আজ ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

175639highcourt 1

পূর্বাচলে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম, একবছরের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:পারটেক্স গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান এম এ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেল ও আশফাক আজিজ এবং রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরীসহ ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগের মামলার বিচার চলবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে একবছরের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। শওকত আজিজ রাসেল এবং রাজউক কর্মকর্তা এড ডি ফয়েজ ও একেএম ওয়াহিদুল ইসলামের করা আবেদন খারিজ করে এ রায় দেন আদালত। একইসঙ্গে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার বিচার কার্যক্রমের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। শওকত আজিজ রাসেলের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুর রেজ্জাক খান ও ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কে এম সাইফুদ্দিন, দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

পারটেক্স গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত এম এ হাশেমের দুই ছেলে ও রাজউকের ৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলা করে। মামলার আসামিরা হলেন- এম এ হাশেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজ, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক পাঁচ সদস্য এস ডি ফয়েজ, এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলাম, এস এম জাফর উল্লাহ, এইচ এম জহুরুল হক ও রেজাউল করিম তরফদার।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ইকবাল উদ্দিন চৌধুরী রাজউকের চেয়ারম্যান থাকাকালে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে’ অন্যদের যোগসাজশে পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এম এ হাসেমের দুই ছেলে শওকত আজিজ ও আশফাক আজিজকে পূর্বাচল প্রকল্পে ১০ কাঠা করে মোট ২০ কাঠা জমির দুটি প্লট বরাদ্দ দেন। অথচ তাঁরা ওই প্রকল্পে শিল্পপতি কোটায় প্লট বরাদ্দের আবেদন করে প্লট পাননি। সে কারণে ওই আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়ে জামানতের টাকা তুলে নেন। আবেদন প্রত্যাহারকারীরা বিবেচনাযোগ্য না হলেও তা রাজউকের বিশেষ বোর্ড সভায় এই বরাদ্দ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হয়।

এ মামলায় তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেয় দুদক। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলাটি এখন ঢাকার আদালতে বিচারাধীন। এরইমধ্যে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এ অবস্থায় মামলাটি বাতিল চেয়ে আবেদন করেন শওকত আজিজ রাসেল। হাইকোর্ট গতবছর ১৪ নভেম্বর রুল জারি করেন এবং মামলার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। এ রুলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল তা খারিজ করে দেন আদালত। এছাড়া রাজউকের দুই সদস্য এস ডি ফয়েজ এবং এ কে এম ওয়াহেদুল ইসলামের করা আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন আদালত।