আজ ২৭শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১১ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

কোভিড১৯ ঃ ডায়াবেটিস রোগীর সতর্কতা

প্রথমবার্তা, স্বাস্থ্য : ডায়াবেটিস রোগী এখন প্রায় প্রতি ঘরে ঘরে । এইসব রোগী এমনিতেই বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বেশী থাকে ।
বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সবারই সতর্ক থাকতে হচ্ছে । কিন্তু যারা ডায়াবেটিক রোগী তাদের অন্যান্যদের
চেয়ে বেশী সতর্ক থাকতে হবে । বিষয়টা এমন নয় যে তার ভাইরাস ধরা পড়ার ঝুঁকি অন্য কারও চেয়ে বেশি
কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়লে এসব রোগীদের খারাপ জটিলতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে । এবং বিশেষত যদি
ডায়াবেটিস সু-নিয়ন্ত্রিত না হয় ।

এজন্য নিম্মোক্ত বিধি গুলো মেনে চলা উচিৎ
 সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা ।
 স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ।
 ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা
 ডায়াবেটিক ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা

ডায়াবেটিস এবং করোনভাইরাস

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের অতিরিক্ত অসুস্থবোধ না করলে হাসপাতালে যাওয়ার দরকার পরে না ।
প্রাথমিক একটা গবেষণায় দেখা গেছে যে ,যারা হাসপাতালে গুরুতর কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি হয়েছে
তাদের মাঝে ২৫% মানুষের ডায়াবেটিস ছিল। তাদের মাঝে মারা যাওয়ার হারও বেশী । এর একটি কারণ হলো ,
রক্তে উচ্চ শর্করার হার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা
নষ্ট করে ফেলে ।

যাদের ডায়াবেটিসের সাথে অন্যান্য রোগ যেমন হার্ট বা ফুসফুসজনিত বা কিডনীজনিত রোগ বালাই থাকে তাহলে
গুরুতর করোনভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেশি।
কোন ডায়াবেটিস রোগী যদি কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয় ,তাহলে তার ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস হওয়ার
ঝুঁকি থাকে । যখন রক্তে কিটোনস নামে উচ্চ মাত্রার অ্যাসিড তৈরি হয় তখনই DKA (ডায়াবেটিক
কিটোএসিডোসিস ) হয় । ডিকেএ শরীরে তরল এবং লবণের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। যেটা খুব গুরুতর হতে পারে।

সংক্রমণ এড়াতে কি করবেনঃ
সর্বোত্তম উপায় হল যতটা পারেন বাড়িতে থাকুন।
যদি বাইরে যেতেই হয় তবে অন্যান্য ব্যক্তিদের থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট দূরে রাখুন এবং একটি কাপড়ের মাস্ক
পরুন। বাইরে বেরোনোর সময় এবং বাড়ি ফিরে অবশ্যই হাত ধোবেন বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
ইনসুলিন ইনজেকশন নেয়ার আগে আগেও হাত ধুয়ে নিন এবং যে জায়গায় ইনজেকশন দিবেন সে জায়গাটি
পরিস্কার করে নিন ।
বাড়ির প্রত্যেকেরই নিজের হাত প্রায়শই ধোয়া উচিত, বিশেষত পরিবারের জন্য রান্না করার আগে। কোনও
বাসন বা অন্যান্য ব্যক্তিগত আইটেম ভাগ করা যাবে না এবং যদি আপনার বাড়ির কেউ অসুস্থ থাকে তবে
আপনার কাছ থেকে যতদূর সম্ভব তাদের নিজের ঘরে থাকতে হবে। যখন একই ঘরে থাকতে হবে তখন তাদের
একটি কাপড়ের মাস্ক পড়তে হবে।

 

COVID-19 এ ডায়াবেটিক রোগীর পরিকল্পনাঃ

 ইনসুলিন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় ঔষধ পর্যাপ্ত পরিমাণ বাসায় রাখা যাতে বার বার বাইরে যেতে না
হয় ।
 রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে হাতের কাছে মধু, চিনি-মিষ্টি বা ফলের রসের সহজলভ্যতা নিশ্চিত
করতে হবে ।
 অনেক সময় ডাক্তারের সাথে কথা বলার দরকার হতে পারে,তাই তার ফোন নাম্বার ম্যানেজ করে
রাখতে হবে ।
আপনি যখন আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলবেন, জিজ্ঞাসা করুন:
 কতবার আপনার রক্তে শর্করার পরীক্ষা করতে হবে।
 আপনি অসুস্থ হলে আপনার ডায়াবেটিসের ওষুধ কীভাবে সমন্বয় করবেন ।
 ঠান্ডা বা ফ্ল এর কোন ঔষধগুলো আপনার পক্ষে নিরাপদ ।

 

অসুস্থ হলে কী করবেন
যদি আপনি অসুস্থ বোধ শুরু করেন তবে বাড়িতে থাকুন। মানসিকভাবে শক্ত থাকুন । আপনার রক্তে শর্করাকে
স্বাভাবিকভাবে যতবার পরীক্ষা করতেন তার চেয়ে বেশি বার পরীক্ষা করুন। কোভিড-১৯ আপনার ক্ষুধা হ্রাস
করতে পারে এবং কম খাওয়ার কারণে শরীর দূর্বল করে ফেলতে পারে। অসুস্থ থাকাকালীন স্বাভাবিকের চেয়ে
বেশি তরল প্রয়োজন। জল কাছাকাছি রাখুন, এবং পান করুন।
জ্বর বা কাশি জাতীয় ভাইরাসের লক্ষণগুলি থেকে মুক্তি দেয় এমন কিছু ওষুধ রক্তে শর্করার মাত্রাকে
প্রভাবিত করতে পারে। উচ্চ মাত্রায় অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন রক্তে শর্করার মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে।
অ্যাসিটামিনোফেনের কারণে শর্করার মান মনিটরে ভুল দেখাতে পারে। কাশি এবং সর্দির ঔষধগুলিতে চিনির
পরিমাণ বেশি, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে তুলতে পারে। এগুলি নেওয়ার আগে ডাক্তার বা ডায়াবেটিস দলের
সাথে যোগাযোগ করুন।
যদি করোনা ভাইরাসের লক্ষণগুলি যেমন শুকনো কাশি, জ্বর, বা শ্বাসকষ্ট প্রকাশ পায় তবে ডাক্তারকে কল
করুন। আপনার রক্তে সবর্শেষ শর্করার মান অন্যান্য রোগের কথা ডাক্তারকে খুলে বলুন।

নিচের লক্ষণগুলো দেখামাত্র রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে

 ক্লান্তি, দুর্বলতা, শরীরে প্রচন্ড ব্যথা
 বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
 পেটের তীব্র ব্যথা
 তীব্র শ্বাসকষ্ট

হাসপাতালে যাওয়ার সময় অবশ্যই রোগীর ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য রোগের কাগজপত্র মনে করে সংগে নিয়ে
যেতে হবে ।

সুস্থ থাকুন নিরাপদ থাকুন ।

ডাঃ বাধন কুমার দাস
এমবিবিএস

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন