প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক: মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণা করে ‘একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা’ শিরোনামে প্রবন্ধ লিখেছিলেন কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক। প্রবন্ধটিতে হাসান আজিজুল হক তুলে ধরেছিলেন একাত্তরের বিভীষিকাময় দিনগুলোর কথা। তাঁর সেই প্রবন্ধ অবলম্বনে তৈরি হচ্ছে সিনেমা। ২০২১-২২ অর্থবছরের সরকারি অনুদানে সিনেমাটি নির্মাণ করছেন রফিকুল আনোয়ার রাসেল। এটি নির্মাতার প্রথম চলচ্চিত্র।

একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা সিনেমাটির প্রধান চরিত্রে রয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর। ৮২ বছরের শিক্ষক নাজমুল হকের ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময়ের স্মৃতিচারণার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে গল্প।

সিনেমাটি নিয়ে নির্মাতা রফিকুল আনোয়ার রাসেল বলেন, ‘একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা বইটি মূলত হাসান আজিজুল হকের স্মৃতিচারণা, যেটা প্রবন্ধ আকারে প্রকাশিত হয়েছিল। সেটা থেকেই চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে। গল্পটা সাত ভাগে ভাগ করা। একজন শিক্ষকের জার্নির মধ্য দিয়ে এ গল্পগুলো তুলে ধরা হবে। সিনেমার প্রয়োজনে কিছু ফিকশনাল এলিম্যান্ট যোগ করা হয়েছে। কিছু চরিত্রও যোগ হয়েছে। এ কারণে সিনেমায় হাসান আজিজুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে, ইতিহাস ও গল্পের বাকি চরিত্রগুলোর নাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি সে সময়টাকে যেভাবে বর্ণনা করেছেন সেভাবেই পর্দায় দেখা যাবে।’

নির্মাতা আরও বলেন, ‘প্রথম থেকেই চাইছিলাম বড় আয়োজন করে সিনেমাটি নির্মাণ করব। একটু দেরি হলেও সেভাবেই শুরু করতে যাচ্ছি আমরা। নির্বাহী ইউনিট যেমন বড়, তেমনি অভিনয়শিল্পীর সংখ্যাও অনেক। মুখ্য চরিত্রে থাকছেন ৪৫ জন অভিনয়শিল্পী। এ ছাড়া সহশিল্পী ও অন্য কলাকুশলীসহ পুরো সিনেমায় থাকছে ৫৫০ জনের বেশি শিল্পীর একটি বিশাল তালিকা।’

সরাসরি যুদ্ধ নয়, সিনেমায় মূলত দেখানো হবে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের নির্যাতনের নৃশংসতা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে একটি পরিবারের কঠিন সংগ্রামের পাশাপাশি পাকিস্তানিরা বাঙালিদের ওপর যে বর্বরতা চালিয়েছিল, তা-ই ফুটে উঠবে সিনেমায়। ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ঘটনা শুরু হয়ে শেষ হবে ১৬ ডিসেম্বরের বিজয়ের মধ্য দিয়ে।

যুদ্ধ চলাকালীন নাজমুল হকের যৌবন বয়সের চরিত্রে অভিনয় করবেন ইমতিয়াজ বর্ষণ। এ ছাড়া তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে রয়েছেন নাজিবা বাশার ও বড় বোনের চরিত্রে সুষমা সরকার। প্রযোজনা ও পরিচালনার পাশাপাশি সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখেছেন রফিকুল আনোয়ার।

একাত্তর: করতলে ছিন্নমাথা সিনেমার শুটিং শুরু হবে ১১ সেপ্টেম্বর থেকে। ঢাকার ইস্কাটনে অভিনেতা ও প্রযোজক ইরেশ যাকেরের নানাবাড়ি অর্থাৎ অভিনেত্রী সারা যাকেরের বাবার বাড়ি থেকে ওপেন হবে ক্যামেরা। তারপর কেন্দ্রীয় কারাগার, মানিকগঞ্জ হয়ে চট্টগ্রামে গিয়ে শুটিং শেষ করবেন নির্মাতা।
রফিকুল আনোয়ার জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই শুটিং হবে সিনেমাটির। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে শুটিং সম্পন্ন করার আশা করছেন তিনি। আগামী বছর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দিতে চান নির্মাতা।