আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে আবাদি জমি রক্ষা ও আসুরার বিলে বাঁধ নির্মানের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: আবাদি জমি রক্ষা ও বিলে বাঁধ নির্মানের প্রতিবাদে গত চার দিন ধরে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আসুরার বিল পাড়ের কয়েক হাজার ভূক্তভোগী নারী-পুরুষ। রাতের অন্ধকারে কেউ নতুন করে বাঁধ নির্মান করতে না পারে সেজন্য রাত-দিন পালা করে বিলের ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ পাহারা দিচ্ছেন তারা। চার দিন ধরে অবস্থান কর্মসূচী অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন তাদের সাথে কোন যোগাযোগ করা হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের। তারা বলছেন, বাঁধ নির্মান না করার প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসুচী অব্যাহত থাকবে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিলে বাঁধ স্থাপনের ফলে বিলের কয়েক হাজার বিঘা জমিতে তারা ধান আবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসন বলছেন, বিলের ঐতিহ্য ফিরে আনাতে এবং মাছের অভয়রান্ন নির্মানে রাবার ড্যাম স্থাপনের করা হয়েছে।

জানাগেছে, প্রায় ২ হাজার হেক্টর এলাকা জুড়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার আসুরার বিল। নাম বিল হলেও দেখতে নাদীর মতো। নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের পাশে অবস্থিত বিলটির পানি শুষ্ক মওসুমে শুকিয়ে গেলে বিলে জেগে উঠা জমিতে দীর্ঘ অনেক বছর ধরে ধানের আবাদ করে জিবিকা নির্বাহ করে আসছে বিলপাড়ের কয়েক হাজার মানুষ।

গতবছর বিলটিতে বাঁধ স্থাপান করে সেখানে পানি জমে রাখার ব্যবস্থা করে উপজেলা প্রশাসন। তারপর থেকে বিলে পানি জমার কারণে সেখানে আর ধান আবাদ করতে পারছেনা বিল পাড়ের মানুষ গুলো। সম্প্রতি বন্যায় বিলের বাঁধটি ভেঙ্গে গেলে তা পুণ নির্মান শুরু করে স্থানীয় প্রাশাসন। এতে বাধা দেয় এলাকার ভূক্তভোগী কয়েক হাজার মানুষ।

গত ৩০ অক্টোবর থেকে এলাকার নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সবাই বাঁধের উপর অবস্থান নিয়ে পাহারা দিয়ে আসছেন। যাতে কেউ বাঁধটি পূণ নির্মান করতে না পারে।

তারা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বাঁধ নির্মান না করার আশ^াস পাবার পরই তারা তাদের এই অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহর করবেন।

আন্দোলন কারীরা মোসলেম উদ্দিন, মাহাবুব রহমান, মোশাররফ হোসেন জানান, গত ৪০-৫০ বছর ধরে তারা শুস্ক মওসুমে আসুরার বিলের জেগে উঠা জমিতে ধান আবাদ এবং বর্ষা মওসুমে এই বিল থেকে মাছ আহরণ করে জিবিকা নির্বাহ করে
আসছেন।

গতবছর কৃষকের উপকারের কথা বলে বিলের মাঝখানে একটি বাধ নির্মান করে স্থানীয় প্রশাসন। ফলে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া তারা আর ধান আবাদ করতে পারছেন না।

উপজেলা প্রশাসন বলছেন, আসুরার বিল পুরোটাই সরকারী সম্পত্তি। বিলকে ঘিরে পর্যটন এলাকা ঘোষনার পর এর সুন্দোর্য বর্ধনে নানা মুখি পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

সেই সাথে বিলের ঐতিহ্য ফিরে আনাতে এবং মাছের অভয়রান্ন নির্মানে রাবার ড্যাম স্থাপনের করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর এখানে একটি বাধ নির্মান করা হয়। সম্প্রতি বন্যায় বাধটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তা পূণ নির্মানের চেষ্টা করা হলে স্থানীয়রা বাধা দেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুন নাহার বলেন, আন্দোলন কারীদের কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেনি। তারা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে এলে আইন সম্মত ভাবে তা বিবেচনা করা হবে।