আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সেই শিক্ষক ক্ষমা পেলেন না, স্ক্রিনশর্ট ভাইরাল…..

প্রথমবার্তা,নিজস্ব প্রতিবেদক:    নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক রাশিদ আহমেদ তালুকদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠার পর ক্ষমা চেয়েও রেহাই পেলেন না তিনি।

 

 

 

 

অনার্সপড়ুয়া কলেজছাত্রীদের ফেসবুক ইনবক্সের নানা কনভারসেশন, মোবাইল নম্বর চাওয়া, ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে সখ্যতা গড়ে আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়ার বিষয়গুলো সামনে আসার পর ওই শিক্ষককে মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ পিরোজপুরে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

 

 

 

 

গতকাল বুধবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. ফরহাদ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সংক্রান্ত আদেশের একটি নোটিশ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়।

 

 

 

চিঠিতে জানানো হয়, ‘বৃহস্পতিবারের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হবেন রশিদ আহমেদ। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্নে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত মর্মে গণ্য হবেন।’

 

 

 

 

এর আগে গত সোমবার দুপুরে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর ফেসবুকে ওই শিক্ষকের পাঠানো বিভিন্ন স্ক্রিনশর্ট ভাইরাল হওয়ার পর শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের নজরে আসে বিষয়টি। এরপরই এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এক ছাত্রী।

 

 

 

এরই ধারাবাহিকতায় এলাকাবাসী অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে চাইলে চাপের মুখে তিনি সত্য স্বীকার করেন এবং হাতজোড় করে ক্ষমা চান।

 

 

 

জানা যায়, কবিতা শোনানোর কথা বলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাংলা বিভাগের ছাত্রীদের কাছে তিনি মোবাইল নম্বর চাইতেন। নম্বর না দিলে কলেজে এসে পরীক্ষা দেয়ার হুমকি, হীনমন্যতাসহ বাংলা বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন তিনি।

 

 

 

 

অভিযোগে জানা যায়, ওই নিপীড়ক শিক্ষক ছাত্রীদের ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে কবিতার বই বিক্রি করে দেয়ার নাম করে প্রথমে সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করতেন। মহিলা কলেজের শিক্ষক দেখে অনেকেই তার রিকুয়েস্ট গ্রহণ করতেন। গত ৬ মাস ধরে কিংবা তারও বেশি সময় ধরে তিনি এমন কুকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এরইমধ্যে এক ছাত্রী প্রতিবাদ করায় একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে অন্য ছাত্রীদের ফেসবুক ইনবক্সের নানা কনভারসেশন।

 

 

 

কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় কলেজের পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সাময়িকভাবে ওই শিক্ষকের পরীক্ষার ডিউটি বন্ধ করে দিয়েছে। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাসে কলেজ ত্যাগ করেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

 

 

 

জেলা শহরস্থ নারীদের উচ্চশিক্ষার একমাত্র প্রতিষ্ঠান কলেজটিতে শিক্ষকের এমন অশোভন ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও সচেতন মহল। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাহেজা বেগম।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর ওই শিক্ষককে পরীক্ষার হল পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেয়া পর্যন্ত তিনি পরীক্ষায় ডিউটি করবেন না।

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন