আজ ৯ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২৪শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

গোটা বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড়, বিশ্ব নবীর অবমাননার জন্য ফ্রান্স সরকারকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতেই হবে

কৃষকের আমন ধান চাষ করে ধান উৎপাদন করতে সার, বীজ, কীটনাশক, নিড়ানী, কৃষি শ্রমিক ইত্যাদিতে কি পরিমান ব্যয় এবং বর্তমানে ধানের বাজার মূল্যেতে কি কৃষক লাভবান হবেন না ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ধান চাষে অগ্রহ হারাবেন না ধান চাষে আগ্রহ ফিরে পাবেন এ সম্পর্কে লিখার জন্য, তথ্য উপাত্ত নিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলাম এমন সময় রেডিও, টেলিভিশন, জাতীয়, স্থানীয়, অনলাইন পত্র পত্রিকায় বাংলাদেশের শহর, বন্দর গ্রামগঞ্জসহ গোটা বিশ্বে একটি একটি বিষয়ে প্রতিবাদের ঝড় বইয়ে, উত্তাল বিশ্ব, প্রতিবাদ বিক্ষোভ, মানববন্ধন, স্মারক লিপি প্রদান, দুতাবাস ঘোরাও, চীন, ফ্যান্স দেশের পুন্য বর্জন অব্যাবহভাবে চলছে সেটা হলো ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কর্তৃক মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ থেকে বিরত না থাকার ঘোষণায় তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন অব্যাহত রয়েছে বাংলাদেশ, আরবসহ সমগ্র মুসলিমবিশ্বে। জোরদার হচ্ছে ফরাসী পণ্য বয়কটের আহ্বান।

চীনের উইঘুর মুসলিমদের উপর অমানবিক নির্যাতন এবং সারা বিশ্বের মুসলিমদের উপর পাশবিক নির্যাতন সহ ফ্রান্সে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করে রাসূল (সাঃ) কে অবমাননা করেছেন। ‘ফান্সে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে ইসলামকে অবমাননা করে রাসুল (সা.)-কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ উত্তাল গোটা বিশ্ব। শুধু ফ্রান্সে নয়, বিশ্বের অনেকগুলো দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে।
ধর্ম প্রান মসুলমান, মহানবী, রাসুলকে কতটা ভালোবাসেন তা রক্ত দিয়ে প্রমাণ করে দিতে সদা প্রস্তুত।
এ দিকে গত শুক্রবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জামে মসজিদে খুৎবায় কুরআন হাদীসের আলোকে বক্তব্য প্রদান করেন এবং ফ্রান্সে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর ব্যাঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করে রাসূল (সাঃ) কে অবমাননা করায় এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফ্রান্সে নবী সাহেবের যে অবমাননা করছেন তার দাঁত ভাঙা জবাব দিতে হবে যেন আর কোন রাষ্ট্র এ ধরনের কাজ করার সাহস না পাই। আরও জুমার খুৎবাপূর্ব বয়ানে বলেছেন, ঈমামগণ বলেছেন, মহান আল্লাহর পর যিনি সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী তিনি হলেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)। রাস্তায় চলার সময় পাহাড়, বৃক্ষ ও পাথরও তাঁকে সালামের হাদিয়া পেশ করে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। তাঁর আঙ্গুলের ইশারায় চন্দ্র পর্যন্ত দ্বি-খন্ডিত হয়েছে। মহান রাব্বুল আলামীন তাঁকে সমগ্র জগতের জন্য রহমত করে প্রেরণ করেছেন। কাল ক্বিয়ামতের দিন যখন সবাই চিৎকার করবে নাফসী নাফসী করে তখন তিনি কাঁদবেন উম্মাতী উম্মাতী করে। তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। তাঁর উম্মত হতে পারা আমাদের জন্য এক পরম সৌভাগ্য ও পরিতৃপ্তির বিষয়। আর তাঁর প্রতি কোনরূপ বিদ্বেষ পোষণ করা অপরিণামদর্শিতা বৈ আর কিছুই নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ফরমান তোমরা যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর তবে জেনে রেখ আল্লাহ, জিব্রাঈল এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তু ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী। (সূরা তাহরীম, আয়াত-৪) অন্য আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, নবী আমার! বিদ্রপকারীদের বিরুদ্ধে আপনার পক্ষে আমি একাই যথেষ্ট। (সূরা হিজর,আয়াত-৯৫)। মাওলানা আফেন্দী আরো বলেন, ফরাসি প্রেসিডেন্ট রাসূল (সা.) এর অবমাননাকে সমর্থন ও প্রশ্রয় দিয়ে চরম ধৃষ্ঠতাপূর্ণ আচরণ করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর রাসূল (সা.) এর সম্মান সুরক্ষিত না থাকলে আমাদেরও বেঁচে থাকার কোন স্বার্থকতা নেই। অনুপ্রেরণামূলক হাদিস গুলো আপনাকে জীবনের যে কোনও ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা পেতে সাহায্য করবে। সত্যি কথা বলতে, রাসুল (স:) এর প্রতিটি বাণীতেই অনুপ্রেরণার উৎস রয়েছে।
ইসলামিক জীবন ব্যবস্থা যেসব জিনিসের ওপর দাঁড়ানো, তার প্রধান একটি হল হযরত মোহাম্মদ (স:) এর বানী ও জীবনাচরন। নবীজীর জীবনাচরন ও বাণী গুলোই হাদিস। আল্লাহ রব্বুল আলামীনের বাণী – অর্থাৎ কুরআনকে বুঝতে হলে, এবং ইসলামের আদর্শে সঠিক ভাবে জীবন পরিচালনা করতে হলে হাদীস জানা ও চর্চা করার কোনও বিকল্প নেই। অনুপ্রেরণামূলক হাদিস আপনাকে সাহায্য করবে – সেগুলো সততা, সাফল্য, ও নৈতিকতার সাথে জীবন যাপন করতে এবং যে কোনও অবস্থায় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে আপনাকে অনুপ্রেরণা দেবে। তাহলে চলুন, সর্বকালের শ্রেষ্ঠ নেতা ও মোটিভেটর হযত মোহাম্মদ (স:) এর বানী গুলি পালন করি তা হলে বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তি বিরাজ করবে। জেনে থাকা দরকার গির্জায় মুহাম্মদ (স.)-এর কার্টুন: এ কারণেই কি ‘অভিশপ্ত’ ইতালি? বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত যে দেশটি সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থায় আছে, সে দেশটি হচ্ছে ইতালি। চীনের অবস্থাও একই। মৃত্যুর মিছিল যেন কোনভাবেই থামাতে পারছে না ইতালীয় প্রশাসন। সর্বশেষ দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার মানুষ।
খোদ ইতালীয় প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কোঁতে মন্তব্য করেছেন, ‘আমরা মহামারীর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। শারীরিক ও মানসিকভাবে মারা গেছি আমরা। আর কী করতে হবে, জানি না। পৃথিবীর সব সমাধান শেষ হয়ে গেছে। এখন সমাধান শুধু আকাশে রয়েছে।’ এমন পরিস্থিতিতে উঠে এসেছে ইতালির আরেক ইতিহাস। অনেকে বলছেন, ওই ঘটনার কারণেই ইউরোপের এক ‘অভিশপ্ত দেশ’ ইতালি। সেই অভিশাপই দেশটিকে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তবে কী সেই ইতিহাস? এখান থেকে ফ্রান্সের শিক্ষা গ্রহন করা উচিৎ ধর্ম প্রাণ মসুলমানগণনে করেন।

রেনেসাঁ যুগে ইতালির বিখ্যাত শিল্পীদের একজন Giovanni da Modena। ঠিক ৬১০ বছর আগে নবী মুহাম্মাদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র এঁকেছিলেন এই শিল্পী। পুরনো সেই ব্যঙ্গচিত্র আজও রক্ষিত আছে ইতালির শহর বোলোগনার একটি ক্যাথলিক গির্জায়। যে ব্যঙ্গচিত্রে দেখানো হয়েছে, মহানবী (স.)-কে নির্যাতন করছে দোজখের রক্ষীরা (নাউজুবিল্লাহ)। ওই গির্জার নাম San Petronio Basilica। ২০০১ সালে প্রথম ইতালির মুসলিমরা ব্যঙ্গচিত্রটি ধ্বংস করার দাবী তোলে। কিন্তু ইতালি সরকার সে দাবীকে পাত্তা না দিয়ে উল্টো মুসলিমদের দমানোর জন্য ২০০২ সালে ৫ জন মুসলিমকে গ্রেপ্তার করে। সরকার দাবি করে, ওই গির্জায় হামলার পরিকল্পনা করছিলেন তারা। ওই ঘটনার পরপরই মূলত ইউরোপে মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র নির্মাণের একটি প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ইউরোপীয় রাষ্ট্র ডেনমার্কের জিল্যান পোস্টেনে মহানবী (স.)-এর ১২টি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে। এরপর ২০০৬ সালে নরওয়ে ওই কার্টুনগুলো তাদের দেশে পুনরায় প্রকাশ করে। পরে ১ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং স্পেন মিলে মুহাম্মাদ (স.)-এর কার্টুনগুলো আবার প্রকাশ করে। ৮ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের পত্রিকা শার্লি হেবদো প্রথম পাতায় বড় করে একই ধরনের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এই সবগুলো দেশেই করোনা ভয়ংকর মহামারী হয়ে দেখা দিয়েছে। এক পর্যায়ে স্পেন অনেকটা নতি স্বীকার করে দেশটিতে উচ্চস্বরে আজান দেয়ার ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছে। এখন দেখা যাক, ইতালি কোন পথে এগোয়! এদিকে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি এসে ইতালি সরকারের এক মন্ত্রী ঘোষণা করে, মহানবী (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র দিয়ে টি-শার্ট বানিয়ে সবার মধ্যে বিলি করবে সে। এপ্রিল মাসে ইতালির ক্যাথলিক সট্যাডি (Studi Cattolici) নামের একটি খ্রিস্টান ধর্মীয় পত্রিকা ‘San Petronio Basilica’ গির্জায় সংরক্ষিত Giovanni da Modena ব্যঙ্গচিত্রের অনুকরণে নতুন কার্টুন প্রকাশ করে। এরপরই খুব দ্রুত এই কার্টুনের বিষয়টি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৭ সাল থেকে ইসলাম ও মুহাম্মদ (স.)-এর ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে ব্যাপক কাজ শুরু করে নেদারল্যান্ডসের এমপি গ্রিট উইল্ডার্স। পরে এ নিয়ে বিভিন্ন দেশে প্রদর্শনী হয়। কয়েকটি ইসলামবিদ্বেষী চলচ্চিত্রও হয়। পুরো বিষয়টি তখন ইউরোপের দেশগুলোর জনগণের পৃষ্ঠপোষকতা পায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহাদেশজুড়ে অভিবাসনবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। কারণ সেসব দেশে বেশিরভাগ অভিবাসীই ছিল মুসলিম। এসব ঘটনায় বাংলাদেশেও এক পর্যায়ে সেই ইউরোপের পরিকল্পিত ইসলামবিদ্বেষী কার্যক্রম শুরু হয়। উত্থান ঘটে ইসলামবিদ্বেষী বিভিন্ন ব্লগারের। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে তাদের দেয়া হয় পৃষ্ঠপোষকতা।আর এই কার্যক্রমের শীর্ষে আছে ইউরোপভিত্তিক সংস্থা ‘পেন ইন্টারন্যাশনাল’, যার প্রধান কার্যালয় ব্রিটেনে। কিছু বাংলাদেশি ছেলেকে তারা টাকা দিয়ে কিনে নেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দেয়া হয় ইউরোপ ভ্রমণের ভিসা। গত দুই দশকে বিশ্বজুড়ে মুহাম্মদ (স.), কুরআন এবং ইসলাম নিয়ে যে ব্যঙ্গচিত্র কার্যক্রম, তা কিন্তু শুরু হয়েছিলো ইতালির গির্জার সেই ব্যঙ্গচিত্র কেন্দ্র করেই। সম্প্রতি চীন ও ইতালিতে নামক রাষ্ট্র ২টিতে করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত হওয়ার পর এ নিয়ে নানা প্রশ্ন শুরু হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এত উন্নত দেশ হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুর মিছিল ইতালিতে থামছে না। চীনের অবস্থা একই। অনেকেই দাবি জানিয়েছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইতালির উচিত ব্যঙ্গচিত্রটি ধ্বংস করে ফেলা। এছাড়া অতীতের ইতিহাস থেকে দেখা যায়, ১৪১০ সালের যে সময়টায় ইতালিতে মুহাম্মদ (স.)-এ ব্যঙ্গচিত্র আঁকা হয়েছিল, সে সময়ে ইতালিসহ পুরো ইউরোপজুড়ে চলছিল ভয়ংকর ব্ল্যাক প্লেগ। ১৪২০ সালের পরে গিয়ে থামে সেই মৃত্যুর মিছিল। এরপর প্রতি প্রায় ১০০ বছর পরপর মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছে বিশ্ব। যেমন ১৫ শতকের ১০ এর দশকে, ১৬ শতকেরও একই সময়ে এবং ১৭, ১৮, ১৯ ও ২০ শতকের এই সময়গুলোতে। এসব মহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইউরোপ। চলতি বছরের করোনা ভাইরাসও এর সাক্ষী।বেদনাদায়কভাবে আবারো তাওহীনে রেসালাত বা প্রায় পৌনে দু’শ কোটি মুসলমানের প্রাণপ্রিয় নবীজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি গোস্তাখির ঘটনা ঘটেছে ফ্রান্সে। পরের ঘটনাটি ঘটেছে অনেক ব্যাপক পরিসরে, দম্ভের সাথে। ফ্রান্সে প্রথমে যারা নবীজীর প্রতি গোস্তাখি করেছিল, তারা ছিল গুটিকয়েক মানুষ, আর তাদের অপকর্ম ছিল সীমিত পরিসরে। তারপরও সেটি ছিল এক ক্ষমাহীন ধৃষ্টতা। প্যারিসের শার্লি এবদো পত্রিকার কথাই আমরা বলছি। তারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুন প্রকাশ করেছিল। একই কাজ বারবার করেছিল। এরপর কিছু বন্দুকধারী কর্তৃক পত্রিকার সম্পাদক ও একজন কার্টুনিস্টসহ ডজনখানেক লোককে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার জের ধরে পরের দিন আরো পাঁচ জন রাজপথে নিহত হয়। ঘটনাটি ঘটেছিল জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে। এরপরই শুরু হয় নবীজীর প্রতি অবমাননামূলক ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের উদ্ধত মহড়া। মিলিয়ন মার্চ নামে ৪০ জনেরও বেশি বিশ্বনেতার (রাষ্ট্র পরিচালক) নেতৃত্বে কয়েক লাখ লোক শার্লি এবদো পত্রিকার পক্ষে এবং নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শোভাযাত্রা বের করে।গ আর সেই শোভাযাত্রায় তারা কুখ্যাত ব্যঙ্গ কার্টুন সংবলিত ফেস্টুন বহন করে। তাদের উৎসাহ ও সমবেদনার ধাক্কায় শার্লি এবদো নামের ম্যাগাজিনটি প্রায় ৫০ লাখ কপির একটি সংস্করণ প্রকাশ করে এবং সেই সংস্করণের প্রচ্ছদে নতুন করে আবার ধিকৃত ব্যঙ্গচিত্র ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করা হয়, যেখানে তার নিয়মিত প্রকাশনা ৬০ হাজারের মত।
শার্লি এবদো কর্তৃপক্ষ এই ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস পেয়েছে তাদের প্রতি প্রকাশ করা সহানুভূতি ও নিরঙ্কুশ সমর্থনের কারণে। হাস্যকর ব্যাপার হল, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মতো গাজায় তাজা শিশু হত্যাকারী রাষ্ট্রনায়কও ছিল ওই বিশ্বনেতাদের তথাকথিত শান্তিমার্চের সারিতে। রাসূলে কারীমের প্রতি অবমাননাকারী পত্রিকা কর্তৃপক্ষের প্রতি নিঃশর্ত সমর্থনের কারণে অবমাননাকর পরিস্থিতি এভাবেই আরো অবনতির দিকে যায়। ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশে মসজিদগুলোতে হামলা হয়। নিরীহ মুসলমানদের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যায়। সন্ত্রাস ও আবেগ-উন্মাদনার অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের অভিযুক্ত করা হতে থাকে। এ অভিযোগ ও বাচনিক আক্রমণের জের ধরেই মুসলিমবিশ্বের রাজনৈতিক নেতারাও শার্লি এবদোর রাসূল অবমাননাকারী কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা করে বিবৃতি দেন। কিন্তু শার্লি এবদোর ন্যক্কারজনক কান্ডের কোনো প্রতিবাদ করতে সাহসী হন না। কয়েকজন মুসলিম প্রতিনিধি প্যারিসের কথিত মিলিয়ন মার্চেও যোগ দিয়েছিলেন। অবশ্য মরক্কোর প্রতিনিধি মিছিলে শার্লি এব্দোতে প্রকাশিত কার্টুন সংবলিত ফেস্টুনের ব্যবহার দেখে মিছিল বয়কটও করেন। সবকিছু মিলিয়ে শার্লি এবদো অফিসে হামলা ও হত্যার প্রেক্ষাপটে গোস্তাখে রাসূলদের পক্ষেই পশ্চিমা দেশ ও গণমাধ্যমের বড় অংশ জোরালো ভূমিকা রাখতে শুরু করে। আর ঢালাওভাবে মুসলমানদের দোষারোপ করা হতে থাকে।
