আজ ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ২রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

পদ্মা সেতুতে বসলো ৩৬তম স্প্যান, বসানো বাকি আর মাত্র পাঁচটি

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:  মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হলো ৩৬তম স্প্যান। এই স্প্যানটি বসানোর ফলে সেতুর দৃশ্যমান হলো ৫৪০০ মিটার।

আজ (৬ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪২ মিনিটে ৩৬তম স্প্যান বসানো শেষ হয় বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘৩৬তম স্প্যানটি বসানোর ফলে ৪১টি স্প্যানের মধ্যে এখন আর মাত্র ৫টি স্প্যান বসতে বাকি থাকলো। মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে বাকি ৫ স্প্যান পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সবকিছু আমাদের অনুকূল থাকলে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বাকি স্প্যান গুলো বসানোর কাজ শেষ করতে পারবো।’

গতকাল বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় অবস্থিত কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি বহন করে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই রওনা দেয়। বেলা ১২টার দিকে কাঙ্ক্ষিত পিলারের কাছে পৌঁছে ৩ হাজার ৬০০ টন সক্ষমতার ক্রেনটি। নদী তীরবর্তী পথে কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় বেশি সময় লাগে গন্তব্যে পৌঁছাতে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে ভাসমান ক্রেনের মাধ্যমে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি বহন করা হয়। এরপর সেখান থেকে রওনা দিয়ে নিয়ে যায় নির্ধারিত পিলারের কাছে। তবে স্প্যানটি বসানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় না থাকায় আজ শুক্রবার পিলারের ওপর স্প্যান বসানোর কাজ শুরু হয়।

এদিকে, ৩৬তম স্প্যানটি আজ বসানোর পর পদ্মা সেতুতে বসানো বাকি থাকলো আর মাত্র পাঁচটি স্প্যান। এগুলো ১১ নভেম্বর পিলার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান (২-সি), ১৬ নভেম্বর পিলার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান (১-এ), ২৩ নভেম্বর পিলার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান (২-ডি), ২ ডিসেম্বর পিলার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান (২-ই) ও ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান (২-এফ) বসবে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের ওপর।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পুরো পদ্মা সেতু প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮২ শতাংশ। নদী শাসন কাজের অগ্রগতি ৭৫ শতাংশ। মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি এখন ৯০.৫০ শতাংশ। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। মূল সেতুর দুই হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১ হাজার ১৬৬টির বেশি বসানো হয়েছে। দুই হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে ১ হাজার ৬৪৬টির বেশি স্ল্যাব বসানো হয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা ভায়াডাক্টে ৪৮৪টি সুপার টি গার্ডারের মধ্যে ২৫৮টি স্থাপন করা হয়েছে। স্প্যান বসানোর পাশাপাশি স্ল্যাব বসানোর কাজও এগিয়ে চলছে। বন্যা ও করোনা পরিস্থিতিতে চারমাস স্প্যান বসানো না গেলেও অক্টোবর মাসে চারটি স্প্যান বসানো হয়।

প্রকৌশলী সূত্রে জানা যায়, পদ্মা সেতুতে মোট ৪২টি পিলারে বসানো হবে ৪১টি স্প্যান। ইতোমধ্যে ৩৫টি স্প্যান বসিয়ে দৃশ্যমান হয়েছে ৫ হাজার ২৫০ মিটার। আর ছয়টি স্প্যান বসিয়ে দৃশ্যমান বাকি ৯০০ মিটার। পুরো সেতু ৬, ১৫০ মিটার (৬.১৫ কিলোমিটার)।