আজ ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২২শে অক্টোবর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সনদ জালিয়াতি করে নার্সের চাকরি, সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবে বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল : রেজিস্ট্রার সুরাইয়া আক্তার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মাছের পচন ধরে মাথায়, আর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সারা শরীরে। স্বাস্থ্য বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতি শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকে। আর পচনের বিস্তৃতি ঘটেছে অনেক জায়গায়, শাখা-প্রশাখায়। একজন ভুক্তভোগী বলেছেন এমন কথা।

এই ভুক্তভোগীর নাম তাজরিয়ান বাবু(৩৪)। বাবা আব্দুস সামাদ, মা মোছাঃ মাহমুদা বেগম। বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরে রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে।
তাজরিয়ান বাবু প্রথমবার্তাকে বলেছেন, আমি প্রেম করে, ভালোবেসে বিয়ে করেছিলাম মোছাঃ সানোয়ারা আক্তারকে (৩২)। তখন সে কুড়িগ্রাম সরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউটে ৩ বছর মেয়াদি নার্সিং এ্যান্ড মিড ওয়াইফারী কোর্স করছিলেন। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের তার স্টুডেন্ট রেজিঃ নম্বর ছিল ৩৫২৪৮।

২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে সানোয়ারা আক্তারের চাকরি হয় সিনিয়র নার্স পদে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। চাকরি হওয়ার আগে তাজরিয়ান বাবু জানতে পারেন, তার স্ত্রী সানোয়রা আক্তার সনদ জালিয়াতি করে নার্সিং ইন্সটিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন। সানোয়ারা এসএসসি পাশ করেন রাজশাহী বোর্ডের অধীনে দিনাজপুরের রানীগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৫ সালে। তার সেশন ছিল ২০০২-২০০৩ সাল। আর গ্রেড পয়েন্ট ছিল ২.৭৫, রোল নং ৩৫৯৩৭৮, রেজিঃ নং ৮৩৫৫৮৬। ২০০৮ সালে তিনি রাজশাহী বোর্ডের অধীনে দিনাজপুরের চাঁদগঞ্জ কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। তার গ্রেড পয়েন্ট ছিল ৩,১০। রোল নং ছিল ৮৫০৪৩৩। সানোয়ারা আক্তারের বাবার নাম সামসুদ্দিন আহমেদ। মাতা রেজিয়া খাতুন। বাড়ি দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রনগাঁ গ্রাম।

কুড়িগ্রাম সরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউটে ভর্তি হওয়ার আগে সানোয়ারা জানতে পারে সরকারি ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী তার প্রয়োজন গ্রেড পয়েন্ট ৭.৫০। কিন্তু তার প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্ট ছিল ৫.৮৫। এসময় তিনি একটি সিন্ডিকেটের শরণাপন্ন হয়। এসএসসি সনদ জালিয়াতি করে ২.৭৫ এর স্থলে কম্পিউটারে টেম্পারিং করে নেয় ৪.৭৫। এতে তার আর নার্সিংয়ে ভর্তি হতে কোনও বাধা থাকেনা।

তাজরিয়ান বাবু বলেন, আমি তাকে নার্সিংয়ের চাকরিতে ভর্তি হতে নিষেধ করেছিলাম। বলেছিলাম, তুমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষিকা অথবা যেকোনও সরকারি চাকরি করতে পার। কিন্তু সে আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। আমাকে ডিভোর্স ও তিন বছরের একমাত্র ছেলেকে ফেলে রেখে চলে যায়। আমি তার অনৈতিকতা ও প্রতারণার ব্যাপারে সচিব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, মহা-পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চেয়ারম্যান, দূর্নীতি দমন কমিশন, রেজিস্ট্রার, বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল, কুড়িগ্রাম সরকারী নার্সিং ইন্সটিটিউটসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল ছাড়া অন্যরা বলেছেন বিষয়টি বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল দেখবেন।

গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার সুরাইয়া আক্তার সংবাদ বিষয়টি আমলে নিয়ে জানালেন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তিনি বললেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। সনদ জালিয়াতির কারণে তার সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’