অথচ শার্লি এবদো অফিসে বন্দুক নিয়ে গিয়ে ওই হামলাটি কারা করেছে- সে ব্যাপারে প্রমাণিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ নিশ্চিত হতে পারেনি। অভিযুক্ত দু’জন হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী তারা ছিলেন হামলাকারীদের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আদালতের মাধ্যমে কিংবা প্রমাণিত হওয়ার কোনো স্বীকৃত উপায়ে এ অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি। নিহত দু’জনকে বলা হচ্ছে মুসলিম এবং একই সঙ্গে হামলাকারী। তাই ফ্রান্সে বসবাসরত এবং ইউরোপে অবস্থানকারী মুসলমানদের নানাভাবে নাজেহাল করা হচ্ছে। কিন্তু বিদেশি পত্রিকার পরিবেশিত তথ্য অনুযায়ী প্যারিসের পুলিশের প্রচারণার বিপরীতে ফ্রান্সের রাজনৈতিক দল-ফ্রন্ট ন্যাশনালের সাবেক প্রধান দাবি করেছেন, প্যারিসে শার্লি এবদোতে হামলার ঘটনাটি ছিল আমেরিকা ও ইসরাইলি এজেন্সিগুলোর যৌথ ষড়যন্ত্র। তিনি বলেছেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য রয়েছে যে, ইসলাম ও পশ্চিমাদের মাঝে দূরত্ব ও যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টির জন্য এই কান্ডটি ঘটানো হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়ায় আমেরিকা ও ইসরাইল অসন্তুষ্ট ছিল। ষড়যন্ত্রমূলক এই হামলাটি ছিল সেই স্বীকৃতিরই প্রতিশোধ।
এ কথা ঠিক যে, শার্লি এবদোতে কারা হামলা করেছে নিশ্চিতভাবে সেটা প্রমাণিত হয়নি। একই সঙ্গে এটাও সত্য যে, হামলাকারীরা আইন নিজ হাতে তুলে নিয়েছেন এবং নিজ দেশীয় আইন লংঘন করেছেন। এজাতীয় আইন-অমান্যকারীরা সাধারণত বিভিন্ন পর্যায়েই নিন্দিত হয়ে থাকেন। কিন্তু হামলাটি কি প্রকৃতই মুসলমানদের কোণঠাসা করার ষড়যন্ত্র কি না সেটিও দেখার বিষয় রয়েছে। এবং এ জাতীয় হামলার উস্কানি দেওয়া ও প্রেক্ষাপট তৈরির পেছনে যারা ভূমিকা রেখেছিল তারাও কাদের হয়ে কাজটি করেছিল সেটিও খুঁজে দেখা দরকার। মূলত যারা হামলা করেছে, তাদের নিন্দা করতে হলে যারা কার্টুন ছাপিয়ে হামলার ক্ষেত্র তৈরি করেছে বলতে হবে, তারা অনেক বেশি নিন্দা ও ধিক্কারের কাজ করেছে। এ পর্যায়ে আমরা বলতে পারি, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এবং বে-আইনি কাজ ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে মার্চ বা শোভাযাত্রার মাধ্যমে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়া ভালো কাজ। কিন্তু এ ভালো কাজেরও আগের কাজ হচ্ছে শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উপাদান (নবীজীর অবমাননা) নিঃশেষ করে দেওয়া এবং উস্কানিদাতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হাতগুলোকে নামিয়ে দেওয়া। বিশ্বনেতারা পরের কাজটি করেছেন পরম উৎসাহে। কিন্তু আগের কাজটি একদমই করেননি; বরং তারা তাদের করণীয়ের বিপরীত ভূমিকা রেখেছেন। অথচ যদি তারা আগের কর্মটি করতেন, ১৭০ কোটি মুসলমানের প্রিয়নবীর অবমাননার প্রতিবাদ করতেন, শার্লি এবদোর ঘৃণ্য (কার্টুন) কর্মকান্ডের নিন্দা জানাতেন তাহলে অনেক ভালো করতেন। এতে উত্তেজনা প্রশমিত হত এবং প্রথম গর্হিত অন্যায়ের কর্তারা আস্কারা পেত না। দুঃখের বিষয় হল, ওটা তো তারা করেনইনি, উল্টো সবাই কার্টুন সংবলিত ফেস্টুন বহন করেছেন। কেউ কেউ এমন ফেস্টুন নিজের গায়ে পরিধান করেছেন- যেখানে লেখা ছিল -আমি শার্লি। এতে ওই পত্রিকা
আরো আস্কারা ও উৎসাহ পেয়েছে এবং এ কারণেই দ্বিগুণ উৎসাহে নবী-অবমাননার ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস পেয়েছে।
বিশ্বনেতাদের একপেশে ও হঠকারিতাপূর্ণ এই আচরণে দেশে দেশে আরও রক্তক্ষয়ের পথ তৈরি হয়েছে। নাইজারে গত কয়েকদিনে প্রায় ১০ জন বিক্ষুব্ধ নবীপ্রেমিকের মৃত্যু হয়েছে। পৃথিবীজুড়ে পৌনে দু’শ কোটি মানুষের হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। প্রিয়নবীর অবমাননাকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে কথিত বিশ্বনেতারা যেভাবে বৈধতার সনদ দিলেন তাতে নবীজীর উম্মতিদের হৃদয়ে হতাশা নেমে আসতে বাধ্য। এ হতাশা ও মর্মবেদনা নিঃসন্দেহে অনেক সংক্রামক ও শক্তির ধারক হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই বিশ্বের একটি চক্র আবার ক্রুসেডের অবতারণা করতে চায় পৃথিবীতে। এজন্য তারা বারবার বিনা কারণে মুসলমানদের অন্তরে জ্বালা সৃষ্টি করছে। এর জন্য ঠুনকো একটি অজুহাত ও শেস্নাগান তারা ব্যবহার করছে। তারা বলছে, এসবই মত প্রকাশের স্বাধীনতা। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে। কে কার অবমাননা করছে সেটা বড় কথা নয়, বরং কারো মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করা যাবে না। কোনো মহান সত্তার অবমাননা করলেও করতে দিতে হবে। মূলত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার শিরোনামে তারা নিজেদের কিছু গোষ্ঠীকে মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করার সুযোগ করে দিয়ে থাকেন। অথচ এ স্বাধীনতাটি যে শর্তযুক্ত তা তো পুরো বিশ্বেই স্বীকৃত। আমাদের দেশের কথাই ধরা হোক। এখানে প্রধানমন্ত্রী বা সাবেক কোনো বড় নেতার অবমাননার জন্য ইতিমধ্যেই শাস্তি হয়েছে। আদালত অবমাননার শাস্তি তো হরহামেশাই হয়ে থাকে। ধরা যাক আমেরিকা, বৃটেন বা ফ্রান্সের কথা। সে দেশের কোনো নাগরিক কি তাদের সামনে গিয়ে যাচ্ছেতাই গাল-মন্দ করতে পারবে? না আজ পর্যন্ত করতে পেরেছে? এরই মধ্যে খ্রিস্টান ধর্মের বর্তমান প্রধান পোপ স্বীকার করে বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতার সীমা থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই মতপ্রকাশের কথা বলে কোনো ধর্মের বা গোষ্ঠীর শ্রদ্ধার পাত্রকে আঘাত বা অবমাননা করা যাবে না। সুতরাং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে নবী-অবমাননার ঘটনাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অগ্রহণযোগ্য ও উস্কানিমূলক একটি প্রবণতা।
মুসলমানরা এমনিতেই অপরের শ্রদ্ধাভাজনদের অসম্মান করা থেকে বিরত থাকার শিক্ষা পেয়ে থাকে। কাউকে পীড়া দেওয়া, কষ্ট দেওয়া, আহত করার অনুমোদন ইসলাম দেয় না। অপর দিকে ধর্মীয়ভাবেও ইহুদী-খ্রিস্টানদের সাথে বিরুদ্ধতা থাকলেও তাদের নবীকে মুসলমানরা কখনো গালি দেয় না- গালি দিতে পারে না। ইহুদী-খ্রিস্টানরা মুসলমানদের নবীকে গালি দিলেও মুসলমানরা এর উল্টোটা করে না এবং করতে পারে না। কারণ হযরত মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামকে সম্মান করা মুসলমানদের ঈমানের অঙ্গ।
পশ্চিমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, মুসলমানরা আবেগপ্রবণ, মাথাগরম। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে নবীর প্রতি বিষোদ্গার এবং ঘৃণা প্রকাশের মতো জঘন্য কাজগুলো তারাই করছে, মুসলমানরা নন। তারপরও দোষ দেওয়া হচ্ছে মুসলমানদের।
শার্লি এবদোর প্রতি পশ্চিমা নেতাদের হাঁকডাক করে নিঃশর্ত সমর্থনদান বেশ কয়েকটি বিষয় ও ইস্যুকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই পৃথিবীর বহু দেশে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ইরাকে ১০ লাখ, ফিলিস্তিনে শিশুসহ হাজার হাজার, মিয়ানমারে মুসলমানদের হত্যা করে বাড়িঘর-ছাড়া করে দেওয়া হচ্ছে। হত্যা চালানো হচ্ছে আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও চীনে। এত অসংখ্য মুসলমানের হত্যা ও নিপীড়নের শিকার হওয়ার পরও বিশ্বনেতাদের একটি মিলিয়ন মার্চ তো দূরের কথা ২০-২৫ জনের ব্যানার-খবরও প্রকাশ হয়নি। কোনো যৌথ বিবৃতিও শোনা যায়নি। অথচ অপদার্থ ও অবমাননাকারী একটি পত্রিকার জন্য বিরাট হাঁকডাক দিয়ে বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণে মিলিয়নমার্চ করা হল। এতে মূলত কতটা ভারসাম্যপূর্ণ-ন্যায়ানুগ ও যৌক্তিক আচরণের নজির দুনিয়ায় স্থাপিত হয়েছে?
মুসলিম রাষ্ট্রগুলো পর্যন্ত শার্লি এবদোতে নবীজী অবমাননাকারী সম্পাদক-কার্টুনিস্ট হত্যার নিন্দা করল, কিন্তু বারবার নবীজীর যে ব্যঙ্গচিত্র ছাপানো হয়েছে শার্লি এবদোতে তার কোনো নিন্দা করল না এবং প্রতিকার চাইল না। এর মানে হল, শার্লি এবদোর অমার্জনীয় অপরাধ তাদের কারো চোখে ধরাই পড়ছে না। তারা শুধু পরের ঘটনাকেই বড় করে দেখছেন। আগের বর্বরতা ও ন্যক্কারজনক কান্ডের কিছুই দেখতে চাচ্ছেন না। এখন পর্যন্ত ওআইসির একটি জরুরি সভা করার প্রয়োজনীয়তাও তারা অনুভব করেননি।
আমরা মনে করি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা ও সীমা আলোচনা করে ঠিক করতে হবে এবং সেটা সবাইকে মানতে হবে। যারা এর বিরোধিতা করবে এবং স্বেচ্ছচারিতার পথে যাবে তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দোহাই দিয়ে যখনই মুসলমানদের ধর্মানুভূতিতে আঘাত আসবে তখন বিশ্বের মুসলমানদের উচিত হবে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থেকে নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবাদ জানানো। নিজেদের গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে নিজ নিজ সরকারকে বাধ্য করতে হবে ওই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালো প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করার। নিজ নিজ দেশে কূটনীতিকদের স্মারকলিপি দিয়ে প্রতিবাদ তুলে ধরতে হবে।
