আজ ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষ হলো, কিন্তু শেষ হলো না পৈশাচিকতা

প্রথমবার্তা প্রতিবেদক:ভারতের উত্তরপ্রদেশের বদায়ুন আবারো মনে করিয়ে দিল দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের নিষ্ঠুরতার কথা। মাঝবয়সি এক নরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর গোপনাঙ্গে রড ঢুকিয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

রক্তক্ষরণের জেরে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে। মেডিক্যাল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে, নির্যাতিতার পা ও পাঁজরের হাড়গোড় ভেঙে দিয়েছে ধর্ষকরা।

বদায়ুনের এ ঘটনায় আবারো যোগি আদিত্যনাথের রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠল। হাথরসে দলিত তরুণীর ধর্ষণ-খুন এখনো লোকজনের স্মৃতিতে দগদগে। তার মধ্যেই বদায়ুনের এই ঘটনা উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীকে যে নতুন করে বিড়ম্বনায় ফেলবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বদায়ুনের উঘাইতি থানা এলাকার যে গ্রামে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানেই বাড়ি ওই নারীর। গত রবিবার সন্ধ্যায় গ্রামের মন্দিরে পূজা দিতে গিয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি।

এর আগেও গ্রামের ওই মন্দিরে বহুবার তিনি একা গেছেন। কখনো কোনো বিপদের সম্মুখীন হতে হয়নি। এলাকাবাসী মনে করছে, সে কারণে হয়তো আঁচ করতে পারেননি বিপদ ঘটতে পারে।

ওই নারীকে যে জায়গায় ‘ধর্ষক’রা ফেলে রেখে গিয়েছিল, সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, রবিবার রাত ১২টা নাগাদ একটি গাড়িকে তারা দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখেছেন। গাড়িতে চালক ছাড়া আরো দু-জন ছিল। গাড়িটি চলে গেলে মাঝবয়সি ওই নারীকে স্থানীয়রা দেখতে পান। রক্তক্ষরণ হচ্ছিল তার। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান।

গতকাল মঙ্গলবার নির্যাতিতার ময়নাতদন্তের পর রিপোর্টে বলা হয়েছে, গোপনাঙ্গে মারাত্মক আঘাতের একাধিক চিহ্ন ছিল। তা থেকে রক্তক্ষরণও হয়েছে। তার পাঁজরের হাড়গোড় একটি পা-ও ভেঙে গেছে।

বুকে ভারী কিছু দিয়ে আঘাতের কারণে পাঁজরের হাড় ভেঙে গেছে। গণধর্ষণ ও হত্যা মামলা করে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের ধরতে পুলিশের চারটি পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে।

ঘটনার পর থেকেই মন্দিরের পুরোহিত মহন্ত বাবা সত্যনারায়ণ এবং তার সহচর বেদরাম ও চালক জশপাল পলাতক রয়েছেন। গ্রামবাসীদের মুখে বিবরণ শুনে পুলিশ ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মন্দিরের পুরোহিত ও তার সাঙ্গপাঙ্গ এই কাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন।

নারীর পরিবারের অভিযোগ, উঘাইতি থানায় অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও সেখানকার কর্মকর্তা রবীন্দ্র প্রতাপ সিং ঘটনাস্থলে আসতে চাননি। যে কারণে ঘটনার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পরে সোমবার বেলায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। একজন নারী চিকিত্‍‌সকসহ তিন ডাক্তারের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।