীতা। জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সব সময় মডেল থানা পুলিশকে সর্বাত্মক সহযোগীতা করবে।

হাজী মোশতাক হোসেন বলেন, ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি, ধর্ষণ রোধে আমাদের সামাজিকভাবে সচেতন হতে হবে। আমাদের বোনদের ও শালীন হতে হবে, আজকাল দেখা যায় ফেসবুকে এক শ্রেণীর কুরুচিপূর্ণ নারী বিভিন্ন অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে পুরুষদের প্রভাবিত করে। যদিও এটা ধর্ষণের একমাত্র কারণ না। তারপরেও এটা বন্ধ করতে হবে। সরকার ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করেছে আমাদের উন্নয়নের জন্য কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু মানুষ ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছে। আমার মনে হয় ফেসবুককে দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা উচিৎ। এটা বন্ধ রাখলে ও কুরুচিপূর্ণ মানুষদের অপরাধ অনেক কমে যাবে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম (পিপিএম) বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী একজন সফল নারী। তিনি দেশের আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়নে তিনি নিরসশ কাজ করে যাচ্ছেন। ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। শুধু তাই নয়, কেউ যদি ধর্ষণের চেষ্টা করে তার সাজা ১০ বছর কারাদণ্ড। কেউ যৌতুক দাবি করলে ১২ বছরের কারাদণ্ড, নারী ও শিশু অপহরণ চেষ্টা করলে যাবৎ জীবন কারাদণ্ড, ইভটিজিং-এর চেষ্টা করলে ১০ বছরের কারা দণ্ড এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করলে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানাবাসী আপনাদের আশেপাশে যদি ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় তাহলে আপনারা রুখে দাঁড়াবেন। এবং দ্রুত সময়ে আমাদের জানাবেন। মডেল থানা পুলিশ সব সময় আপনাদের পাশে আছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত নারী বক্তারা ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে অভিনন্দন জানান এবং কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

কাজী মাইনুল ইসলাম পিপিএমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিনজিরা পি.এম পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের ইংরেজি প্রভাষক নেহার আফরোজ।