আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

বড় হওয়ার ইতিবাচক স্বপ্নই মানুষকে বড় করে তোলে

আত্মবিশ্বাস নিয়েই মানুষ বেঁচে থাকে।এই বিশ্বাস এবং কাজের মধ্যে যে স্থায়ীভাবে মনোনিবেশ করতে পেরেছে তাকে দুঃখ – কষ্ট কখনও স্পর্শ করতে পারেনি।কাজের মধ্যেই মানসিক প্রশান্তি ও আনন্দ লুকায়িত থাকে।আর কাজের পরম গতিশীলতার সঞ্চালক হিসেবে স্বপ্নই পারে মনের নিরন্তর চিন্তা রাজ্যের গতিময়তাকে অবিচল রাখতে।

 

কারণ, স্বপ্ন মানেই গন্তব্যের দিকে অবিরাম ছুটে চলা। স্বপ্ন নেই মানেই আশা ও উৎসাহ নেই।ব্যর্থতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস কেবল স্বপ্নই যোগাতে পারে।বিশ্বখ্যাত লেখক অস্কার ওয়াইল্ড বলেছেন,’ স্বপ্ন দেখা মানুষেরা চাঁদের আলোতে পথ খুঁজে নিতে পারে,আর তারাই সবার আগে ভোরের সূর্য উঠা দেখতে পায়।’

 

এই অন্তহীন ছুটে চলার বৈচিত্র্যময় পৃথিবীতে বিচিত্র মানুষের বসবাস। কেউ অর্থ, প্রতিপত্তি, ক্ষমতার মোহে নিজেকে বড় মনে করে, কেউ আবার অনেক বেশি থাকার পরও নিজেকে তুচ্ছ ভাবে।কেউ বয়সের জোরে নিজেকে বড় করতে চায়, কেউ বয়স বেশি হলে নিজেকে গুছিয়ে ছোট করে নেয়।আসলে কোনটি মানুষকে বড় করে তোলে?

 

একটি ইতিবাচক স্বপ্ন যখন নিরবিচ্ছিন্নভাবে অন্তরালের মানুষটিকে অনুপ্রেরণা যোগায় তখন বিরামহীন ছুটে চলার মানসিকতা আস্তে আস্তে তাকে অনেক বড় করে তোলে।তাই বড় হতে হলে নিজের তৈরী একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কাঠামোগত পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

 

যা মানুষকে স্বাপ্নিক নিয়মেই বড় করে তুলবে।কেউ যদি বিশ্বাস নিয়ে তার নিজের স্বপ্নের পথে জীবন আর পরিশ্রমকে নিবেদিত করে,এক সময় সে ধারণার চেয়েও বেশি সফলতা অর্জন করে।

 

বড় হতে হলে নিজেকে ছোট ছোট করেই এগুতে হয়।আমরা নিজেকে পরাজিত করে অন্যকে জয়ী করে আনন্দের স্বাদ নিতে প্রস্তুত নই। কিন্তু আত্মত্যাগ সবসময়ই মানুষকে বড় করে এ কথা অনেক পুরোনো।

 

ত্যাগের মহিমায় অনেকেই স্মরণীয় বরণীয় হয়ে আছে।অন্তর্নিহিত সত্বা যখন উৎকর্ষতা লাভ করে তখন মানুষ জ্ঞানে,কর্মে,প্রজ্ঞায় সৃষ্টিশীল চেতনায় পরিপূর্ণতা অর্জনের দিকে ধাপিত হয়।অপরদিকে বড় হওয়ার স্বপ্ন ও কাঠামো অন্তরে লালন না করে বড় হতে চাওয়া একধরনের চতুরতার কৌশল বটে।এক্ষেত্রে নিজে বড় হতে না পারায় অপরকে বড় দেখতে অনেকটা কষ্ট হয়।

 