অবশ্য এ প্রসঙ্গে একটি কথা বলে রাখা ভালো যে, হুবেব নবী বা নবীপ্রেম উম্মতির জীবনে এমন এক হৃদয়-ভেজানো অধ্যায় যে, যারা নবীর ইশকে পড়ে যায় দুনিয়ার কোনো প্রাচীর, কোনো নিয়ম কিংবা ফতোয়া তাদের আবেগের গতি রোধ করতে পারে না। ধৃষ্ট নবী-অবমাননাকারীর টুটি চেপে ধরার জন্য সব কিছুই তারা উপেক্ষা করতে পারে। সুতরাং যতদিন নবী অবমাননার গোড়ায় হাত না দেওয়া হবে, যতদিন এসব নবী-অবমাননাকারীদের প্রতি হামলার কারণ বন্ধ না করা হবে ততদিন পর্যন্ত তাদের থামানো যাবে না। গাজী আলীমুদ্দীন অথবা মুমতাজ কাদেরীর মতো উৎসর্গিত প্রাণ যখন-তখন যে কোনো দেশে দাঁড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, অবমাননার ঘটনা নবীর প্রেমে পাগল এসব বান্দাদের হঠাৎ-ই দাঁড় করিয়ে দেয়। এদের কে কবে কোথায় থামাতে পেরেছে? অতএব এদেরকে দমিয়ে দেওয়ার কসরত করার চেয়ে এমন লোক ও এমন অবস্থা যেন সৃষ্টিই না হয় সেদিকে মনোযোগ দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
মহানবী (সা.) কে অবমাননা: করায় ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়ে হ্যাশ ট্যাগ (#BoycottFrenceProducts) ব্যবহার করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা। তাদের এ আন্দোলনে ব্যাপক সাড়া মিলেছে বিশ্বব্যাপী।ইতোমধ্যে কুয়েতের বিভিন্ন মার্কেট থেকে ফ্রান্সের পণ্য সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর নানা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। অনেকেই হ্যাশ ট্যাগের সঙ্গে জুড়ে দিচ্ছেন এসব ছবি ও ভিডিও। গত ১৬ অক্টোবর ফ্রান্সের প্যারিসের শহরতলী এলাকায় এক স্কুলশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স পুলিশের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ১৮ বছর। তিনি চেচেন জাতিগোষ্ঠীর এবং জন্ম রাশিয়ার মস্কোতে। নিহত ওই শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়াতেন। ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ ক্লাসে তিনি শিক্ষার্থীদের মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখিয়ে ছিলেন। তারপর তাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ফ্রান্সের পুলিশ দেশটির অন্তত ৫০টি মসজিদ মুসলিম-অধ্যুষিত এলাকায় ভয়াবহ অভিযান চালায়। সাড়ে পাঁচ বছর আগে হজরত মুহাম্মদ (সা.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপানোর পর ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। আবারও সেটি ছাপিয়েছে ম্যাগাজিনটি। এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও এর পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, হজরত মুহাম্মদের (সা.) বিতর্কিত কার্টুন ছাপানো নিয়ে নিন্দা জানাবেন না। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন বন্ধে ব্যবস্থা না নেয়া এবং শার্লি এবদোর পক্ষে অবস্থান নেয়ার পর মুসলিম বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়ছে মুসলিম দেশগুলো। তারই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে ফ্রান্সের সব ধরনের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে কুয়েত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী বিশেষ করে টুইটার ও ফেসবুকে ফ্রান্সের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেস বার্গের বাসিন্দা ফাতিমা সায়েদ তার প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, আমি কুয়েতকে তাদের ন্যায়বিচারের জন্য ভালোবাসি। তারা ইউরোপিয়ান এবং পশ্চিমাদের বাজে কথাবার্তার প্রতিবাদ করার জন্যও সাধুবাদ জানাই। ইব্রাহীম মাইনা নামের কেনিয়ার এক নাগরিক লেখেন, তাদের (ইউরোপিয়ান) বিশ্বাস করবেন না। এরা সবাই ইসলামের শত্রু। তাই আপনি কী কিনছেন, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তারা খাবারে বিষ প্রয়োগও করতে পারে। আয়শা সিদ্দিকা নামে এক বাংলাদেশি প্রতিবাদকারী হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে ফেসবুকে লেখেন, ফ্রান্সের দুটো সরকারি বিল্ডিংয়ে নবীজির ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হচ্ছে। সম্প্রতি ফ্রান্স সরকার ৬৮টি মসজিদ ও মাদ্রাসা বন্ধ করে দিয়েছে। আরও অসংখ্য মসজিদ-মাদ্রাসা বন্ধের তালিকায় আছে। আন্দোলনকারীরা ফেসবুক পোস্টে ফ্রান্সের বিভিন্ন কোম্পানির একটি তালিকা প্রকাশ করছেন। যেখানে ফ্রান্সের মালিকানাধীনা কোম্পানিগুলোর লোগো ও নাম ব্যবহার করা হয়েছে। এরই মধ্যে ফ্রান্সের সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দেয়ালে শার্লি এবদোর সেই বিতর্কিত ১২টি কার্টুন প্রদর্শন করা হচ্ছে। দেশটির সরকার এবং কয়েকটি গণমাধ্যমের এমন সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি)। ফ্রান্সের কয়েকটি ভবনের সামনে এবং সরকারের সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে ইসলামকে সম্পৃক্ত করা এবং নবী মুহাম্মদকে অপমানজনক প্রচারণার সমালোচনা করেছে সংস্থাটি। ওআইসির বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননা, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে ক্রমাগত আঘাতের নিন্দা জানাই। রাজনৈতিক স্বার্থে ফ্রান্সের নাগরিক ও ইসলামকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর ঘৃণ্য চেষ্টা করছেন কতিপয় ফরাসি কর্মকর্তা। বাক-স্বাধীনতার নামে কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্থাটি ফ্রান্সকে তার বৈষম্যমূলক নীতিগুলো পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে ১৯৪৭ সালের ১০ ডিসেম্বর সবার জন্য মানবাধিকারবিষয়ক একটি ঘোষণাপত্র জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন গৃহীত হয়। এটি গোটা বিশ্বের মানুষের মানবাধিকারের দলিল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফ্রান্সের ইসলামবিদ্বেষী এ অবস্থান জাতিসংঘের সেই ঘোষণাপত্রটি সরাসরি লঙ্ঘন করে। সেখানে প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়:
পৃথিবীর সব মানুষ সমান অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তাদের অধিকার ও মর্যাদা সমান। প্রত্যেকেই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ একটি সম্পর্ক বজায় রাখবে, একে অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করবে। কিন্তু ফ্রান্সের ইসলামবিদ্বেষী আচরণ, তার কার্টুন প্রদর্শন সরাসরি জাতিসংঘের এ ঘোষণা লঙ্ঘন করে। এতে কার্যকত জাতিসংঘকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করেছে ফ্রান্স।
ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী, হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। তার কোনও ধরনের অবয়ব আঁকা ধর্ম অবমাননা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই এবারও হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন নিয়ে মুসলিম বিশ্বে চরম সমালোচনা চলছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলে বিতর্কিত কার্টুনটির পক্ষেই অবস্থানের কথা জানালেন লেবানেন সফররত ফ্রান্স প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ।তিনি বলেন, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট কখনোই সাংবাদিকদের সম্পাদকীয় পছন্দ বা নিউজ রুমের বিচার করার অবস্থানে নেই। কারণ আমাদের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রয়েছে। ফ্রান্সের রম্য সাময়িকী শার্লি এবদো ২০১৫ সালে নবী মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে একটি কার্টুন প্রকাশ করে। এটি প্রকাশের পর প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলায় পত্রিকাটির ১২ সাংবাদিক নিহত হন। তবে কার্টুনটি প্রকাশ বন্ধ করেনি কর্তৃপক্ষ। সেই কার্টুনের ছবি পরে ফরাসি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। সে সময় শার্লি এবদো ৩০ লাখ কপি ছাপানো হয়। এমনিতে প্রতি সপ্তাহে পত্রিকাটি ৬০ হাজার কপি ছাপত। পাঁচ বছর আগের ওই হামলায় জড়িত সন্দেহে ১৪ জন কথিত ষড়যন্ত্রকারীর বিচার শুরু হয় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ। বিচার শুরুর একদিন আগে শার্লি এবদো বহুল বিতর্কিত ওই কার্টুন আবার প্রকাশ করে।বিচারের মুখোমুখি করা ওই ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, শার্লি এবদোতে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি দুই ভাই সাঈদ ও শেরীফ কুয়াচির চালানো বন্দুক হামলায় সহযোগিতা করেছিল তারা। কার্টুন ছাপার পর থেকে ফ্রান্সে ছুরি হামলার ঘটনা বেড়ে যায়। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ নিহত হন।

