আজ ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে সাবেক ডিআইজি বজলুর রশিদের জামিন

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় হাইকোর্টের আদেশ গোপন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছেন কারা অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) বজলুর রশিদ।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবীর পক্ষ থেকে হাইকোর্টে জানানো হয়েছে।

শুনানি শেষে হাইকোর্ট জামিন সংক্রান্ত বিচারিক আদালতের আদেশের কপি দুদককে দ্রুত সরবরাহ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া ডিআইজি প্রিজনের জামিন বাতিলের বিষয়ে বিচারিক আদালতে আবেদন করতেও দুদককে নির্দেশনা দেয়া হয়।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনার পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহজাবিন রাব্বানী দীপা।

প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদকে গত বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ইকবাল হোসেন জামিন দেন। ওই দিনই বিকালে তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে যান।

এর আগে গত ২২ অক্টোবর একই আদালত এই মামলার অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেন। একইসঙ্গে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।

ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশীদের জামিনের বিষয়ে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদ হাইকোর্টের আদেশের নথি গোপন করে জামিন নিয়েছেন। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনার পর আদালত সংশ্লিষ্ট আদালতে জামিন বাতিলের আবেদন করতে বলেছেন। বিচারিক আদালত আগামী ২২ নভেম্বর আবেদনটি শুনানির জন্য রেখেছেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, ডিআইজি প্রিজন বজলুর রশিদ করোনাকালে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিলেন। শুনানির পর হাইকোর্ট সেই জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। কিন্তু হাইকোর্টের এই আদেশ গোপন করে তিনি নিম্ন আদালতে জামিন আবেদন করেন এবং বিচারক সেটি মঞ্জুর করেন। ওই দিনই তিনি কারাগার থেকে বেরিয়ে যান। রবিবার এ বিষয়টি দুদক হাইকোর্টের নজরে এনেছে।

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত বছর ২০ অক্টোবর বজলুর রশিদ ও তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। জিজ্ঞাসাবাদ শে‌ষে ওই দিনই দুদক পরিচালক মো. ইউসুফের নেতৃত্বে একটি টিম বজলুর রশিদকে গ্রেফতার করে। এরপর ওইদিন আদাল‌তের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।