আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

টিকা হাতেও পেয়ে গেছে যুক্তরাজ্য

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:অনুমোদনের এক দিন পরই যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনার টিকা। শিগগিরই এসব টিকা দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হবে। এদিকে টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য ‘ই-সার্টিফিকেট’ ব্যবস্থা চালুর কথা ভাবছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। টিকা নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে ও তাঁদের পর্যবেক্ষণে রাখতে এই সনদ চালু হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

টিকা নিয়ে আরো কয়েকটি খবর রয়েছে। মার্কিন প্রতিষ্ঠান মডার্নার উদ্ভাবিত টিকা প্রয়োগে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, সেটি তিন মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এদিকে রাশিয়ার উদ্ভাবিত টিকা ‘স্পুতনিক-ভি’র উৎপাদন শুরু করতে যাচ্ছে কাজাখস্তান।

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে গত বুধবার ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা গণহারে ব্যবহারের অনুমোদন দেয় যুক্তরাজ্য। পরের দিনই টিকার প্রথম চালান হাতে পায় তারা। তবে প্রথম চালানে কত টিকা এসেছে তা জানানো হয়নি। এ ছাড়া বেলজিয়াম থেকে আসা এসব টিকা যুক্তরাজ্যের কোথায় হস্তান্তর করা হয়েছে, সে তথ্যও গোপন রেখেছে ব্রিটিশ সরকার। শুধু এতটুকু জানিয়েছে যে গুরুতর রোগী ও ঝুঁকিতে থাকাস্বাস্থ্যকর্মীদের প্রথম চালানের টিকা দেওয়া হবে।

যুক্তরাজ্য গণহারে টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা। ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি জানিয়েছে, কোনো ভ্যাকসিনকে আপাতত ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে তারা আগামী ২৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। খুব শিগগরিই বাজারে আসতে পারে মার্কিন প্রতিষ্ঠান মডার্নার টিকা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের টিকা গ্রহণের পর যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, সেটি তিন মাস পর্যন্ত থাকে। ৩৪ জন স্বেচ্ছাসেবকের দেহে পরীক্ষা চালিয়ে এই ফল পাওয়া গেছে। ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজে মডার্নার টিকা শরীরে প্রয়োগ করা হয়। মার্কিন সরকারের শীর্ষস্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউসি বলেছেন, ‘অ্যান্টিবডি নিষ্ক্রিয় হওয়ার পর ভাইরাসের সংস্পর্শে এলেই যে আবার আক্রান্ত হবে, তা নিশ্চিত নয়। কারণ, শরীরে আবার নতুন করে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে পরীক্ষা চালানোর আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না।’

আগামী মার্চের মধ্যে ১০ থেকে সাড়ে ১২ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মডার্না। এর সাড়ে আট থেকে ১০ কোটি বিতরণ হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বাকি টিকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে। আর অন্যান্য দেশে যেসব টিকা পাঠানো হবে, সেগুলোর উৎপাদন হবে সুইজারল্যান্ডে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে চলতি মাসের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে দুই কোটি টিকা সরবরাহ করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, দু-এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়ে যাবে।

ডাব্লিউএইচওর ইউরোপ অঞ্চলের বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থ দত্ত বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবেলায় আমরা প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা ভাবছি। এর মধ্যে ই-সার্টিফিকেটের মতো বিষয়ও আছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কিভাবে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়, সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।’ তবে এ ধরনের সনদকে ‘ইমিউনিটি পাসপোর্ট’ বলার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ২১৩টি দেশ ও অঞ্চলে শনাক্ত কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ৫৬ লাখে। মৃতের সংখ্যা ১৫ লাখ ১৪ হাজারের বেশি। সেরে ওঠার সংখ্যাও কম নয়; সাড়ে চার কোটির বেশি। চিকিৎসাধীন আছেন এক কোটি ৮৬ লাখ মানুষ। তাঁদের মধ্যে মৃদু উপসর্গ রয়েছে এক কোটি ৮৫ লাখ মানুষের (৯৯.৪ শতাংশ)। বাকিদের (.৬ শতাংশ) অবস্থা আশঙ্কাজনক। আক্রান্তের তুলনায় মৃত্যুহার ৩ শতাংশ।