আজ ২১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই জুলাই, ২০২০ ইং

সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে হবে লক ডাউনের মূল উদ্দেশ্য সফল হয়েছে কিনা: আ স ম রব

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে দেশবাসী গভীর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। লকডাউন বা ছুটির মূল উদ্দেশ্য সফল হয়েছে কিনা তার কোন মূল্যায়ন না করে সরকার অবিবেচকের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

 

যার জন্য জাতিকে চরম মাশুল দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিবৃতিতে আ স ম রব বলেন, দেশবাসি প্রতিদিন প্রত্যক্ষ করছে যে দেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এটা এখন শুধু নিম্নবিত্ত বা মধ্যবিত্ত জনসাধারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।

 

উচ্চবিত্ত, শিল্পপতি কেউই রেহাই পাচ্ছে না। করোনার উর্ধ্বগতিতে দেশবাসী আতঙ্কগ্রস্ত। করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধ না করতে পারলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

লকডাউন করে করোনা পরিস্থিতি বা লকডাউন এর মূল উদ্দেশ্য সফল হয়েছে না, ব্যর্থ হয়েছে এনিয়ে কোন মূল্যায়ন না করেই সরকার অবিবেচকের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে। সরকারের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের জন্য জাতিকে চরম মাশুল দিতে হবে।

তিনি বলেন, লক ডাউনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মধ্যে করোনার বিস্তার রোধ করা। সে কাজটি গত দু’মাসে মোটেই সুচারুরূপে সম্পাদন করা হয়নি। এককথায় গত দু’মাসের লকডাউন বৃথাই গিয়েছে।

 

এর মূল কারণ হলো জাতিকে করোনা মোকাবেলায় উদ্বুদ্ধ করা যায় নি, জাতিকে এ লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধও করা হয় নি। সরকারের আত্মম্ভরিতা আর একলা চলো নীতি আজ এই ভয়ংকর পরিস্থিতির জন্য দায়ী।

 

লক ডাউন প্রত্যাহারের পূর্বে অবশ্যই চিন্তা করা উচিত সংক্রমণ বাড়বে কিনা এবং বর্ধিত সংক্রমণে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষমতা আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আছে কিনা।

 

তা যদি আমাদের সক্ষমতার মধ্যে থাকে কেবল মাত্র তখনই লক-ডাউন প্রত্যাহার বিবেচনা করা যেতে পারতো। এ বিষয়ে সরকার গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সুপারিশ এড়িয়ে যাওয়া একটা ভুল পদক্ষেপ।

বিশ্বের সকল দেশে করোনা পরিস্থিতি যখন তাদের অনুকূলে এসেছে তখনই কেবল তারা লক-ডাউন প্রত্যাহারে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা গ্রহন করেছে। অথচ একমাত্র আমাদের দেশেই যখন করোনায় আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী তখন সরকার অবিবেচকের ন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

বিরাজিত অবস্থায় জরুরি করণীয়ঃ

১. যথেষ্ট সংখ্যক করোনা পরীক্ষা করা; এ জন্য প্রতি জেলায় ল্যাব স্থাপন করতে হবে। পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন রোগী সনাক্তকরণ এবং তাদের কন্টাক্ট ট্রেসিং করে রোগ নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এজন্য প্রচুর সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করতে হবে।

২. নিরন্ন মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে যাতে তাদের বাইরে বের হবার প্রয়োজন না হয়।

৩.জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মোতাবেক ধাপে ধাপে লক ডাউন প্রশ্নে পদক্ষেপ নিতে হবে।

৪. ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য অবিলম্বে “জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল” গঠন করতে হবে। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলের কাজ হবে একটি সুচিন্তিত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রনয়ণ।

 

আসন্ন বাজেট থেকেই এর অর্থায়ন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে এর একটি প্রধান লক্ষ্য হবে। জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিলকে হতে হবে ইনক্লুসিভ এবং অংশীদারিত্বমূলক তথা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজন সমাজশক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করে এটা গঠন করতে হবে।

৫..জাতিকে করোনা মোকাবেলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এ জন্য দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল, শ্রম, কর্ম, পেশার প্রতিনিধি সমন্বয়ে কার্যকর জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন