আজ ২৬শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১০ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

ফেঁসে যাচ্ছেন ‘সর্বগ্রাসী’ সেই মেম্বার

প্রথমবার্তা, প্রতিবেদকঃ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রজিবপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের শতশত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নেওয়া লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা মিলেছে মেম্বারের বিরুদ্ধে।

 

ফলে ফেঁসে যাচ্ছেন ‘সর্বগ্রাসী মেম্বার’ রইছ। আজ সোমবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদা পারভীন তদন্তে গিয়ে সত্যতা পেয়েছেন।ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মেম্বারের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা মিলেছে। সোমবার দুপুরে তদন্তে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদা পারভীন।

 

জানা যায়, ইউপি সদস্য মো. রইছ উদ্দিন চার গ্রামের গ্রামের মানুষে কাছ থেকে সরকারি সুযোগ সুবিধা পাইয়ে দিতে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বঞ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় কয়েক শ ভুক্তভোগী গত শনিবার নিজ এলাকায় জড়ো হয়ে টাকা উদ্ধার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে।

 

এ নিয়ে প্রথমবার্তাকে  গত শনিবার ‘সর্বগ্রাসী মেম্বার’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ঘটনাটি আমলে নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিতসহ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে তদন্তের দায়িত্ব দেন।

 

তিনি তদন্তে গিয়ে শতশত মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিস্তর অভিযোগ পেয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাব্বিরুল ইসলাম।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রইছ উদ্দিন রামগোবিন্দপুর, রাধাবল্লভপুর, রাম গোবিন্দপুর ও হরিপুর গ্রামের নানা পেশার কয়েক শ মানুষের কাছ থেকে সরকারি ঘর, বিধবা,

 

বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়াও নলকূপ দেওয়ার কথা বলে ৫ হাজার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেন। পরে কোনো কিছুই না দিয়ে বছরের পর বছর ঘুরিয়ে টাকা ফেরত দেননি।

 

উপরুন্ত ওই সব ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকী-ধামকী দিয়ে নানান ধরনের হয়রানি করে আসছে। সুদে টাকা এনে মেম্বারকে দেওয়ার পর সুদের টাকার লাভ দিতে না পেরে অনেকেই ভিটে ছাড়ছে।

 

অন্যদিকে অনেকেকেই ভাতার কার্ড করে দিলেও উপকারভোগীদের হাতে কার্ড নেই্ সেই সব কার্ডের বরাদ্ধের টাকা আত্মসাত করে খাচ্ছেন। এ অবস্থায় কোথাও বিচার না পেয়ে গত শনিবার ওই তিন গ্রামের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে বিচারের দাবি করে বিক্ষোভ করে।

 

পরে গত রবিবার দুপুরে কয়েক শ মানুষের স্বাক্ষর সম্বালত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দাখিল করেন।

 

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাঈদা পরাভীন জানান, তিনি তদন্তে গিয়ে শতভাগ সত্যতা পেয়েছেন। এখন সার্বিক তদন্তের প্রতিবেদন জমা দিবেন।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, খুব দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার বরাবর পাঠানো হবে ওই মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন