আজ ৩০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, ১৪ই জুলাই, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ

সিনেমার বিকল্প কেবল সিনেমাই

প্রথমবার্তা প্রতিবেদকঃ অর্ধযুগ কাটিয়ে দিয়েছি এই এক চর্চার মধ্যে। এখন আর বিকল্প কিছু ভাবছি না। সিনেমার বিকল্প কেবল সিনেমাই। চলচ্চিত্রে কাজ করতে এসে আর কিছু নাহোক অন্তত এটা খুঁজে পেয়েছি যে এখানে এক কাজের ভিতরেই আছে সীমাহীন বৈচিত্র।একটু পরিস্কার করে বললে চলচ্চিত্র নির্মাণের নেপথ্যে একজন নির্মাতাকে কখোনও লেখক হতে হয়, কখোনো নকশাকার হতে হয়, কখোনে হতে হয় প্রেমিক, কখনো শ্রমিক, কখোনো অভিনেতা, ক্ষেত্র বিশেষে প্রতিবাদী কিংবা যোদ্ধা।আমার মতে জীবনটা যাপন করবার বিষয়। কোন মত বেঁচে থাকা আসলে জীবন নয়।

রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতা গুলোই এই যাপনের স্বাদ বুঝিয়ে দেয় প্রতি মুহুর্তে। চলচ্চিত্র এমন একটা কর্মক্ষেত্র যা তার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকটা মানুষকে কে আঁষ্ঠে-পৃষ্ঠে বেধে রাখে আর তিলে তিলে জীবনের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ করে দেয়।এই শিল্প মাধ্যমে কাজ করতে এসে কেউ হয়ত প্রতিষ্ঠা পায় , অনেক নাম, জস, খ্যাতি অর্জন করে ; আবার কারো নাম হয়ত কোথাও উচ্চারিত হয় না । কিন্তু শিল্পী জীবন যাপনের স্বাদ থেকে কেউ বিন্দুমাত্র বঞ্চিত হয় না। চলচ্চিত্র আপন মহিমায় তার প্রত্যেকজন ধারক এবং বাহক কে সমান আলোয় প্রজ্জ্বলিত করে ভেতরে বাহিরে । তার ভেতরের স্বাধীন স্বত্তাকে জাগ্রত হতে দেয় নির্দ্বিধায়।হতে পারে আমাদের চলচ্চিত্রের বাজারে নানা ধরনের সমস্যা বিদ্যমান কিন্তু শিল্প হিসেবে চলচ্চিত্র সকল সমস্যার আওতা মুক্ত।অর্থ, বিত্ত, নাম, জশ এসব নিয়ে যে ভাবিনি তা না। শুরুতে এসবই ভাবনা ছিলো তবে আমার যাপিত জিবন থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতা এখন আর সেসবের তোয়াক্কা করে না। ভালোবেসেই এই পেশায় নিজেকে ডুবিয়ে দিয়েছি। কি পাবো কি হারাবো এটা ভাবার থেকে বেশি জরুরী হলো সর্বাবস্থায় এই জীবন যাপন করে যেতে পারা।প্রয়োজনে লিখবো, নকশাকার হবো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করবো।ঘোরতর বিজ্ঞানের ছাত্র বলে অনেকেই আমাকে বলে, আমি ভুল রাস্তায় হাটছি। তবে আমার ধারণা ভিন্ন। আমি বিজ্ঞান পড়েছি জীবনের প্রয়োজনে আর চলচ্চিত্রের চর্চায় এসেছিও ঠিক একই কারণে। শিল্প হল সব ধরনের বিধিনিষেধের বাইরের একটা বিষয় তাই আমার বিজ্ঞান পড়া আমার কাজের বাধা হয়ে দাড়ায়নি কখনো । আমি প্রতি মুহুর্তে উপলব্ধি করি চলচ্চিত্র এক আধুনিকতর বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানের আশ্চর্যতম এক আবিষ্কার । এর সাথে সম্পৃক্ত হয়ে কাটিয়ে দিয়েছি অর্ধযুগ।

মহামারী এসেছে, একদিন এর সমাধানও হবে। তাই বলে চাপের মুখে সিনেমা থেকে সরে যাবো এমন হবার কোন সম্ভাবনা নেই। জীবন মানেই টিকে থাকার লড়াই। বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্যে নিজেকে সমুন্নত রাখা এবং শেষ অব্দি চেষ্টা করে যাওয়াই ব্রত। জমি-জমা, বংশের বাতি এসব রেখে যাবার বাসনা আমাকে ত্বারিত করে না। আমি রেখে যাতে চাই কিছু কাজ, কিছু ছবি, কিছু বই ; হোক তা সংখ্যায় কম। আর নিয়ে যেতে চাই অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা।মৃত্যুকে ভয় পাই না। কেননা, একে উপেক্ষা করবার কোন পথ নেই। ভয় পাই হেরে যাওয়াকে।

লেখনীতে,

আহমেদ সাব্বির
লেখক, চলচ্চিত্র নির্মাতা

এই পোস্টটি আমাদের সোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন