আজ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৮ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভারত বাংলাদেশে যে কারণে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে চাইছে…..

প্রথমবার্তা, নিজস্ব প্রতিবেদক:     বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত। আসলে পেঁয়াজ নিয়ে বেশ বিপদে পড়েছে ভারত। আর সেই বিপদ থেকে উদ্ধার হতেই এখন বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি করতে চাইছে ভারত সরকার। নিজেদের কয়েকটি প্রদেশের সরকারের দেওয়া চাহিদাপত্র অনুযায়ী বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছিলো ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু এখন আর সেই পেঁয়াজ নিতে চাইছে না প্রাদেশিক সরকারগুলো।

 

 

 

 

সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হকের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশকে পেঁয়াজ কিনে নেয়ার প্রস্তাব দেন। এরপরই বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত।

 

 

 

 

ভারতের ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য প্রিন্ট’ এর একটি প্রতিবেদনে ওই বৈঠকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়, বিভিন্ন প্রদেশের চাহিদার ভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানি করে বিপাকে পড়েছে সরকার।

 

 

 

 

‘দ্য প্রিন্ট’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ভারত বিদেশ থেকে মোট ৩৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির চুক্তি করেছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশটিতে ১৮ হাজার টন পেঁয়াজ পৌঁছেছে।

 

 

 

 

তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রদেশের সরকার আমদানিকৃত পেঁয়াজের মাত্র ৩ হাজার টন নিয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরে খালাসের অপেক্ষায়।

 

 

 

 

চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতের ভোক্তা কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী রাম বিলাস পাসওয়ান জানান, আমদানিকৃত পেঁয়াজের মহারাষ্ট্র সরকার ১০ হাজার টন, আসাম ৩ হাজার টন, হরিয়ানা ৩ হাজার ৪৮০ টন, কর্ণাটক ২৫০ টন ও ওড়িশ্যা প্রদেশ সরকার ১০০ টন চাহিদা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

 

 

 

 

 

গত নভেম্বর এবং ডিসেম্বরে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১০০ রুপি পেরিয়ে যাওয়ার পর এসব রাজ্য এই নিত্যপণ্যটি আমদানি করতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। এখন তারা আমদানিকৃত পেঁয়াজের উচ্চমূল্য এবং স্বাদের ভিন্নতার অজুহাত দেখিয়ে সেগুলো নিতে রাজি হচ্ছে না।রাজ্যগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিতে রাজি না হওয়ায় সেগুলো পচে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

ওই কর্মকর্তা বলেন, ভারত এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫০ হাজার থেকে ৫৯ হাজার (৬০০ থেকে ৭০০ ডলারে) টাকায় আমদানি করেছে। এখন বাংলাদেশকে এসব পেঁয়াজ প্রতি টন ৫৫০ থেকে ৫৮০ ডলারে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে মোদি সরকার।

 

 

 

 

ওই বৈঠকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার রকিবুল হক বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে চীন থেকে পেঁয়াজ আমদানি করেছে এবং নেপাল হয়ে আরও পেঁয়াজ দেশের বাজারে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। সুতরাং বিনামূল্যে পরিবহনসহ ভারতের কিছু প্রণোদনা দেয়া উচিত।

 

 

 

 

 

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ দ্রুত পচনশীল। ভারতের কেনা পেঁয়াজের গুনগত মান ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া ভারত বেশি দামে পেঁয়াজ আমদানি করেছে। তাই সেই পেঁয়াজ বাংলাদেশের আমদানি করা ঠিক হবে না।

 

 

 

 

 

এ ব্যাপারে ঢাকায় পেঁয়াজের পাইকারী বাজার শ্যামবাজারের আমদানিকারক শংকর চন্দ্র ঘোষ যুগান্তরকে বলেন, ওই পেঁয়াজের টেম্পার (খাদ্যমান) নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলোর মান এখন ভালো নেই।

 

 

 

 

 

এগুলো বাংলাদেশের কারও আমদানি করা ঠিক হবে না।এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের দাম নিজেদের বাজারে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত।

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন