আজ ২০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পদ্মায় ধরা পড়ছে রেকর্ড পরিমান বড় বড় বাঘাইর-পাঙ্গাস

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সারাদেশের মত মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার সময়ে পদ্মা নদীতে বড় বড় পাঙ্গাস ও বাঘাইর মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে, উপজেলার রেলবাজার মাছের আড়ৎ গুলিতে চলছে জমজমাটভাবে মাছের ব্যবসা। কাঁক ডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এ আড়ৎ গুলি।

 

পুরানো দিনের সেই এক সময়ের চিরচেনা পদ্মায় যখন জেলেরা মাছ ধরে আনন্দ করত আর সুখে রুজি রোজগার করত এখন সেই অবস্থা বিরাজ করছে গোদাগাড়ী উপজেলার জেলে সম্প্রদায়ের মাঝে।

১৪ অক্টোবর হতে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পদ্মায় ইলিশ ধরা বন্ধের প্রশাসনের নির্দেশ আছে । এই সময়ে দিনের বেলা শুধুমাত্র খেয়া পারাপারের নৌকা ছাড়া অন্য কোন নৌকা পদ্মায় চলাচল নিষেধ আছে। আর রাতের বেলা কোন ধরনেরই নৌকা চলতে পারবে না। তবে কিছু কিছু জেলে প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে জাল ফেলছে এতে করে বড় বড় পাঙ্গাস ও বাঘাইর মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ছে।

 

সারারাত জেগে মাছ ধরে খুব সকাল সকালে আড়তে আসছে বড় বড় পাঙ্গাস ও বাঘাইর মাছ বিক্রয় করতে। আবার দুপুরের পর হতে রাত পর্যন্ত মাছ ধরে নিয়ে এসে গোদাগাড়ীর রেলওয়ে বাজার আড়ৎ গুলিতে বিক্রি করছে জেলেরা। আর রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া, পাবনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকা হতে আগত পাইকারী ক্রেতারাও ছুটে আসছে বড় বড় পাঙ্গাস আর বাঘাইর মাছ ক্রয় করতে। খুব সকাল ও সন্ধ্যা বেলা গোদাগাড়ী সদরের রেলবাজারের আড়ৎ গুলোতে ঘুরলে এমনই চিত্র চোখে পড়বে সবার।

 

রবিবার সকালে ও শুক্রবার সন্ধ্যায় মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রতিটি মাছের ডালায় শোভা পাচ্ছে নানা আকৃতির পাঙ্গাস আর বাঘাইর মাছ। শুধু বাজারেই নদী তীরবর্তী বিভিন্ন খেয়া ঘাট এলাকায় সন্ধ্যার দিকে এসব মাছ বিক্রয় করতে দেখা যাচ্ছে ।

 

আবার পূর্বে হতে বড় মাছের অর্ডার পৌছে যাচ্ছে বাড়ীতে বাড়ীতে । বসকে খুশি করতে কিংবা উপহার হিসেবে এমাছ ক্রয় করে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।ফেসবুকে মাছের ছবি পোষ্ট দেখে বড় এ মাছ ক্রয় করতে আসছেন।

 

গোদাগাড়ীর রেলবাজরের আড়ৎদার জাহাঙ্গীর জানান সর্বনিন্ম ৫ কেজি ওজন হতে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩৫ কেজি পর্যন্ত ওজনের বাঘাইড় ও ২০ কেজি ওজনের পাঙ্গাস মাছ ধরা পড়ছে জেলেদের জালে।

 

৩৫ কেজি ওজনের বাঘাইর ৮৫০ টাকা ও ১৭ কেজি ওজনের পাঙ্গাস ৭৫০ টাকা কেজি পাইকারী দরে বিক্রি করেছেন বলে জানান।এছাড়াও বড় বড় কাতল মাছ ধরা পড়ছে। ২২ কেজি ওজনের কাতল মাছ ১০২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

 

গত ২ হতে ৩ বছর হতে এই মৌসুমে পদ্মায় হঠাৎ পাঙ্গাস ও বাঘাইর মাছের আবির্ভাবে পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের মাঝেও চোখে মুখে আনন্দ দেখা দিয়েছে। তারা বলছে অনেক দিন পর অন্তত বড় বড় মাছ আমরা দেখতে ও কিনে খেতে পাচ্ছি। মাছ ব্যবসায়ী দয়াল বলেন, এমন বড় বড় মাছে ক্রয় করে রাজশাহী, বগুড়াসহ অন্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করে ভালই হচ্ছে।

 

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়ন্যাল বলেন, ৩৫ কেজি বঘাইড় একটি মাছ ১৬ জনে ক্রয় করে ভাগ করেছিলাম, মাছ বাসায় নিয়ে যাওয়াতে বৌ ছেলে মেয়ে বেজায় খুশি আর মাছের স্বাদও অত্যান্ত সুস্বাদু। একই মন্তব্য করেন ঘড়ি ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান।

 

এই বছর পদ্মা নদীতে বড় বড় বাঘাইর ও পাঙ্গাস মাছের আবির্ভাব হওয়ার কারন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলেরা বলেন, পদ্মানদীতে এই সময় বেশী পানি থাকে। পানির গভীরতার জন্য এসব মাছ এই অঞ্চলে নিরাপদ আশ্রয় মনে করে এসেছে তাই এসব মাছ ঝাঁকে ঝাঁকে পাওয়া যাচ্ছে। সারারাত দিন কর্ডের ফাঁস জাল দিয়ে এসব মাছে পাওয়া যাচ্ছে বলে জেলেরা জানান। তারা আরও বলেন, প্রচুর পরিমানে বাঘাইর ও পাঙ্গাস ধরা পড়ায় মাছ বিক্রি করে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে।

 

রেল বাজারের মাছের আড়ৎদার মোঃ জাহাঙ্গীর বলেন, মাঝের আড়ৎ এ ইলিশ মাছ আসে না তবে বড় বড় পাঙ্গাস আর বাঘাইর আসার ফলে ঢাকা হতে আগত মাছ ব্যবসায়ীরা এসব মাছ ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে এতে করে ব্যবসায় বেশ ভালো হচ্ছে বলে জানান।

 

এ প্রসঙ্গে গোদাগাড়ী সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ শামসুল করিম বলেন, গোদাগাড়ীর রেলবাজার হতে সুতানগঞ্জ পর্যন্ত মাটিতে কঙ্গর জাতীয় খাবারের প্রাচুর্যতা থাকাই এসব মাঝের দেখা মিলছে এবং এসব অঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে মনে করছে।