প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মিরপুর শেরেবাংলায় বাংলাদেশ বনাম ভারতের তৃতীয় ওয়ানডে শেষ হওয়ার তিন দিন পর হারমানপ্রীত কৌরের শাস্তি ঘোষণা করল আইসিসি। আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, ভিন্ন অপরাধে হারমানপ্রীতকে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ম্যাচ ফির ৭৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

গত শনিবারের ম্যাচে বাংলাদেশের দেওয়া ২২৬ রানের টার্গেট তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে নাহিদা আক্তারের বলে ক্যাচ আউটের সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি হারমানপ্রীত। তিনি প্রথমে ব্যাটে থাবা মারেন, পরে ব্যাট দিয়ে স্টাম্প ভেঙে আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে বলতে মাঠ ছাড়েন।

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ ও বাজে আচরণের কারণে তার ওপর ‘লেভেল ২’ আইন ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। এর প্রেক্ষিতে হারমানপ্রীতকে ম্যাচ ফির ৫০ শতাংশ জরিমানা ও তিনটি ডিমেরিট পয়েন্ট দেওয়া হয়।

 

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত টাই হয়েছিল। ম্যাচ শেষেও কমেনি হারমানপ্রীতের রাগ।

দর্শকদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকরভাবে থাম্বস আপ দেখান। পুরস্কার বিতরণীতে সরাসরিই আম্পায়ারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ ছাড়া ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনের সময় আম্পায়ার এবং বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের উদ্দেশে কটূক্তি করতেও ছাড়েননি! তাই ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনায় ঢালাওভাবে সমালোচনা’ করায় তার ম্যাচ ফির আরো ২৫ শতাংশ কাটা হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরো একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।

দুটি অপরাধে মোট চারটি ডিমেরিট পয়েন্ট পাওয়ায় হারমানপ্রীত একটি টেস্ট, দুটি ওয়ানডে বা দুটি টি-টোয়েন্টির মধ্যে যে ম্যাচগুলো আগে আসবে, সেগুলো খেলতে পারবেন না। দুই ফিল্ড আম্পায়ার তানভির আহমেদ ও মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, টিভি আম্পায়ার মনিরুজ্জামানের অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাচ রেফারি আখতার আহমেদ এই সাজা ঘোষণা করেন। হারমানপ্রীত নিজের অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নেওয়ায় আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে ‘লেভেল ২’ আইন ভঙ্গ করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন হারমানপ্রীত। এর আগে ২০১৭ সালের বিশ্বকাপে মাঠে হেলমেট ছুড়ে মেরে তিনি ‘লেভেল ১’ অপরাধের শাস্তি পেয়েছিলেন।

এবার তিনি বাংলাদেশে যে কাণ্ড করলেন, তাতে ভারতীয় ক্রিকেটের দুর্নাম হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মদন লাল। তিনিসহ ভারতের বেশ কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার হারমানপ্রীতের সমালোচনা করেছেন এবং কঠোর শাস্তি চেয়েছেন।