আজ ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

খুন হওয়ার আগে ২১ বার ফোন করেছিলেন প্রিয়াঙ্কাকে

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে খুন হয়েছেন জুনিয়র মৃধা? নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য ষড়যন্ত্র? প্রিয়াঙ্কাকে টানা জিজ্ঞাসাবাদের সেই রহস্যভেদেই ব্যস্ত সিবিআই।

২০১১ সালে প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে টলিউডের বেশ কয়েকজনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জিজ্ঞাসাবাদে জানার চেষ্টা চলছে, কার কথায় সেদিন জুনিয়রকে অফিস থেকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তিনি? অথচ প্রিয়াঙ্কা নিজে যাননি কেন? সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তর অসংগতি রয়েছে। সিবিআই মনে করছে, কাউকে আড়ালের চেষ্টা করছেন প্রিয়াঙ্কা।

জুনিয়র মৃধা হত্যারহস্যের পরতে পরতে চাঞ্চল্যকর মোড় রয়েছে। শুধু প্রিয়াঙ্কাই নন, ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে সিবিআইয়ের ব়্যাডারে রয়েছে আরো তিনজন। সিবিআই সূত্রের খবর, রহস্যভেদ করতে প্রিয়াঙ্কাকে দফায় দফায় জেরা চলছে। খুনের দিন প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে জুনিয়রের ২১ বার কথা হয়। সিবিআই সূত্রে জানা যায়, রাত ৯.২১-এ শেষবার প্রিয়াঙ্কাকে ফোন করেন জুনিয়র মৃধা। বেশ কিছুক্ষণ ধরে কথা হয় দুজনের। তার পরেই সাড়ে ৯টা নাগাদ খুন হন জুনিয়র মৃধা।

শেষ কলে দুজনের মধ্যে কী কথা হয়, তার উত্তর দিতে পারছেন না প্রিয়াঙ্কা। এ ছাড়া উঠে আসছে বেশ কয়েকটি প্রশ্নও। বাড়ি থেকে বেরিয়ে মাঝরাস্তায় কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন প্রিয়াঙ্কা? কেন সেদিন গাড়ি বদল করেছিলেন? পার্টিতে যাওয়ার আগে স্বামীর সঙ্গে জুনিয়র না টলিউডের প্রযোজক- কাকে নিয়ে গণ্ডগোল হয়, তারও কোনো সদুত্তর মেলেনি বলেই সিবিআই সূত্রের খবর। মৃধাকে ফোন করে সল্টলেকে ডাকা নিয়েও জবানবন্দিও বদল হয়েছে প্রিয়াঙ্কার- সিবিআই সূত্রের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে জি নিউজ।

জুনিয়র মৃধা খুনের কিনারা করতে তৎপর সিবিআই। বরানগরের বাসিন্দা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জুনিয়র মৃধা খুনের প্রায় সাড়ে ৯ বছর পর সিবিআই গ্রেপ্তার করেছিল মূল অভিযুক্ত প্রিয়াঙ্কা চৌধুরীকে। তাঁকে জেরার পর একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছিল সিবিআই-এর হাতে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে কি খুন? নাকি অন্য কোনো ষড়যন্ত্র? এই দ্বন্দ্বই যেন কাটছে না। এই খুনের ঘটনায় একাধিক প্রভাবশালী লোকের হাত রয়েছে। আর তাঁদের মধ্যেই কাউকে প্রিয়াঙ্কা আড়ালের চেষ্টা করছেন বলে মনে করছে সিবিআই। গ্রেপ্তারের পর প্রিয়াঙ্কাকে সাত দিনের জন্য হেফাজতে রেখেছিল সিবিআই।

মঙ্গলবার ব্যারাকপুর কোর্টে পেশ করা হয়েছিল প্রিয়াঙ্কাকে। আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছেন। ফের সিবিআই হেফাজতে থাকবেন তিনি। আরো তিন দিন হেফাজতে রেখে তাঁকে জেরা করবেন সিবিআই কর্তারা।