আজ ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩০শে নভেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কালীগঞ্জে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার ভাতা পতালার অভিযোগ, নিউজ না করার জন্য সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: স্বাধীনতা পরবর্তী ভারত সরকারের দেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম নেই। স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিবার্তায় প্রকাশিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায়ও তার নাম নেই। ১৯৮৭ সালের জাতীয় তালিকায় তার নাম ছিল না। ২০০৯ সালে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছায় কমিটি কর্তৃক প্রকাশিত তালিকায় তার নাম ছিল না।।

তারপর ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে সংশোধিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় নাম উঠিয়ে মাসিক ভাতাসহ যাবতীয় সুবিধা ভোগ করছেন। গত পাঁচ বছর হলো এভাবে তিনি সরকারের কোষাগার থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন করছেন। কথিত ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম মোঃ হাফিজুর রহমান।

সে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মোঃ মল্লিক শেখের ছেল। খুলনা বিভাগীয় মুক্তযোদ্ধা নম্বর ১৯৮ এবং গ্যাজেট নম্বর ২১০৬। অভিযুক্ত এই মুক্তিযোদ্ধা ইতোমধ্যে তার এক ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় পুলিশে চাকরী করছেন। এনিয়ে সম্প্রতি তার প্রতিবেশি তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত গোলাম কুদ্দুস শেখের ছেলে আশরাফ আলী একটি লিখিত অভিযোগ দেয়।

অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মুক্তিযোদ্ধা চলাকালিন সময়ে তার হাফিজুর রহমানের বয়স ছিল ১১ থেকে ১২ বছর। ওই বয়সে সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। এমনকি ভারতে গিয়ে কোন প্রশিক্ষণেও অংশ নেয়নি।

স্বাধীনতার এত বছর পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক শেখ মজিবরের কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বৃদ্ধি কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ঘোষনা দেন। এরপর নড়েচড়ে বসে এই চতুর হাফিজুর রহমান। এরপর আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় না উঠিয়ে নেয়। এরপর থেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকার ঘোষিত সমস্ত সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে আসছেন।

এব্যপারে অভিযুক্ত মোঃ হাফিজুর রহমান অভিযোগ সম্পর্কে জানান, একটি মহল আমার বিরদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। অনেক তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষি দিয়েছে আমিও মুক্তিযোদ্ধা। পরে নিউজ না করার জন্য এ প্রতিবেদককে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

তবে, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হেলাল উদ্দীন সরদার জানান, তার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাদের সাথে এই নামে উপজেলায় কোন মুক্তিযোদ্ধা ছিল না। তাহলে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হলো এবং ভাতা উত্তোলন করেন এমন প্রশ্নে এই কমান্ডার বলেন, আইনের ফাক-ফোকর দিয়ে সে হয়তো তালিকাভুক্ত হয়ে থাকতে পারে। আর তালিকাভুক্ত হলে ভাতা তুলবে এটা স্বাভাবিক।