তখন ঈর্ষান্বিত হয়ে মানুষ হিংসার জন্ম দেয়।ফলে সত্য,উদ্যোমী,সৃজনশীলতাকে প্রতিহত করার অপচেষ্টারা বাবুই পাখির মত নিখুঁতভাবে বাসা বাঁধে। যে বাসায় বাস করে প্রশিক্ষিত,জ্ঞানী বাবুই পাখিরাও।সহনশীলতা, বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হতে থাকে। ফলে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব হারিয়ে স্বার্থান্বেষী কাজের মাধ্যমে হীন মানসিকতার পরিচয় বহন করে।

 

যা সমাজ,জাতি তথা দেশের উন্নয়ন ও কল্যাণে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। স্বপ্নহীন মানুষরুপে নতুন প্রজন্মের মাঝে হতাশা আর প্রেরণাহীন স্থবিরতা সৃষ্টি করে।প্রাচীন কাল থেকেই এদের কথা ইতিহাসের কোন পাতায় লেখা নেই।

 

আছে স্বপ্নদ্রষ্টাদের কথা,আছে ত্যাগী ও আত্মদানের কথা।যারা দেশপ্রেমের স্বপ্নে দেশের জন্য আত্ম বলিদান দিয়েছেন,যারা শত সংগ্রামে পিছুপা না হয়ে মিথ্যেকে পরাভূত করে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, মানব সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে অন্যের সাফল্যে নিজ আত্মায় সুখ ও পরিতৃপ্ততা উপলব্ধি করেছেন তাদের নিয়েই ইতিহাস রচিত হয়েছে।

 

ঘটনার পরিক্রমায় স্বপ্নহীন, আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থবাদীদের চরিত্র ইতিহাসে স্থান পেলেও তা চিরকাল মানুষ নেতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখে। মহৎ কাজে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা একে অপরকে কখনও প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে না।বরং নতুনত্বের অনুসন্ধানে নতুনভাবে নিজেকে প্রস্তুত করে।তাদের মধ্যে ইচ্ছাশক্তি আরো প্রবল হয়। সৃষ্টির আনন্দ তাকে সাফল্যের সুউচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে।

 

মানব কল্যাণে অবদান রেখে সৃষ্টির মাঝে বেঁচে থাকার চেয়ে বড় স্বপ্ন আর কি হতে পারে! সাময়িক ভোগ বিলাসিতা কেবল সাময়িক সুখের অনুভূতি জাগাতে পারে মাত্র। যা ক্ষণস্থায়ী পরিতৃপ্তির সম্পূরক হিসেবে কাজ করে।নেতিবাচক স্বপ্ন লালন করে অপকৌশল আর লোভিত স্পৃহা ধারণ করে স্বঘোষিত বড় হওয়া বিত্তশালী ও ক্ষমতাশালীর নামান্তর।

 

যা সৃষ্টির আড়াল হলেই দৃষ্টির বাইরে মহাশূন্যতায় হারিয়ে যায়।নেতিবাচক স্বপ্নটির মৃত্যু হয়।কিন্তু ইতিবাচক স্বপ্নের কখনও মৃত্যু হয় না।কালের আবর্তে যুগ থেকে যুগান্তরে ছড়িয়ে যায় স্বপ্নের অঙ্কুরিত বীজ। যা প্রকৃতির অবলীলায় পায় পূর্ণাঙ্গতা।শক্ত শিকড়ে দৃঢ় অবলম্বনে প্রশান্তি ও মুক্তির ছায়া দিয়ে যায় স্রষ্টার সৃষ্টিকে।যে সৃষ্টির কোলাহল,গতির উম্মাদনা,প্রাণের উচ্ছ্বাস আর মুক্তির আনন্দ সর্বত্র অনুভব করেন জগতে সেই তো মহান।

 

সেই তো বড়,অ-নে-ক বড়।গিরি থেকে পতিত অম্বুরাশি পাথরের বুকে আঘাত হেনে চতুর্দিকে যে সৌন্দর্য্যের সৃষ্টি করে তা নিতান্তই মুগ্ধ চোখের মনোরঞ্জনের জন্য, নিজের জন্য নয়।আর এ জন্যই ঝরণা চিরকাল শ্বাশত রুপে প্রকৃতির বুকে প্রেয়সী রুপসী হয়ে রুপের আলোয় আলোকিত করে পৃথিবীকে করেছে ছন্দময়।