এ বছর বিচার শুরুর আগে শার্লি এবদোর মলাটে বিতর্কিত সেই ১২টি কার্টুন চিত্র আবার ছাপা হয়। এ কার্টুনগুলো শার্লি এবদোয় প্রকাশের আগে ডেনমার্কের একটি সংবাদপত্রেও ছাপা হয় ইসলামের মহানবী হযরত মুহাম্মদকে ব্যঙ্গ করে কার্টুন প্রকাশ ও এর পক্ষে অবস্থান নেয়ায় ফ্রান্সের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে গত মঙ্গলবার ঢাকায় ফরাসী দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশ আটকে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, “ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র কার্টুন প্রকাশ করায় সারা বিশ্বের মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। গোটা বিশ্বে ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের মাধ্যমে তাদের উচিত জবাব দিতে হবে।”
অচিরেই বাংলাদেশে জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকে নিন্দা প্রস্তাব নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির সাথে সকল প্রকার কূটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করার দাবি জানান তিনি। ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, ইসলামের অবমাননা এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তার পৃষ্ঠপোষকতা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ জানাতে হবে। তবে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ব্যাপারেও দ্বিমত পোষণ করেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. শামছুল আলম বেনারকে বলেন, “আল্লাহর রাসুলকে কেউ অপমান করুক সেটা কোনো মুসলমান বরদাশত করবে না। তবে প্রতিবাদ করতে হবে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম সেটাও প্রতিবাদের মধ্যে প্রমাণ রাখতে হবে।”
“পণ্য বর্জনের ডাক শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। কিন্তু দূতাবাস ঘেরাও কিংবা হঠাৎ করে কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্জনের দাবি জানানো সঠিক নয়। কারণ, ফ্রান্স জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র। পৃথিবীতে দেশটির গুরুত্ব আছে,” বলেন তিনি।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের উচিত ফ্রান্সের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানানো। রাষ্ট্র কথা বললে সাধারণে মানুষের ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হবে।”
এদিকে “ফ্রান্সের আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়,” বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহম্মদ শফিকুর রহমান।
তিনি বেনারকে বলেন, “সমাজে সকল ধর্মই থাকবে। তবে সবাইকে সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর প্যারিসের শহরতলী এলাকায় এক স্কুল শিক্ষককে গলা কেটে হত্যা করে ১৮ বছরের এক মুসলিম কিশোর।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওই শিক্ষক ক্লাসে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলাপকালে শিক্ষার্থীদের ইসলামের নবীর কার্টুন দেখিয়েছিলেন। এরপরই তাঁকে হত্যা করা হয়। বছর পাঁচেক আগে ইসলামের নবীর বিতর্কিত কার্টুন ছাপানোর পর ফ্রান্সের ব্যঙ্গাত্মক ম্যাগাজিন শার্লি এবদোতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। সাম্প্রতিক শিক্ষক হত্যার ঘটনার পরে আবারও সেই কার্টুন ছাপায় শার্লো এবদোতে।
এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠলেও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিষয়টির পক্ষ নিয়ে জানান, তিনি হজরত মুহাম্মদের বিতর্কিত কার্টুন ছাপানো নিয়ে নিন্দা জানাবেন না। পাশাপাশি বিচ্ছিন্নতাবাদী ও এসব হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই অবস্থানের প্রতিবাদে আরব উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের ডাক দেয়। ফলে বহু বিশ্বখ্যাত চেইন শপসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফরাসি পণ্য বিক্রি বন্ধ করেছে। তবে আরব দেশগুলোর প্রতি পণ্য বর্জন বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছে ফ্রান্স।
ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি
পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম এলাকায় দলটির কয়েক হাজার নেতাকর্মী জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে তাঁরা বিশাল মিছিল নিয়ে ফ্রান্স দূতাবাস অভিমুখে রওনা হন।
তবে দূতাবাস থেকে অন্তত ৮ কিলোমিটার দূরে শান্তিনগর এলাকায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে মিছিলের গতিরোধ করে পুলিশ। সেখানে পুলিশ ও মিছিলকারিদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়।
এই বিক্ষোভে ফ্রান্সের পতাকা এবং দেশটির প্রেসিডেন্টে ইমানুয়েল ম্যাক্রঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁর কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।
গত মঙ্গলবার বামপন্থী মোর্চা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান রুবেল যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্স ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।
তাঁরা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সরকারি ভবনে ইসলামের নবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা অন্যায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট যে ভাষায় কথা বলেছেন তা মুসলমানদের জন্য অপমানজনক এবং উস্কানিমূলক।
একই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্র মজলিস। মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশ শেষে এক সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিলও বের করে তারা।
মুসলিম বিশ্বের বৃহত্তম সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মুসলিমদের অনুভূতিতে আঘাত করে ফ্রান্স কর্তৃক ধর্মীয় প্রতীকের ধারাবাহিক অবমাননার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ওআইসি।’ এদিকে লেবাননের দারুল ইফতার মহাসচিব আমিন কুরদি এক বিবৃতিতে জানান, ‘মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর কটূক্তি মানুষের মধ্যে ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়াবে। স্বাধীনতার নামে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর অবমাননা জাতি-গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ও ধর্মীয় সংঘাত তৈরি করবে।’
ফ্রান্সে ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষ নিয়ে কুয়েতেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কুয়েতের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রধান মারজুক আল গানেম। এক সংবাদ সম্মেলনে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে ইসলামসহ বিশ্বের সব ধর্ম ও বিশ্বাসের অবমাননা বন্ধে জরুরি উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
স্বাধীনতার নামে চরমপন্থা প্রতিরোধে মুসলিম বিশ্বের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির আহ্বান করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমদ আল ফজল। মহানবী (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৫-২৯ অক্টোবর ফ্রান্স-কাতার সাংস্কৃতিক সপ্তাহ পালন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে কাতার বিশ্ববিদ্যালয়। তা ছাড়া ফ্রান্সের সব ধরনের পণ্য বর্জন শুরু করেছে কাতারের শীর্ষস্থানীয় কম্পানি আল মিরাহ কনজিউমার গুডস। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ থামবে না বলে ঘোষণার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক শুরু হয়। এরপর কাতার ও কুয়েতসহ আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ফ্রান্সের উৎপন্ন পণ্য বর্জন শুরু করেছে।
উল্লেখ্য গেলো কয়েক সপ্তাহ ধরে ইসলাম এবং মুসলমানদের আক্রমণ করে যাচ্ছেন ম্যাক্রোঁ। মুসলমানদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়েছেন। ইসলামকে সারাবিশ্বের জন্য সংকট বলেও অভিহিত
ফ্রাসের প্রেসিডেন্ট।
ফ্রান্সে মহানবী মুহাম্মদ (স.) কে নিয়ে কার্টুন প্রকাশ ও দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রোর ইসলাম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে আরব দেশগুলো সহ মুসলিম বিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ফ্রান্সের পণ্য বর্জন করছে ফেসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা। কিন্তু এর বিপরীত দিকে হাঁটছে ভারত। সেখানে হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের পক্ষে জনসমর্থন গড়ে তোলা হচ্ছে। টুইটারে স্ট্যান্ড ইউথ ফ্রান্স এবং ইউ স্ট্যান্ড উইথ ফ্রান্স নামে দুটি হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে হাজার হাজার ভারতীয় ফ্রান্সের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করছে।
ক্ষমতাসীন বিজেপির সংসদ সদ্য পারবেশ সাহাব সিং টুইটারে লিখেছেন , ফ্রান্সের মি. প্রেসিডেন্ট, আপনি যা করেছেন ভালোই করেছেন। আরেক টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন, উগ্র মুসলিমদের বিপক্ষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট যা করছেন, তাতে আমি সর্মথন জানাই।
৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে চলতি বছরের শুরুর দিকে ফ্রান্সের কাছ থেকে ৬ টি যুদ্ধ বিমান কেনে করে ভারত। ২০১৪ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে মুসলিম বিদ্বেষ প্রসার পায়। নাগরিকত্ব আইন পাশ ও গেলো বছর দিল্লীতে মুসলিমদের সাথে সংঘর্ষের ঘটনার মাধ্যমে ভারত সরকারের মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাবের প্রমাণ মেলে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলেমগণ জরালোভাবে বলেন, ফ্রান্সে রাসূল (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদ ফ্রান্সে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় মহানবী (সা.) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করে মুসলমানদের উষ্কে দেয়া হচ্ছে। মহানবীর (সা.) সাথে বেয়াদবির মশুল গুনতে হবে ফ্রান্সের কুলাঙ্গার প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁকে। অবিলম্বে ম্যাক্রোঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কোনো দিন অন্য ধর্মাবলম্বির ওপর আঘাত হানে না। ফ্রান্সের সকল পণ্য বিশ্ব মুসলিম বর্জন করতে শুরু করেছে। বাংলাদেশেও সরকারিভাবে ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন এবং দেশটির সাথে কূটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করতে হবে।গত শুক্রবার বাদ জুমা নগরীর আমিন বাজারে সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে ফ্রান্সে মহানবী (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ওলামায়ে কেরাম এসব কথা বলেন। আমিন বাজার, গাবতলী, মিরপুর ও সাভারের বিভিন্ন মসজিদ থেকে শত শত মুসল্লি স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করে। সমাবেশে বক্তারা ফ্রান্সের পণ্য বর্জনের জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রতিবাদে সমাবেশে মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান ঢাকুবীর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আফজালুল ইসলাম, মাওলানা সলিমুল্লাহ, মাওলানা আবুল কালাম, মুফতি আব্দুর রহীম কাসেমী, মুফতি আব্দুল বারী, মুফতি লুৎফর রহমান,মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, মাওলানাআসাদুজ্জামান, মুফতি দেওয়ান মো. সাজ্জাদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মুনির আরমানী ও মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, মুফতি আবু বকর সিদ্দিক, মুফতি সোলাইমান ও মাওলানা ওসমান গণী।
ডা. জাকির নায়েক বলেন, আল্লাহর দূতকে গালিগালাজ করলে যন্ত্রণাময় শাস্তি। সোস্যাল মিডিয়ায় ইসলামোফোবিয়া বা ইসলাম-ভীতি ছড়ানোকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে নাম উল্লেখ না করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রকে হুঁশিয়ারি দিলেন জাকির নায়েক। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেন, যারা আল্লাহর দূতের অবমাননা করে, গালিগালাজ করে, তারা যন্ত্রণাময় শাস্তি পায় বলে কোরআন থেকে উদ্ধৃতি দেন তিনি। তাদের মারাত্মক পরিণতি হয় বলে হুঁশিয়ারি দেন এই ইসলামি ধর্মপ্রচারক। -বেঙ্গলী এপিবিলাইভ ডটকম
ফ্রান্স সম্প্রতি অশান্ত হয়ে উঠেছে ইসলামের শ্রেষ্ট্য নবী হজরত মুহম্মদের ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের ইস্যুতে স্কুলশিক্ষককে গলা কেটে হত্যা ও তার প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টের মন্তব্যে। মুহম্মদের কার্টুন প্রকাশের অধিকারের সমর্থনে সওয়াল ও ইসলামের সমালোচনা করে গোটা মুসলিম দুনিয়ার বিরাগভাজন হয়েছেন ম্যাক্রঁ। মুসলিম দেশগুলো ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছে। আরেকটি ফেসবুক পোস্টেও ভারতীয় এই ধর্মপ্রচারক বলেন, আক্রমণাত্মক বক্তব্য সমর্থন করলে তা মত প্রকাশের স্বাধীনতা জোরদার করায় কোনও কাজে লাগে না। আঘাত করার সুযোগ থাকা মানে আঘাত করা কর্তব্য, এটা বোঝায় না। মাইকেল পেটি নামে ফরাসি স্কুল শিক্ষক ক্লাসে অবাধ মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে পড়ানোর সময় মুহম্মদের ব্যঙ্গচিত্র দেখান। এজন্য প্যারিস শহরতলির স্কুলের বাইরে তাঁর গলা কেটে দেয় এক চেচেন বংশোদ্ভূত যুবক। এর কঠোর নিন্দা করে ম্য়াক্রঁ কট্টরপন্থীরা ইসলামিরা আমাদের ভবিষ্যৎ শেষ করে দিতে চায় বলে অভিযোগ করেন। জাকির নায়েক এজন্য কোরানের আয়াত উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আল্লাহের নবীকে গালিগালাজের ভয়ঙ্কর শাস্তি মিলবে। বাস্তবে যারা আল্লাহ ও তার নবীকে গালিগালাজ করে, আল্লাহ এই জীবনে এবং পরকালেও তাকে অভিশাপ দেন, তার জন্য অপমানজনক শাস্তির ব্যবস্থা করেন। এর আগে গত ২৮ আগস্টের ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, আল্লাহর দূতকে গালাগাল দেওয়া লোকজনকে ভয়াবহ সাজা পেতে হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, পশ্চিমা বিশ্বের ‘ইসলামুফোবিয়া’র বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে একটি বলিষ্ঠ প্রতিবাদে পাকিস্তান নেতৃত্ব দেবে। তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে এ ঘোষণা দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ইউরোপীয় দেশগগুলো আমাদের ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বুঝতে চায় না। সুতরাং এটা আমাদের দায়িত্ব যে তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া। আমি ইতোমধ্যে মুসলিম দেশগগুলোর প্রধানদের একটি চিঠি লিখেছি।আর আমি ব্যক্তিগতভাবে সবার সাথে কথা বলব যেন ইসলামুফোবিয়ার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ কৌশল নির্ধারণ করা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গত শুক্রবার মহানবী (সা,) কে অবমাননার দায়ে ফ্রান্সের সাথে কূটনৈতিক সর্ম্পক ছিন্ন করতে হবে। আগামী সংসদ অধিবেশনে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জনের ঘোষণা দিতে হবে। গতকাল জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদ থেকে ইমাম-ওলামাদের নেতৃত্বে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে পলাশীর মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি ক্বারি আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মুফতি মিনহাজ উদ্দিনের পরিচালনায় এতে যেসব নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা বেলায়েত হোসেন আল-ফিরোজী, মাওলানা জাফর আহমদ, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি তাসলিম আহমদ, মাওলানা জাহিদ আলম, মাওলানা শহিদুল আনোয়ার সাদী, মাওলানা আনোয়ারুল হক, মাওলানা যোবায়ের আহমদ কাসেমী, মাওলানা শামসুল হক ওসমানী, মাওলানা হামিদুল হক, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ গাজী, মাওলানা ক্বারি খালেদ মোশাররফ, মাওলানা রহমতুল্লাহ ও মাওলানা আশরাফ। ঘেরাও পূর্ব সমাবেশে জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশ দেশের সর্বস্তরের মুসলমানদের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি কতিপয় দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে ফ্রান্স সরকারের এ অবমাননার কঠোর সমালােচনা ও নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে, ফ্রান্স সরকারের সাথে সমস্ত রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে, যদি ফ্রান্স সরকার মহানবী (সা.) ও ইসলামের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা না চায় তাহলে ফ্রান্স দূতাবাস বন্ধ ও ফ্রান্সের সমস্ত নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানাের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, তুরস্কসহ বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রের সাথে মহানবীর (সা.) ইজ্জত রক্ষার আন্দোলনে বাংলাদেশ সরকারকে অগ্রণি ভূমিকা পালন ও ইসলামের পক্ষে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে এবং ফ্রান্সের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন এবং তাদের পণ্য বর্জন করতে হবে। পরে ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও করার লক্ষ্যে মিছিলটি অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের সাথে ধাক্কাধাক্কির পর মিছিলটি নীলক্ষেত এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। ড. আসিফ নজরুল বলেছেন,বছর পঁচিশ আগে ইংল্যান্ডের ফুটবল দলের ম্যানেজার ছিলেন গ্লেন হডল। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা অবস্থায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সাথে পূর্বজন্মের কাজের সম্পর্ক নিয়ে তিনি একটি হৃদয়বিদারক মন্তব্য করে বসেন। সেখানে তার সমালোচনার ঝড় বয়ে যায়। তাকে চাকরী হারাতে হয় এবং বহু বছর তিনি সামাজিকভাবে বয়কট অবস্থায় থাকেন। তখন কিন্তু তার বাক-স্বাধীনতার কথা কেউ বলেনি। জার্মানীতে নাৎসীদের পক্ষে কিছু বললে বা হলোকসট্ সম্পর্কে আপত্তিককর কিছু বললে শাস্তির বিধান আছে। কেউ তাদের বাক-স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না।আমাদের দেশে মুক্তচিন্তার একজন সাংবাদিক হিন্দু ধর্মের দেবীকে নিয়ে একটি অনাকাঙ্খিত বক্তব্য দেয়ার পর তীব্রভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন। তখন কিন্তু আমরা তার বাক-স্বাধীনতার কথা বলিনি।
এসব উদাহরণের মানে হচ্ছে বাক-স্বাধীনতা পৃথিবীর কোথাও আনলিমিটেড বা অসীম না। পৃথিবীর বহু দেশের সংবিধান ও আইনে বাক-স্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। যৌক্তিক মাত্রায় ও জনস্বার্থে হলে এসব সীমাবদ্ধতা আরোপ স্বাভাবিক এবং গ্রহণযোগ্য। সমস্যা হচ্ছে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ:) এর বিষয়েও বাক-স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতার থাকা উচিত- এটা যেন কেউ কেউ মানতে চান না। ফ্রান্সের এখনকার ঘটনার দিকে তাকালে আমরা তা বুঝতে পারি।

