প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: খালি স্ট্যাপে সই নেন সুদ কারবারি লিটন শিকদার, পরে ওই কৃষকের ২ বিঘা জমি দখল করেন বলে অভিযোগ উঠেছে বছর তিনেক আগের কথা। কৃষি জমিতে চাষের জন্য এক সুদ কারবারির কাছ থেকে সুদে পাঁচ হাজার টাকা নিয়েছিলেন তিনি।

 

তিন বছর পরে সেই সুদে আনা পাঁচ হাজার টাকা সুদে-আসলে পাঁচ লাখ হয়েছে দাবি করে ওই কৃষকের দুই বিঘা জমি দখল করেছেন ওই সুদ কারবারি।

 

এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছেন হতভাগা কৃষক। এ ঘটনায় ওই সুদ কারবারিকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

 

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায়। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি আমগাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই কৃষকের মরদেহ পাওয়া যায়।

 

মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির নাম বাবুল মল্লিক (৪৫)। তিনি মাদারীপুর ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের চিত্তর মোড় এলাকার রসরাজ মল্লিকের ছেলে। পরিবারে তার স্ত্রী, ১৫ বছর বয়সী এক ছেলে ও তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।

 

এ ঘটনায় বাবুল মল্লিকের পরিবার থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাবুল মল্লিক কৃষিকাজ করে পরিবারের ভরণ-পোষণ জোগাতেন।

 

বছর তিনেক আগে উপজেলার একই ইউনিয়নের হাকাই শিকদারের ছেলে লিটন শিকদারের (৩৫) কাছ থেকে একটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে তিনি সুদ প্রদানের শর্তে পাঁচ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন।

 

বাবুল গরীব কৃষক হওয়ায় তিন বছরে সেই সুদের টাকা নিয়মিতভাবে পরিশোধ করতে পারেননি। এ জন্য বাবুলকে নিদারুণ চাপে রেখেছিলেন লিটন শিকদার।

 

টাকা না পেয়ে সম্প্রতি সেই খালি স্ট্যাম্পে পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় পাঁচ লাখ টাকা বসিয়ে বাবুল মল্লিকের দুই বিঘা কৃষিজমি দখল করেন সুদ কারবারি লিটন।

 

এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বাবুল। পরে শুক্রবার ভোররাতে নিজ বাড়ির পাশে থাকা একটি আমগাছের ডালের সাথে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই কৃষক।

 

বাবুল মল্লিকের স্ত্রী বুলবুলি মল্লিক বলেন, অভাবে পড়ে লিটন শিকদারের থেকে টাকা সুদে নিছিল আমার স্বামী। আমরা গরীব হওয়ার সুদে আনা সেই পাঁচ হাজার টাকা দিতে পারি নাই।

 

কিন্তু সে পাঁচ হাজার টাকার জায়গায় পাঁচ লাখ বসাইয়া আমাদের দুই বিঘা জমি দখল করছে। এটা দেখে আমার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে আত্মহত্যা করছে। আমরা লিটন শিকদারের বিচার চাই।

 

এ ঘটনায় পর পরই এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন অভিযুক্ত লিটন শিকদার। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

নবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান দুলাল তালুকদার বলেন, সকালে আমি বিষয়টি জানতে পেরেছি। তবে কী কারণে সে মারা গেছে এখনো জানতে পারিনি। তার পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে প্রশাসনের সাহায্য নিতে বলেছি।

 

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছি। ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।