আজ ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মায়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন ছেলে!

প্রথমবার্তা, রিপোর্ট: মা-বাবা’ই সাধারণত ছেলেমেয়েদের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজেন, চিরাচরিত প্রথায় তো সেটাই দেখে এসেছি আমরা। কিন্তু এই চিরাচরিত প্রথার যদি উলাটপুরাণ ঘটে, তবে? মানে ছেলেমেয়েরাই যদি মা-বাবার জন্য সঙ্গী খোঁজেন, তাহলে এ সমাজ কী ভ্রুকুটি করবে? উত্তরটা সময়ই দেবে। কিন্তু এতটা উদার হতে সমাজের ঠিক কতটা সময় লাগবে, তা জানা নেই। তবে সমাজ যে ক্রমাগত আধুনিকমনস্ক হচ্ছে, তার নিদর্শন দিলেন চন্দননগরের এক যুবক।

 

 

 

 

নাম গৌরব অধিকারী। ব্যস্ত জীবনে, আমরা সত্যি হয়তো মা-বাবার দিকে তাকানোর সময় পাই না। স্কুল, কলেজ, অফিসের ব্যস্ততা এমনই যে আমরা আমাদের জন্মদাত্রী-জন্মদাতাকেও সেভাবে সময় দিতে পারি না। তাঁদের অভাব-ইচ্ছেপূরণ সম্ভবও হয় না কখনও। একটা বয়সের পর নিঃসঙ্গতায় ভুগতে থাকেন তাঁরা। অনেক মা-বাবাদেরই হয়তো সন্তানদের প্রতি অভাব-অভিযোগ থাকে। আবার কেউ বা মুখ বুজে থাকেন। কিন্তু একাকীত্ব কুরে কুরে খায় তাঁদের।

 

 

 

 

 

আর মা কিংবা বাবার মধ্যে কেউ যদি সঙ্গীহীন হন, তাহলে সেই একাকীত্বের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ঘিরে ধরে অবসাদ। যাঁরা এতদিন সস্নেহে লালন-পালন করে সন্তানদের বড় করলেন, যাঁদের হাত ধরে বড় হওয়া, সন্তানদেরও তো দায়িত্ব এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা। মায়ের প্রতি সেই দায়িত্বই পালন করেছেন চন্দননগরের যুবক গৌরব অধিকারী।

 

 

 

 

 

গৌরব পেশায় গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। এই যুবকই তাঁর চল্লিশোর্দ্ধ মায়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন। কীরকম পাত্র চাই, তা লিখেওছেন নিজের ফেসবুকে। বাবা গত হয়েছেন ২০১৪ সালে। মা দোলা অধিকারীকে একাই থাকতে হয় বাড়িতে। সঞ্চালক হওয়ায় কর্মসূত্রে মাঝেমধ্যেই বাড়ির বাইরে থাকেন। তাই সময় দিতে পারেন না মা’কে। তাই মায়ের জন্য সঙ্গীর খোঁজে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

 

গৌরবের কথায়, “মা আমার মা’ও বটে, আবার কন্যাও বটে!” তাই ছেলে হয়ে একজন ‘বাবা’র মতোই দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে ফেলেছেন তিনি। আজ গৌরবের জন্মদিন। দায়িত্ববান পুরুষের মতো মায়ের জন্য পাত্রের খোঁজ করেই তিনি উদযাপন করছেন এই দিনটিকে। তা পাত্র কেমন হতে হবে? গৌরবের কথায়, টাকা-পয়সা বা সম্পত্তি কিছু চাই না।

 

 

 

 

 

 

তবে পাত্রকে স্বনির্ভর হতে হবে আর মা’কে ভাল রাখতে হবে। চন্দননগরে আমাদের নিজেদের বাড়ি আছে। একজন সুস্থ সবল ভাল মনের মানুষ হলেই হল। কে কী ভাবল বা বলল, যায়-আসে না! দিনের শেষে আমি চাই আমার মা আর পাঁচ জনের মতো ভাল থাকুক, হাসিখুশি থাকুক।সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন