আজ ২২শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৬ই আগস্ট, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ইসলামি শরীয়তের লঙ্ঘন করোনায় মসজিদে নামাজ পড়া

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মহামারির প্রাদুর্ভাবের সময়ে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায় করা ইসলামি শরীয়তের নির্দেশনা লঙ্ঘন বলে মত দিয়েছেন মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ফতোয়া বোর্ড।

 

 

 

করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুর ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এ ফতোয়াটি জারি করা হয়েছে। এর আগে করোনার প্রাদুর্ভাবে মসজিদে নামাজের জামাত ও জুমার নামাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা যাবে বলে মত দিয়েছিলেন তারা।

 

 

 

 

 

শুক্রবার আল-আজহারের সিনিয়র ধর্মীয় স্কলার কাউন্সিল একমত পোষণ করেছেন যে, এমনকি নামাজের উদ্দেশ্যেও মহামারির প্রাদুর্ভাবের সময় যে কোন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে সেটা ইসলামি শরিয়াহ আইনের লঙ্ঘন হবে।

 

 

 

 

 

এটি কোভিড-১৯ সম্পর্কিত তাঁদের দ্বিতীয় ফতোয়া। ফতোয়াটি তারা আরবী ভাষায় লেখা একটা বিবৃতির মাধ্যমে তাদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছে।

 

 

 

 

বিবৃতি অনুসারে, কাউন্সিল সম্মত হয়েছে যে মহামারির সময়ে জনসাধারণের নামাজসহ যে কোনও প্রকার ধর্মিয় সমাবেশ শরিয়াহ আইনের লঙ্ঘন। কারণ এতে শারীরিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে যেতে পারে। এসময় নামাজ বাড়িতে পড়াই সবচেয়ে উত্তম পন্থা।

 

 

 

 

আল-আজহারের গ্র্যান্ড ইমাম শেখ আহমদ আল-তায়েবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কাউন্সিলের কোভিড-১৯ সম্পর্কিত এটা দ্বিতীয় ফতোয়া জারি।

 

 

 

 

এসময়ে অনুমান নির্ভর তথ্য এবং গুজব ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছে কাউন্সিল। মহামারি চলাকালীন জনসাধারণকে রক্ষার জন্য মসজিদ বন্ধ করা সহ সরকারের নির্দেশনা মেনে চলা ধর্মীয় দায়িত্ব বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

 

এছাড়া মহামারি ও বিপর্যয়ের সময়ে পণ্য সামগ্রির একচেটিয়া ব্যবসা ও মূল্যবৃদ্ধি করা ধর্মীয় আইনের চূড়ান্ত লঙ্ঘন বলে মন দিয়েছে কাউন্সিল।

 

 

 

 

এছাড়া এমন দুর্যোগের সময়ে করোনার প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষকে তাদের যাকাতের প্রাপ্য অগ্রিম দিয়ে দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

 

 

 

 

আল-আজহারের জারি করা ফতোয়ায় বলা হয়, করোনাভাইরাস গোটা পৃথিবীতে খুব দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। পর্যুদস্ত করে দিচ্ছে প্রতিটি দেশকে। অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এই ভাইরাসে। আক্রান্তের সংখ্যাও কম নয়।

 

 

 

 

 

ইসলামী আইনের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হল, মানুষের জীবন বাঁচানো এবং যাবতীয় বিপদাপদ থেকে সবাইকে রক্ষা করা। এই বৃহৎ লক্ষকে সামনে রেখেই প্রতিটি মুসলিম দেশের রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের মসজিদে সম্মিলিত নামাজ আদায় এবং জুমার নামাজের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপের অনুমতি রয়েছে। ফতোয়ায় আরও বলা হয়, মানবজীবন সুরক্ষার জন্য এই মুহূর্তে সবধরনের সভা- সমাবেশ ও দোয়া অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা উচিত।

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন