আজ ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৩রা ডিসেম্বর, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

রোহিঙ্গাবিহীন নির্বাচনে ফের জয়ী সু চির দল

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) আবারও জয়ী হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ভোট দেওয়ার বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ না দিয়ে গত রবিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক দশক সামরিক শাসনে থাকা দেশটিতে পাঁচ বছর আগে হওয়া প্রথম নির্বাচনেও রোহিঙ্গাদের ভোট প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছিল।

তথ্যপ্রবাহে ব্যাপক বিধি-নিষেধ থাকায় মিয়ানমারে নির্বাচনের সার্বিক চিত্র বাইরে পাওয়ার সুযোগ সীমিত। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দল এনএলডি সরকার গঠন করার মতো যথেষ্ট সংসদীয় আসনে জয় লাভ করেছে বলে গতকাল সোমবার দাবি করেছে।

এনএলডি মুখপাত্র মিয়ো নিয়ন্ত বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৩২২টি সংসদীয় আসন তাঁরা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে ধন্যবাদ জানাই। জনগণ ও দলের জন্য এটি একটি আশাব্যঞ্জক ফল।’ তবে নির্বাচন কমিশন গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেনি।

ব্যাংকক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনকে সু চি ও এনএলডির নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য ‘গণভোট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সু চির দল এখনো মিয়ানমারে ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ‘জেনোসাইড’ চালানোর অভিযোগে বিশ্বে সু চির ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে।

এদিকে মিয়ানমারে এনএলডির বিজয়কে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, মিয়ানমারে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে ত্রিপক্ষীয় (মিয়ানমার, বাংলাদেশ ও চীন) আলোচনা শুরু হবে বলে বাংলাদেশ আশাবাদী।

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর‌্যায়ে বৈঠক বেইজিংয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। মিয়ানমার এর আগে বারবার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মিয়ানমারের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি আছে। এটি মিয়ানমারকেই দূর করতে হবে।