আজ ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

মহামারির অবস্থা বেশি খারাপ বিশ্বের কোন্ দেশে

প্রথমবার্তা,প্রতিবেদকঃ সারা বিশ্বে এখনো করোনাভাইরাসের বিস্তার ঘটছে। সেই সঙ্গে মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে।বিশ্বের ১৮৮টি দেশে ৯৮ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে, মারা গেছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।কোন্ দেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু: করোনাভাইরাস, যার ফলে ফুসফুসের সংক্রমণ কোভিড-১৯ ঘটে থাকে, প্রথম শনাক্ত হয় ২০১৯ সালের শেষের দিকে চীনে উহানে।এরপরের কয়েক মাসে সেটা দ্রুত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।কঠোর লকডাউনের কারণে কিছু কিছু দেশে রোগের বিস্তার কমে এলেও অনেক দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলেছে।দক্ষিণ আমেরিকায় রোগটির দ্রুত বিস্তারের কারণে মধ্য মে মাস নাগাদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মন্তব্য করেছিল যে, আমেরিকা মহাদেশ রোগের নতুন কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। তবে আফ্রিকা, এশিয়া আর মধ্যপ্রাচ্যেও রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে।সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রাজিল, মেক্সিকো, ভারত ও পাকিস্তানে সংক্রমণ ও মৃত্যু অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচ লাখ ছাড়িয়েছে।বিশেষ করে ব্রাজিল, পেরু, চিলি, মেক্সিকো ও ইকুয়েডরে কয়েক সপ্তাহ ধরে রোগটির ঊর্ধ্বগতি রয়েছে।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকায় এখনো মহামারির শীর্ষ অবস্থা তৈরি হয়নি।ব্রাজিলে মাসে এখন এক হাজারের বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের পরে বিশ্বে এই দেশেই এখন দশ লাখের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে মারা গেছেন ৫৫ হাজার মানুষ।ভারত ও পাকিস্তানেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে।বাংলাদেশে মোট শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৭৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ১,৬৯৫ জনের।

কোন্ দেশগুলোয় সংক্রমণের ‘দ্বিতীয় ধাপ’ আসছে: এর আগের মহামারিগুলোয় দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ ঘটতে দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রেও সেরকম ঘটবে, কিন্তু দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এখনো পুরোপুরি একমত হতে পারেননি।তবে বেশ কয়েকটি দেশ ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনার পরেও আবার সংক্রমণ বৃদ্ধির ঘটনা দেখতে পেয়েছে। যেমন ইরানে প্রতিদিন আবার ৩০০০ করে রোগী শনাক্ত হচ্ছে। দেশটিতে প্রতিদিন ১০০ জনের মৃত্যু হচ্ছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রেও রোগী শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে।নতুন করে রোগী বেড়ে যাওয়ার কারণে জনসমাগমের স্থানে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আবার কড়াকড়ি আরোপ করেছে পর্তুগাল।চীনের বেইজিংয়ের পাইকারি মার্কেট থেকে ছোট আকারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বলা হলেও, কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

কোন্ দেশে বেশি রোগী: জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি এন্ড মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮ লাখ সাত হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্বে মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ৯৪ হাজার চারশো মানুষের।সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, ২৪ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ। এরপরেই বেশি আক্রান্ত হয়েছে ব্রাজিলে ( ১২ লাখ ৭৪ হাজার নয়শো জন) এবং রাশিয়ায় (৬ লাখ ১৯ হাজার নয়শো জন) বাসিন্দারা।এরপরে রয়েছে ভারত (৫,০৮,৯৫৩ জন), যুক্তরাজ্য (৩,১০৮৩৭), পেরু (২,৭২,৩৬৪)।আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ রয়েছে ১৭ নম্বরে।তবে ধারণা করা হয়, বিশ্বব্যাপী মোট আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ অনেক মানুষের লক্ষণ খুব সামান্য দেখা যায় এবং অনেকের পরীক্ষা হয় না, ফলে হিসাবেও আসেন না।

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন