আজ ২৫শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৯ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ভ্যাকসিন কাজে আসবে না যেসব কারণে, পৃথিবী থেকে করোনাও যাবে না

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  মহামারি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আদৌ তৈরি হবে কি না তা নিয়ে সংশয় দিন দিন জোরাল হচ্ছে। শুক্রবার বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের বিজ্ঞান সম্পাদক ইয়ান স্যাম্পল এক নিবন্ধ ভ্যাকসিন না আসার বিস্তারিত পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।

 

তিনি নিবন্ধে ‘হার্ড ইমিউনিটি’কেই শেষ পর্যন্ত করোনা মোকাবিলার বাস্তব উপায় বলে ভাবছেন।ইয়ান স্যাম্পল লেখেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভ্যাকসিন তৈরির সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

 

তারা ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দিতে চায় এর পরীক্ষার জন্য। ইংল্যান্ডের সরকারও সর্বোচ্চ চেষ্টা জারি রেখেছে ভ্যাকসিন আবিষ্কারে।তবে এ সপ্তাহের শুরুতে ইংল্যান্ডের উপপ্রধান মেডিক্যাল অফিসার জনাথন ভ্যান-টাম বলেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত নই যে একটা ভ্যাকসিন আমরা তৈরি করতে পারব’।

 

ইয়ান স্যাম্পল লেখেন, ভ্যাকসিন তাত্ত্বিকভাবে সহজ, কিন্তু বাস্তবতায় জটিল। উদাহরণ হিসাবে তিনি ৩০ বছর আগের এইচআইভির ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার না হওয়া, ১৯৪৩ সালের ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন মাত্র গত বছর অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন।

 

মামপস রোগের ভ্যাকসিন সবচেয়ে দ্রুত আবিষ্কার হয়, তাও চার বছরে।এ ছাড়া সার্স ও মার্স করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।তিনি লেখেন, করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ একই রোগে বার বার ভোগে।

 

যেমন ঠান্ডাজনিত রোগ। এসবের বিরুদ্ধে মানুষের শরীরে প্রতিরোধ তৈরি হলেও কিছুদিন পর তা কমে আসে। ফলে এই রোগে তারা আবার আক্রান্ত হয়।নভেল করোনাভাইরাস বা কভিড-১৯ এর ক্ষেত্রেও যা হওয়ার সুযোগ আছে।

 

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, কভিড-১৯ বিজয়ীদের শরীরে অ্যান্টিবডি প্রথম মাসের পর থেকেই কমতে থাকে। এ ছাড়া যারা কম উপসর্গ নিয়ে বাসায় থেকেই সুস্থ হয়েছেন তাদের রক্তেও কভিড-১৯ কে নিশ্চিহ্ন করার মতো অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না বলে নিউইয়র্কের রকফেলার ইউনিভার্সিটির গবেষণায় দেখা গেছে।

 

আইওয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক স্ট্যানলি পারলম্যান বলেন, যদি শরীরেই পর্যাপ্ত প্রতিরোধ তৈরি না হয় ক্ষতের বিরুদ্ধে তাহলে ভ্যাকসিন কী করতে পারে। বড় জোর এক বছর ঠেকিয়ে রাখতে পারে।

 

ভ্যাকসিন কার্যকর না হওয়ার কারণ হলো, ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয় ভাইরাসের ঘন ঘন জিন পরিবর্তন। কভিড-১৯ রোগের জন্য দায়ী ভাইরাসের ‘স্পাইক’ যার মাধ্যমে সে মানবদেহে প্রবেশ করে তা বার বার পরিবর্তন ঘটাচ্ছে।

 

ফলে কোনো একটি ভ্যাকসিন কখনো কাজে লাগলেও তার কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাবে।এসব ভ্যাকসিনের কারণে মানব শরীরে কী প্রতিক্রিয়া হয় তা নিয়েও রয়েছে আতঙ্ক। সার্স ও মার্স ভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর প্রাণীরা মারাত্মক শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতায় পড়ে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মডারনা যে ২৫ জনের ওপর তাদের ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেছে তাদের মধ্যে এ রোগ থেকে স্বাভাবিকভাবে সেরে ওঠা মানুষদের মতোই অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন তৈরির পরও বানরেরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছে।

 

যদি মানুষের শরীরে এটা কার্যকর হয়ও তাহলে তারা হয়ত মরবে না, কিন্তু রোগ ছড়ানোও বন্ধ হবে না।ইয়ান স্যাম্পল যে কারণে বিভিন্ন গবেষকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন, এক বছরের জন্য হয়ত ভ্যাকসিন শরীরে কাজ করবে তারপর আবার করোনায় আক্রান্তের ঝুঁকি তৈরি হবে।

 

তিনি হংকংয়ের এক গবেষকের উদ্ধৃতি উল্লেখ করেন। ওই গবেষক বলেন, করোনাকে নিয়েই থাকতে হবে মানুষের। সে জন্য মাস্ক পরতে হবে অফিস, যাতায়াত বা গণজমায়েতের মতো জায়গাগুলোতে। আর বাইরেরর খাবার খাওয়া যাবে না।

 

সামাজিক দূরত্বকে আরো সহজ করতে হবে। রেস্টুরেন্টগুলোকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।ইয়ান স্যাম্পল বলেন, তরুণরা ভ্যাকসিন নিয়ে বাইরে কাজ করতে পারলেও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি থেকেই যাবে।

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন