আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৌর নির্বাচনে নারী প্রার্থী হাতে গোনা

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নারী প্রার্থীর সংখ্যা এবারেও সন্তোষজনক নয়। এ পর্যন্ত একটি ধাপের নির্বাচন শেষ হয়েছে। আরো তিনটি ধাপের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে চার ধাপে দুই শতাধিক পৌরসভায় নির্বাচন হচ্ছে। প্রথম তিন ধাপে ১৪৭টি পৌরসভায় মেয়র পদে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ১৩।

 

এর আগে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক দিনে অনুষ্ঠিত ২৩৪টি পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে নারী প্রার্থী ছিলেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ছয়জন, বিএনপির একজন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) পাঁচজন ও স্বতন্ত্র তিনজন। ২০১০-১১ সালের পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী হিসেবে ১৪ জন নারীকে মনোনয়ন দেয়। আর বিএনপি দেয় ১২ জন নারীকে।

 

গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের ২৪টি পৌরসভার নির্বাচনে নারী মেয়র প্রার্থী ছিলেন মাত্র একজন। পঞ্চগড় পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকিয়া খাতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন। আগামী ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের ৫৯টি পৌরসভায় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই ধাপে মেয়র পদে নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন সাতটি পৌরসভায়।

 

তাঁদের মধ্যে আওয়ামী লীগের চারজন, বিএনপির দুজন এবং স্বতন্ত্র একজন। তাঁদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ তারাব পৌরসভায় হাসিনা গাজী (আ. লীগ) বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে। অন্য যে ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন তাঁরা হলেন সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভায় বেগম আশানূর বিশ্বাস (আ. লীগ), নাটোরের গোপালপুর পৌরসভায় রোকসানা মোর্ত্তজা লিলি (আ. লীগ), বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে মোছা. ছাবিনা ইয়াছমিন (বিএনপি), নীলফামারীর সৈয়দপুরে রাফিকা আক্তার জাহান বেবী (আ. লীগ), নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরসভায় তাহমিনা পারভিন (স্বতন্ত্র) ও সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভায় রাশিদা আহমদ ন্যান্সি (বিএনপি)।

 

তৃতীয় ধাপে ৬৪টি পৌর সভায় আওয়ামী লীগ মাত্র দুজন নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। তাঁরা হলেন নড়াইল পৌরসভায় আঞ্জুমান আরা ও টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সালমা আক্তার। বিএনপি এই ধাপে কোনো নারীকে প্রার্থীকে করেনি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন বরগুনা পৌরসভায় মহাসীনা মিতু, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পৌরসভায় চিনু বেগম এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় তাহরিমা আক্তার। এই ধাপের নির্বাচন হবে ৩০ জানুয়ারি। আর চতুর্থ ধাপে ৫৬টি পৌরসভায় নির্বাচন হবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি।

 

ছাতক পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী রাশিদা আহমদ ন্যান্সি গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই ছাতক উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান (মহিলা) হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেছি। আমার আত্মবিশ্বাস আছে যেকোনো কাজ করার। বাধার সম্মুখীন হয়েছি, হব। কিন্তু সেটা মোকাবেলা করার সাহস ও মনোবল আছে।’ প্রতিপক্ষের বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসহ নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন জানিয়ে ন্যান্সি বলেন, ‘জীবন বাজি রেখেই আমি ছাতক পৌরসভার ১৭ বছরের অচলাবস্থা ভাঙতে কাজ করে যেতে চাই।’মোহনগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাহমিনা পারভীন বীথি বলেন, ‘শত বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে এবার নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।’

 

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভায় মেয়র পদে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রার্থী হলেন রাফিকা আকতার জাহান ওরফে বেবী। তিনি আওয়ামী লীগের সৈয়দপুর উপজেলার সভাপতি সদ্যঃপ্রয়াত আখতার হোসেন বাদলের সহধর্মিণী। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ থেকে তাঁকে পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভায় প্রার্থী বেগম আশানুর বিশ্বাস বর্তমান মেয়র। তাঁর স্বামী প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাস।

 

নাটোরের গোপালপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী রোকসানা মোর্ত্তজা লিলি প্রথমবার্তাকে বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন না। দলের নেতাকর্মীরা তাঁকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন।’

 

পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নারী প্রার্থীদের এই সংখ্যা মোটেই সন্তোষজন নয় বলেই মনে করেন নারী নেত্রীরা। নারী ও মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নারীদের জন্য সমান অধিকার কেউ স্বেচ্ছায় দেবে না। এ কারণে নারী সংগঠনগুলোর সুপারিশে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনে এই শর্ত যোগ করা হয় যে ২০২০ সালের মধ্যে নিবন্ধিত দলগুলোর সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

সময় পার হয়ে গেলেও তা পূরণ হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে নারী প্রার্থী না দেওয়ার কারণ হিসেবে দলগুলো নানা অজুহাত দেখায়। এর মধ্যে একটি অজুহাত হচ্ছে, নারীদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায় না। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্ণ হতে চললেও নারীদের কেন যোগ্য করে তোলা যাচ্ছে না, তার দায়ভার রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।’

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও সৈয়দপুর প্রতিনিধি]