ফ্রান্সে তার ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে যা হচ্ছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। জেসাসকে নিয়ে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করলে তার অনুসারীদের কিছু না এসে গেলে তাকে নিয়ে তা হয়ত করা যাবে। কিন্তু আমাদের নবীকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপে তার অনুসারীদের মনে আঘাত লাগলে তা থেকে অবশ্যই সবার বিরত থাকা উচিত। কারণ বাক-স্বাধীনতার সীমারেখা টানা হয় প্রধানত মানুষের ওপর এর প্রভাবকে (যেমন মানহানি, ধর্মীয় অনুভূতি, অপরাধে উস্কানি) বিবেচনায় রেখে। এসব বিবেচনায় বহু বিষয়ে যদি বাক-স্বাধীনতার সীমা মানা হয়, পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ধর্মের সবচেয়ে বড় নবী সম্পর্কে তা কেন করা যাবে না?

কেউ কেউ বলছেন, ফ্রান্সে বসতি গড়লে তাদের মতো মন-মানসিকতার হতে হবে মুসলমানদের। তাদের প্রশ্ন ফ্রান্সে তাহলে থাকতে গেছে কেন মুসলমানরা? আমার মতে, এসব বলা অযৌক্তিক। কারণ, ফ্রান্সে মুসলমানরা গেছে প্রধানত সেসব আফ্রিকান দেশ থেকে যেখানে ফ্রান্সের চরম নিপীড়নমূলক ঔপনিবেশিক শাসন ছিল, যেসব দেশে তারা যুদ্ধ বাঁধিয়েছে এবং যেসব দেশে তেল-গ্যাস সম্পদের ওপর তাদের দখলদারিত্ব বজিয়ে রেখেছে। যেসব দেশের সম্পদ লুট করতে তারা গিয়েছিল সেখানে গিয়ে কি তারা তাদের সাথে মানানোর চেষ্টা করেছিল? তাহলে তাদের ভিকটিমদের একাংশ বাধ্য হয়ে তাদের দেশে বসতি গড়ে নিজের ধর্মীয় মূল্যবোধকে কেন বিসর্জন দিবে?

মহানবীর (দ:) ব্যাঙ্গচিত্র নিয়ে ধর্মীয় আবেগে তাদের প্রতিবাদ সমর্থন করি। কিন্তু ধর্মীয় উন্মাদনায় হত্যা কোনভাবে সমর্থন করি না। আমাদের নবী (দ:) নিজেই উনার নিগ্রহকারী ও অবমাননাকারীদের এমন শাস্তি দেননি। এসব হত্যা বরং নিষ্ঠুরভাবে মানুষের জীবনের অধিকার কেড়ে নেয়, আমাদের শান্তির ধর্ম সম্পর্কে ভুলবার্তা দেয়, বিশ্বব্যাপী বহু মুসলমানকে নানান ভোগান্তিতে ফেলে।

ধর্মীয় উন্মাদনা নিন্দনীয়। তবে ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করে যারা এসব উস্কে দেন তাদের কর্মকাণ্ডও নিন্দনীয়। যেসব মুসলিম শাসক অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় থাকতে ফ্রান্সের মতো দেশে এসব কাজের প্রতিবাদ করেন না তারাও নিন্দনীয়।

ফ্রান্স সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় মদদে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে ব্যাঙ্গচিত্রের মাধ্যমে অপমানিত করার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাদ জুমা বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরীর উদ্যোগে সিলেটের ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেট নগরীর প্রায় প্রতিটি মহল্ল থেকে মসজিদের ইমাম ও জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে মুসলি­রা মিছিল সহকারে এসে দলে দলে সিলেট কোর্ট পয়েন্টে সমবেত হতে থাকেন। মুসলিম জনতার এই ঢল সমাবেশকে মহাসমাবেশে রুপান্তরিত করে। সর্বস্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে তাদের আবেগ জড়িত কন্ঠে প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন। বিক্ষুব্ধ মুসলি­রা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট অ্যানিমেন ম্যাক্রোর কুশপোত্তলিকা দাহ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মানবতার মুক্তির দিশারি, সমগ্র মানবজাতীর জন্য অনুকরণীয় আদর্শের নবী, বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানদের প্রাণের স্পন্দন বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে অপমান করার জন্য কার্টোন/ব্যাঙ্গচিত্র প্রদর্শন করে ফ্রান্স সরকার কঠিন অপরাধ করছে। এজন্য ফ্রান্স সরকারকে অনতিবিলম্বে বিশ্ব মুসলিমের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, মুসলমানরা শান্তি প্রিয় ও সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির বিশ্বাসী। এজন্য বিশ্বের কোথাও কোনো মুসলমান অন্য কোন ধর্মকে নিয়ে কোনও ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করেননি।
এমনকি কোনো সংখ্যাগরিষ্ট মুসলিম রাষ্ট্রেও ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি কোন রকমের অন্যায় করা হয়নি। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় কিছু অপশক্তি, সন্ত্রাসী চক্র বিদ্বেষ ছড়াতে এবং সা¤প্রদায়িক বিভেদ তৈরি করে পৃথিবীতে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য পরিকল্পিতভাবে আল­াহ, ইসলাম ও মুসলমানদের নবীকে নিয়ে নানা রকম কটুক্তি, ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ ও অবমাননাকর আচরণ করে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স সরকারও এরকম জঘন্য আচরণে প্রকাশ্যে শামিল হয়েছে, যা ঘৃণিত ও বিশ্বব্যাপী চরম সমালোচিত। ফ্রান্স সরকারের অবশ্যই জেনে থাকার কথা যে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় অনেক ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান ইতোপূর্বে ইসলাম ও বিশ্ব নবীর অবমাননার অপরাধে দেশান্তরীত হয়েছেন এবং বিশ্ব সমাজ থেকে উপেক্ষিত ও অবাঞ্ছিত হয়েছেন। সুতরাং আমরা ফ্রান্স সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই যে, তার এই ঘৃণ্য কাজের জন্য অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে এবং ইসলাম অবমাননার সকল কর্মকান্ড চিরতরে বন্ধ করতে হবে। নাহলে বিশ্বের মুসলমানগন ফ্রান্সকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করার জন্য ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন ও সার্ভিস বয়কট করবে। ইসলাম ও বিশ্ব নবীর অবমাননার কারণে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মুসলমানগন জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।

জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরীর সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাবের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবিদ হাসান ও প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাছুম আহমদের যৌথ পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা খলিলুর রহমান, জেলা জমিয়তের সেক্রেটারী মাওলানা আতাউর রহমান, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর সহ সভাপতি মাওলানা শহীদ আহমদ, মাওলানা নুর আহমদ ক্বাসেমী, মাওলানা আহমদ সগীর, যুবনেতা মাওলানা নজরুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস সিলেট জেলার সহ সাধারন সম্পাদক মাওলানা মখলিছুর রহমান, মাওলানা মাসুক আহমদ সালামী, মাওলানা আশরাফ আলী মিয়াজানী, মাওলানা আব্দুর রহমান শাহাজাহান, মাওলানা ইহতেশামূল হক ক্বাসেমী, মাওলানা আহমদ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগরীর সহ সভাপতি মাওলানা জাহিদ উদ্দিন চৌধুরী, ব্যবসায়ী মাওলানা ছদরুল আমীন, বিশিষ্ট সমাজসেবী মাওলানা একরামূল আজিজ, হাফিজ মাওলানা আব্দুস সামাদ, মাওলানা আশরাফ উদ্দিন চৌধুরী, মুফতি বিলাল উদ্দিন, মাওলানা সালেহ আহমদ শাহবাগী, আম্বরখানা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সালেহ আহমদ প্রমুখ। সমাবেশে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন জাগরণ ইসলামী সাংস্কৃতিক দলের পরিচালক হাফিজ আব্দুল করিম দিলদার প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে জাতীয় ইমাম সমিতির পক্ষ হতে বাংলাদেশ সরকার ও জাতীসংঘের কাছে কিছু দাবি পেশ করেন জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কর্তৃক আইন পাশ করতে হবে । বিশ্ব মুসলিমের কাছে ফ্রান্স সরকার অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।
ক্ষমা চাওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে।

বিশ্ব মুসলিমরাষ্ট্রের সংগঠন ও.আই.সি কর্তৃক ফ্রান্স সরকারকে উক্ত ঘৃণ্য কাজের জন্য ক্ষমা চাইতে চাপ প্রয়োগ করতে হবে ।

বাংলাদেশ সরকার ফ্রান্স সরকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানাতে হবে এগুলিসহ ৮ দফা দাবী পেশ করা হয়। ফ্রান্সের পণ্যের বড় বাজার ইউরোপ, অ্যামেরিকা কিংবা চীন৷ তাই পণ্যের রপ্তানি নিয়ে তারা খুব বেশি চিন্তিত বলে মনে হয় না৷ তাই এখানে শঙ্কা ভিন্ন৷ শঙ্কা সামাজিক বিভাজনকে পেলে পুষে আরো বড় করার এক ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক খেলার৷ অনুমিতই ছিল৷ অবশেষে ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের ডাক দিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ানও৷ এর আগে আরব বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়৷ কুয়েত, জর্ডান ও কাতারের অনেক সুপারমার্কেট থেকে ফ্রেঞ্চ পণ্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে এরই মধ্যে৷ লিবিয়া, সিরিয়া ও গাজায় প্রতিবাদ দেখা গেছে৷ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও টুইট করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন৷ বাংলাদেশেও প্রতিবাদ হয়েছে৷ ধারণা করা হচ্ছে, অন্য দেশগুলোও প্রতিবাদ করবে৷ এসবই হয়েছে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁর কয়েকটি বক্তব্যের পর৷ এদিকে, মাক্রোঁর মানসিক পরিচর্যা দরকার, এরদোয়ানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছে জার্মানি৷ ইটালি, স্পেনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতারাও মাক্রোঁর পাশে রয়েছেন৷ ফলে স্পষ্টতই বিভাজন দেখা যাচ্ছে৷ এর আগে নজিরবিহীন সমাবেশ দেখা গেল শিক্ষক স্যামুয়েল প্যাটির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে৷ ফ্রান্সের মানুষ ‘আমি স্যামুয়েল প্যাটি’ লিখে রাস্তায় নামলেন৷ তারা মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে তাদের জোরালো সমর্থন দেখালেন৷ তাহলে কী দাঁড়ালো? আমরা স্পষ্টতই একটি বিভাজনের রেখা দেখছি৷ এই রেখা অন্তর্নিহিত ছিল৷ এখন প্যাটি হত্যাকে কেন্দ্র করে বের হয়ে এসেছে৷ প্রশ্ন হল, সেই বিভাজনের ভিত্তি কী? ধর্ম? অবশ্যই নয়, একে সাংস্কৃতিক বিভাজন বলা ভাল৷ সে যাই হউক ইসলাম শান্তির ধর্ম, মসুলমানেরা সব সময় শান্তির পক্ষে, সময় ক্ষেপন না করে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বিশ্ব মুসলিমের কাছে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।

ক্ষমা চাওয়ার আগ পর্যন্ত ফ্রান্সের সকল পণ্য বর্জন করতে হবে। আশা করি বিশ্বে শান্তির জন্য এ কাজটি করবেন। কেন না ক্ষমা একটি মহৎ গুন আর ক্ষমা চাওয়াটা দোষের কিছুই নেই।

লেখক : মোঃ হায়দার আলী
সভাপতি, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা।
সাধারণ সম্পাদক, গোদাগাড়ী প্রেস ক্লাব।
প্রধান শিক্ষক, মহিশালবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়
গোদাগাড়ী, রাজশাহী।