আজ ২১শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ৫ই জুলাই, ২০২০ ইং

কী লেখা ছিল সালমান শাহর লাভ লেটারে?

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ  নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো সালমান শাহর আবির্ভাব। মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি।

 

বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকা অবস্থায় সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন।পর্দায় তার সাবলীল অভিনয় দেখে অসংখ্য ভক্ত প্রেমে পড়েন। বাস্তব জীবনে এই অমর নায়ক ছিলেন প্রেমিক পুরুষ।

 

চলচ্চিত্রে পা রাখার আগেই ভালোবেসে বিয়ে করেন সামিরাকে। তাদের সেই মধুর প্রেমের গল্প রাইজিংবিডিকে শুনিয়েছেন সামিরা।সালমান শাহর সঙ্গে প্রথম পরিচয়ের স্মৃতি স্মরণ করে সামিরা বলেন—‘আমার ছোটবেলা কেটেছে চট্টগ্রামে।

 

সেখানেই লেখাপড়া করি। আমার বাবা সাবেক তারকা ক্রিকেটার শফিকুল হক হীরা। আমার মা লতিফুল হক লুসি। আমার আম্মা চাইনিজ। চট্টগ্রামে মায়ের পার্লার ছিল। আম্মার সঙ্গে মলি খালার ভালো সর্ম্পক ছিল।

 

১৯৯০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রাম ক্লাবে একটি ফ্যাশন শোয়ের আয়োজন করা হয়। ফ্যাশন শোয়ের সদস্য ছিল আমার বাবা। সে হিসেবে আমি ফ্যাশন শো দেখতে গিয়েছিলাম। মলি খালাও শো দেখতে গিয়েছিল।

 

সেদিন অনেকের সঙ্গে ইমন (সালমান শাহ) নামে একটি ছেলে পারফর্ম করেছিল। শো শেষে মলি খালা ইমনের সঙ্গে আমার পরিচয় করিয়ে দেয়। ইমন খালার বড় বোনের ছেলে। পরিচয়ের প্রথম কথাতেই ইমন হঠাৎ সবার সামনে আমাকে বলে বসল, ‘তুমি কিন্তু আমার বউ!’

 

আচমকা এমন কথা শুনে অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন সামিরা। সেদিনের মতো অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলেও পরের দিনই সামিরার সামনে হাজির হন সালমান শাহ। সামিরা বলেন, ‘‘কথাটা শুনে আমি ভেবেছিলাম ছেলেটা একটা পাগল!

 

পর দিন সকালবেলা ইমন মলি খালাকে নিয়ে আমার আম্মার পার্লারে চলে আসে। তখন সে আমাকে একটি চিঠি দিয়ে যায়। চিঠিটি ছিল রক্তে লেখা। রক্তের চিঠি দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। এর আগেও প্রেমের চিঠি পেয়েছি।

 

কিন্তু রক্তে লেখা চিঠি এই প্রথম। সুতরাং কীভাবে ধরব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। চিঠির শুরুটাই ছিল ‘বউ’ দিয়ে। এরপর লেখা: ‘প্রথম দেখাতেই আমি বুঝে গেছি আমার জীবনে আমি কাকে চাই।

 

আমি দেখা মাত্রই বুঝে গেছি তুমি আমার।’ চিঠিটা বাংলায় লেখা ছিল। ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ার কারণে তখন আমি বাংলা ভালো পড়তে পারতাম না।’’চিঠি লিখেই থেমে জাননি সালমান শাহ।

 

প্রত্যেকদিন সামিরার বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতেন সালমান শাহ। সামিরা বলেন, ‘অনেকবার ও ফোন করেছে। বাসার সামনে এসে দাঁড়িয়ে থেকেছে। এভাবেই চার মাস চলল।

 

ইমন তখন বাংলা মিডিয়াম থেকে এইচএসসি পাস করেছে। আর তখন আমার বয়স ১৭ বছর। অক্টোবরের ১৭ তারিখ আমি ইমনের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি হই। এরপর থেকে ইমন প্রতি মাসের ১৭ তারিখ আমাকে ফুল দিত।

 

পরে আমাদের প্রেমের বিষয়টি বাসায় জানাজানি হয়ে যায়। এজন্য আমি আম্মুর হাতে মারও খেয়েছি। ইমন বাসার সামনে চলে আসত। সিগারেট দিয়ে হাত পুড়িয়ে ‘এস’ লিখে দেখাত।’

 

সামিরা বলেন, ‘ইমন আগে থেকেই মডেলিং ও টুকটাক নাটকের কাজ করত। শত ব্যস্ততার মাঝেও আমাকে কিন্তু সময় দিতে ভুল হতো না। তাজিব নামে ইমনের এক বন্ধু ছিল।

 

তাজিব ভাইয়ের বাসা ছিল গ্রীনরোড। ৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর তাজিব ভাইয়ের গাড়িতে আমি-ইমন একসঙ্গে বেড়াতে বের হই। ঘুরতে ঘুরতে অনেক রাত হয়ে যায়।

 

উত্তরায় পুলিশ আমাদের গাড়ি থামায়। তারা জানতে চাইল আমরা সম্পর্কে কী হই? ইমন স্ট্রেইট বলে দিলো আমাদের প্রেমের কথা। বিয়ে না করে এত রাতে ঘোরাঘুরি করছি বলে পুলিশ আমাদের আটক করে। পরে আমার এক মামা আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসে।’

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন