আজ ১১ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৬শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ঝিনাইদহ জেলা পাট অফিসে কেউ নেই, প্রধান ফটক তালাবদ্ধ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: পাটের সদর দপ্তর হচ্ছে বাংলাদেশে। পাটকে এক সময় সোনালী আঁশ বলা হতো। আর এখন নানা কারণে বলা হয় সোনালী আঁশ চাষিদের গলার ফাঁস! পাটের ন্যায্য মুল্য না পাওয়া, কৃষক পর্যায়ে ভর্তুকী না পৌছানো, জনবলের অভাব ও সর্বপরি কর্মকর্তাদের গাফলতির কারণে পাট খাত এখন মুমুর্ষ। গত কয়েক দিন ধরে ঝিনাইদহ জেলা পাট অফিসে কাউকে পাওয়া যায়নি।

রোববার বেলা ১০টার দিকেব্যাপারীপাড়ার নিঝুম প্লাজার অফিসে গিয়ে দেখা গেছে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ। ওই ফ্লাটের লোকজনরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে

অফিসের কোন কর্মকর্তা আসেন না। অফিসের দরজায় একটি ফোন নং দেওয়া আছে।

ফোন করা হলে তিনি নিজেকে লিংকন মন্ডল বলে দাবী করে জানান তিনি ঝিনাইদহ পাট অফিসের উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। লিংকন মন্ডলের ভাষ্যমতে অফিসে মাত্র ৩ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে মুখ্য পাট পরিদর্শক আকতার সাহেব ঝিনাইদহের চলতি দায়িত্বে। মাঝেমধ্যে তিনি যশোর থেকে ঝিনাইদহে আসেন। আর জেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা কে এম আব্দুল বাকী গত এক সপ্তাহ ধরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে বাসায় চিকিৎসাধীন। উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা লিংকন মন্ডল গত বৃহস্পতিবার থেকে পুজোর ছুটিতে বাড়ি গেছেন। তাই অফিস তালাবদ্ধ। জরুরী প্রয়োজনে অফিসে কেও আসলে হয়রানীর শিকার হতে হবে। এ প্রতিনিধি সরেজমিন পরিদর্শনকালে মোফাজ্জেল হোসেন ও ফারুক নামে দুই কৃষক জরুরী প্রয়োজনে ঝিনাইদহ জেলা পাট অফিসে আসেন। কিন্তু কাউকে না পেয়ে ফেরৎ যান। পাট চাষিদের অভিযোগ কোন সময়ে জেলা পাট অফিসে কাউকে পাওয়া যায় না। পাট অফিসকে বাসায় রুপান্তরিত করে স্টাফরা বসবাস করেন। অনেক সময় অফিসের মধ্যে লুঙ্গি পরে খালি গয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। এমন কিছু ভিডিও ফেসবুকে ভাইরালও হয়েছে। এতো কিছুর পরও ঝিনাইদহ পাট অফিসে কোন প্রাণবন্ত পরিবেশ নেই। সব সময় স্টাফের অভাবে খা খা করে।

এ বিষয়ে তথ্যদাতা উপ-সহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা লিংকন মন্ডল আমাদের অফিসে জনবলের অভাব রয়েছে। ফলে কাজের জন্য সামান্য সময়েও যদি বাইরে যেতে হয়, তবে অফিস বন্ধ করে যেতে হয়।